somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

বর্ণ ধর্ম মানুষ

০৬ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি দাঁড়িয়ে আছি লেইক ইরির উত্তর প্রান্তে, দক্ষিণ প্রান্তে দেশটি আমেরিকা । লেইক ইরির মাঝ বরাবর দুদেশকে ভাগ করা হয়েছে। অন্যান্য বিশাল লেইক গুলোর মতন বিস্তির্ণ নয় ইরি অনেকটাই নদীর মতন বয়ে চলেছে সুপেয় জলের ধারায়। বিশেষ বৈশিষ্ট এর জলে মাছের বসবাস।
আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেখান থেকে চোখের আঙ্গিনায় সুষ্পষ্ট ওপারে ডেট্রয় শহরের সুদৃশ্য দালান গুলি ।
ক্যামেরার লেন্স জুম করে হাতের ছোঁয়ার মাঝে নিয়ে আসা যাচ্ছে অন্য দেশের সব ঘর বাড়ি। দেখা যাচ্ছে ঘরের ভেতর মানুষের চলাচল। জলের মাঝে সাঁতার কাটছে মাছ, অনায়াসে করছে এপার ওপার। জলের উপর বাতাসে উড়ছে পাখি উড়ে যাচ্ছে ইচ্ছা মতন দেশ থেকে ওদেশ। নাহ্ কোন বাধা নিষেধের বালাই নেই ওদের জন্য শুধু মানুষের জন্য সব বাঁধা নিষেধ। আনন্দ করার জন্যও যারা ভাসছে জলে নিজস্ব নৌকায়। ভুল করেও যদি সীমানা লঙ্ঘন করে ফেলে তবে তাদের দিতে হবে তার খেসারত। মানুষের জন্য যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল। জন্ম সুত্রে মানুষ হয়ে যায় পরিবার, বর্ণ, ধর্ম, দেশ ও জাতীর মানুষ। কোথায় কিভাবে জন্ম নিবে কোন মানুষ কেউ কী জনে? নিজের জন্ম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না মানুষ অথচ জন্মের বড়াই এত বড় হয়ে উঠে কেন তাদের কাছে? ধনীর ঘরে জন্মেছে বলে গরীবকে মানুষ না ভাবা।ইংলেন্ডের মানুষ সাদা চামড়ার বড়াই করে এক সময় আর সব মানুষকে তুচ্ছো তাচ্ছিল্য করে গেছে। সারা পৃথিবীর মানুষের উপর করেছে অমানবিক অত্যাচার। তারা যদি আফ্রিকায় কালো বর্ণ নিয়ে জন্ম নিতো তা হলে কী হতো? আমেরিকানরা আফগানীস্থানে!
কতজন মানুষ নিজে ভেবে চিন্তে পরিবর্তন করেছেন ধর্ম? গ্রহণ করেছেন নিজের ধর্ম? ইহুদী খৃস্টান, হিন্দু মুসলিম, জৈন বৌদ্ধ, আরো যত গোত্র বর্ণ সবই তো প্রতিটি মানুষের নিজেদের জন্ম সূত্রে পাওয়া। ব্রাক্ষ্মণ যদি ডোমের ঘরে জন্ম নিত বা ইহুদী যদি মুসলিম ঘরে জন্ম নিত, ক্যাথলিক হিন্দু হয়ে জন্ম নিত তাহলে তারা কী একই রকম আচরণ করতো না?

মানুষ আগে না ধর্ম আগে? জীবন আগে না নিয়ম আগে? ধর্মের বড়াই নিয়ে মারা মরি, কে দিয়েছে সে অধিকার? হিটলারের অমানবিকতা ইহুদীদের উপর, বর্বর অত্যাচার এখনো শিউরে উঠে স্মরণ করে সেই সময়ে অত্যাচারিত মানুষ। আপন মাটি থেকে উচ্ছেদ করে নিয়ে আসা কালো মানুষ, গরু ছাগল ভেড়ার মতন বিক্রি হলো অন্যদেশে, পরিণত করতে চাইল অন্যদের হুকুমের রোবট। ক্ষেতি জমি আবাদের জন্য তুলে আনা হলো ভারতের লোক মুনুষ্য বিহীন দ্বীপে। বদলে দিয়েছে মানুষের জীবন যাপন যুগে যুগে শক্তিমানের হাত। শক্তিমানের হুকুমে জীবন দিয়েছে লাখ লাখ সৈনিক। এখন তারা ভাবে কেন তখন যুদ্ধ করে ছিলাম। অথচ এখনও যারা যুদ্ধ, মারামারি করে যাচ্ছে তারা নিজেরা কী একবারের তরেও ভাবে কেন এই যুদ্ধ, নিরিহ মানুষ মারা? প্রতিটি মানুষ এই পৃথিবীর মানুষ সবার অধিকার এই পৃথিবীর উপর সমান।







সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৩ দুপুর ২:০৮
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×