ভালোবাসা দিবসের আনন্দ ভালোলাগার রেশ না কাটতেই সবুজে সবুজে চার পাপড়ির পাতায় পাতায় এসে যায় ‘সেন্ট প্যাট্রিক ডে’। সবুজ পোশাক, সবুজ খাবার, সবুজ পানিও। বাড়ি ঘর সব যেন সবুজ করে ফেলতে পারলে ভালোলাগে।আইরিস ধর্মিয় উৎসব সেন্ট পেট্রিক। চর্তুদশ শতাব্দি থেকে পালিত হচ্ছে।
ইতমধ্যে মার্চের মাঝা মাঝি সময়ে সরকারি ভাবে ঘোষনা করা হয় বসন্ত আসার । মার্চে পালিত হয় বসন্ত উৎসব। হলুদ রঙ বসন্তদিন অনেক সময় ডুবে থাকে সাদা বরফের চাদরে। র্মাচ কেটে যায় মোটামুটি এভাবেই। দিন গড়াতে থাকে এপ্রিলের দিকে শোনা যায় নীড়ে ফিরে আসা দক্ষিনের পাখির কাকলী। নিরব নিথর প্রকৃতি আড়মোড়া ভেঙ্গে যায় মুখরতার দিকে।
১৭ র্মাচে ‘সেন্ট পেট্রিক ডে’ পার হলে প্রস্তুতি শুরু হয় ঈস্টার উজ্জাপনের এপ্রিলে। গোল গোল চকলেট, ডিম চকলেট আর খাড়া কানের চকলেট খরগোস-যাকে বলা হয় ঈস্টার বানি, ঘর ভর্তি হতে থাকে এসবে। লুকিয়ে রাখা চকলেট খুঁজতে ব্যস্ত বাচ্চারা। হালকা নীল আর গোলাপীতে বাধা হয়েছে ঈস্টার। জিসাসের লাস্ট সাপারের দিনের সাথে চকলেট আর বানির কি সম্পর্ক ধারনা করতে পারি না। তবু পালিত হয় মহা ধুমধামে। ব্যবসায়িদের পকেট মোটা করে আমরাও কিনি চকলেট।এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের লং উইকএন্ড। গুড ফ্রাইডে, ইস্টার সান ডের ছুটিতে মুখরিত হয় বসন্ত সময়।
এপ্রিলে শুরু হয় খটখটে শুকনো ডালে পাতার বদলে, ফুল গজানো দিয়ে। বরফ ঢাকা হলদে হয়ে যাওয়া ঘাসে লাগে সবুজের ছোঁয়া। হলুদ ঘাসের ফুলে ছেয়ে যায় মাঠ। পাতাহীন গাছ শুধুই ফুলে ফুলে ঢেকে যায়, ভূঁই ফুঁড়ে জেগে উঠে ফুল হলুদ, বেগুনী, গোলাপী নানান বর্ণের এসময়। এপ্রিলের শেষে টিউলিপ ফেস্টিভেল হয় ক্যানাডার রাজধানী ওটোয়াতে।
ন্যাদারলেন্ডের ডিউকের কন্যা দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ে ক্যানাডায় জন্ম নিলে, ন্যাদারলেন্ড থেকে উপহার সরূপ আসে টিউলিপ ক্যানাডায়। এখন মাঠ ভর্তি নানান রঙের টিউলিপ হাসে কানাডায়। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে মের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে জাপানী ফুল চেরী ফোটে খুব স্বল্প সময়ের জন্য। লেইকের পাশে বড় বড় গাছেরসারি, শীতের শেষে পাতা ছাড়ার আগে সাদা, ঈষ্ণত গোলাপী ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় গাছগুলো আর উৎসব মুখর হয়ে উঠে হাইপার্ক এলাকা চেরী ফুল সন্ধানীদের পদচারণায়। এ সময়ে প্রার্থনার সুরে গাওয়া হয় বৃষ্টির গান, ‘‘এপ্রিল সাওয়ার ব্রিং মে ফ্লাওয়ার’’।
টেরিফক্স ডে। ক্যান্সারে আক্রান্ত যে বালক অদম্য সাহসে কাঠের পায়ে হেঁটে পারি দিয়ে ছিল ক্যানাডার পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিম পর্যন্ত। ফুরিয়ে যাওয়ার আগে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গিয়েছিল ইচ্ছা থাকলে অনেক কিছু করা যায় জীবনে অল্প আয়ু জীবনি শক্তি নিয়েও। সংগ্রহ করে ছিল ক্যানসার রির্সাসের জন্য ডলার। সেই সুত্রধরে আজো স্কুলের ছেলে মেয়েরা সপ্তাহ ব্যাপী হাঁটে সংগ্রহ করে ডলার ক্যানাডা ব্যাপী ক্যানসারের রির্সাসের জন্য।
টেরিফক্স ২৮ জুলাই ১৯৫৮ সনে জন্ম গ্রহণ করে ক্যানাডার মেনিটভা প্রভিন্সের উইনিপ্যাগ শহরে। স্কুলে পড়ার সময় সে বাস্কেটবল, রাগবী, সোকার খেলায় আগ্রহি ছিল। টুয়েলভ গ্রেডে স্রেষ্ট এ্যাথলেটের এওর্য়াড পায়। বাস্কেটবলে আগ্রহী টেরী খেলার প্রশিক্ষক হওয়ার জন্য সিমন ফারসেয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া লেখা করে। কিন্তু ছিয়াত্তর সনে এক গাড়ী র্দূঘটনায় আঘাত প্রাপ্তির ফলে আগে থেকে ওর পায়ের র্দূবল হাড্ডির ডান পায়ে ক্যানসার ধরা পরে। যার ফলশ্রোতিতে কেটে বাদ দিতে হয় ওর ডান পাটি পরের বছর।
আর্টিফিসিয়াল পায়ে ম্যারাথন রেসের পরিকল্পনা করে টেরিফক্স । প্রতিটি ক্যানেডিয়ানের কাছ থেকে একটি ডলার ডোনেসন পেলে মিলিয়ন ডলার পাওয়া যাবে ক্যানসার রির্সাসের জন্য। ডলার সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে বারো এপ্রিল ১৯৮০ সেন্ট জন নিউফাউল্যান্ড থেকে টেরি যাত্রা শুরু করে। ইচ্ছা দৌড় শেষ হবে ব্রিটিস কলম্বিয়ার ভিক্টরিয়ায়। ঝড়, বৃষ্টি, দমকা হওয়া উপেক্ষা করে সে হেঁটে যায় কাঠের পায়ের খটখট শব্দ তুলে, থামেনি বাইশ বছরের জন্মদিন দিনটিতেও। ১২৪ দিন পর জোড় করে ওকে থামানো হয় ৫২৮০ কিলোমিটার যাওয়ার পর ওন্টারিয়র থান্ডার বে শহরে, শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ হওয়ার জন্য। তেইশ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল টেরিফক্স ক্যানসার সোসাইটির জন্য।
ওর কাঠের পায়ের খটখট আওয়াজের সাথে বেড়িয়ে আসত মানুষ ঘর থেকে, খেতে দিত থাকতে দিত, উৎসাহ দিত হাঁটত ওর সাথে আন্তরিকতায়। সারিবদ্ধ মানুষ দাঁড়িয়ে থাকত রাস্তায় ওর আগমন অপেক্ষায়। আজো সে কথা মনে করে গভীর মমতায়, ভালোবাসায়। টেরি ফক্স ন্যাশনাল হিরোর সম্মানে ভূষিত আঠাইশে জুন ১৯৮১ অদম্য মনবলের এই বীরের মৃত্যু হলে সারা ক্যনাডায় পতাকা অর্ধনমিত করে জাতীয় বীর কে সম্মান জানান হয়। পৃথিবীর অনেকগুলো দেশ এখন টেরিফক্সের ম্যারাথন পদ্ধতি অনুকরনে ডোনেসন সংগ্রহ করছে ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১০:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




