somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

বনি প্রিন্স

৩০ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২৯ এ মার্চ রুমীর জন্মদিন। রুমীর কথা আমার খুব মনে হয়। আমার বুকের মাঝে কেমন করে উঠে। আমার অনেক কথা জানতে ইচ্ছা করে । কেমন করে ওর বুকে এতটা সাহস জন্ম নিয়ে ছিল এতটুকু বয়সে? আই,এস,সি পাস করে কেবল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয়েছে আবার আমেরিকার ইলিয়ন ইন্সিটিটিইট অব টেকনোলজিতেও এডমিশন হয়ে গেছে আগষ্টের শেষ সপ্তাহে সেখানে উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে যাবার কথা। অথচ ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে ছাত্রজীবনে লেখাপড়ার চিরকালীন সত্যটা মিথ্যা হয়ে গেছে। অনুভব করেছিল রুমী, ছাত্র হিসাবে পড়ালেখা করার স্বাভাবিক অবস্থা তখন ছিলনা। পড়ালেখার চেয়ে দেশের প্রয়োজনে রুখে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশী। মায়ের ইচ্ছায় ঐ সময়ে বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা করে বড় ইঞ্জিনিয়ার হলেও নিজের কাছে অপরাধী হয়ে থাকবে চিরকালের মত। বিবেকের ভ্রুকুটির সামনে কোনদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেনা। বির্তক প্রতিযোগীতার উজ্জ্বল তারকা রুমী মাকে যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিল সেই মূহুর্তে যুদ্ধে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা। আর পাঁচ মাস পর যখন ওর আমেরিকায় উড়ে যাওয়ার কথাছিল উচ্চশিক্ষার জন্য। সেই সময় জন্মদিনের একই তারিখে উনত্রিশে আগষ্ট, দুঃসাহসি গেরিলা রুমী ধরা পড়ে পাকিস্থানি মিলিটারির হাতে। দেশের জন্য যুদ্ধে যাওয়ার অপরাধে বর্বর,অমানবিক নিষ্ঠুর, অবিশ্বাস্য নির্যাতনে হারিয়ে যায় রুমী চিরদিনের জন্য কোনদিন আর ফিরে আসেনি। রুমী জীবন উৎসর্গ করে চলে যায় সারা জীবনের জন্য এ পৃথিবী ছেড়ে, প্রাণ প্রিয় দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই।
কেমন করে ও চলে গেলো, কতটা যন্ত্রনা নিপীড়ন বয়ে, এক উজ্জ্বল সম্ভাবনার জীবন শুরুর সময়? কীভাবে ধরে রেখেছিল ওর অসম্ভব নিষ্ঠা মাতৃভূমির প্রতি অসম্ভব অঙ্গিকার, ভয়ানক র্নিযাতনের মাঝে?
রুমীকে আমি কোন দিন দেখিনি কিন্তু ও আমার বুকের মাঝে বাসা বেঁেধ আছে যন্ত্রনার এক দুঃসহ ব্যথা হয়ে। সাহসের এক জ্বলজ্বলে ইতিহাস হয়ে, অসাধারন এক ছোট গল্প হয়ে।
রুমী ওর মায়ের ’বনি প্রিন্স”যার জন্মদিন প্রতিটি বাংলাদেশীর স্মরণ করা উচিৎ আমি মনে করি। অথচ আমাদের সেই সাহসী বীরদের আমরা ক’জন মনে করি? ক’জনের নাম, ক’জনের কথা আমরা জানি এখনো এই স্বাধীনতার এত্তগুলো বছর পর? যাদের প্রাণের বিনিময়ে পেয়েছি আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ। কী অত্যাচার কী দুঃসহ নিপীড়ন সহ্য করে দেশের জন্য উৎসর্গ করে গেছে তারা প্রাণ। আজ স্বাধীন বাংলাদেশে বসে আমরা ক’জন মনে করি তাদের ত্যাগ আর তিতীক্ষার কথা?
রুমীর মা বাংলাদেশের জননী, জাহানারা ইমাম। উনার সাথে আমি পরিচিত হই যখন আমার ছেলের বয়স দুই। অসম্ভব আদরে ভালোবাসায় জড়িয়ে রাখতেন সেই ছোট্ট ছেলেটাকে। মনে হয় নিজের বনি প্রিন্সের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যেত উনার। আমি তখন তার বনি প্রিন্সের হারিয়ে যাওয়ার কথা জেনে গেছি তার সেই বিখ্যাত দুঃসময়ের ব্যাথা ভরা প্রতিদিনের দিনলিপি, ’’একাত্তরের দিনগুলি’’ পড়ে। অবাক চোখে যন্ত্রনায় র্জজরিত রমনীকে দেখতাম। কতটা শক্তি কতটা ধৈর্য থাকলে এতগুলো বছর, তরতাজা উজ্জ্বল যুবক- প্রাণপ্রিয় সন্তানের হৃদয় বিদারক মৃত্যু যন্ত্রনার কষ্ট বুকে ধারণ করেও মাথা উঁচু করে চলছেন। গলায় ক্যানসারের মতন র্দূবিসহ দূরাগ্যে ব্যাধির ভার বয়েও কথা বলে যেতেন। রাজাকারদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে বেগবান করে তুলেছিলেন। কোটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন স্তিমিত হয়ে যাওয়া রাজাকারদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম। সরকারীভাবে যখন সহায়তা করা হচ্ছিল এইসব দেশ বিরোধী হামর্দদের প্রতিষ্ঠিত করার। অশিক্ষিত মানুষ যখন কিছুই না জেনে, না বুঝে এইসব রাজাকারদের ইসলামি কথাবার্তায় ধোঁকা খাচ্ছিল। এক মায়ের সন্তান হারানোর ব্যাথা তখন বাঁধ মানেনি। বাংলাদেশের ঘরে ঘরে স্বাধীনতা যুদ্ধ সময়ে সন্তান,স্বামী, ভাই, বোন হারানোর ব্যাথায়, র্নিযাতিত মানুষের কষ্ট গুমরে কাঁদছে- র্জজরিত সকলের শক্তিশালী উচ্চারণ নাই। কষ্ট ক্লিষ্ট মানুষ সব এক সাথে সমবেত হয় জাহানারা ইমামের রাজাকার বিরোধী আন্দোলনে। মানুষ সায় দেয় তাকে কারণ তিনি তাদেরই কষ্টকথা বলছেন, তিনি বাংলাদেশের পক্ষের মানুষের কথা বলেছেন, র্নিযাতিত,দুঃখি মানুষের দুঃখ এক সাথে সমবেত করেছেন।
অসুস্থ শরীরে ছুটে ছুটে যেতেন মিছিলে, আন্দোলনে, জন সম্মেলনে। অথচ সুস্থ স্বাভাবিক মানুষগুলো যদি দেশের সুস্থ সুন্দরের চিন্তায় হাতে হাত ধরে হাঁটত। অন্যায়ের প্রতিবাদ করত আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের মতন । আরেকটি সত্য সুন্দর ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য। প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার সঠিক মর্যাদার জন্য যাদের রক্তের ধারায় আজ সবাই স্বাধীন দেশে,নিজেস্ব জাতি স্বত্তায় মাথা তুলে চলতে পারছে যদি বুঝতে পারত তাদের জীবনের মূল্য। যদি বুঝতে পারত ভুল গুলো। বেইমান রাজাকারদের তালিকা তবে আজ প্রতিটি গ্রামের মানুষ বাংলার প্রতিটি গ্রামে করে ফেলত। প্রতিটি গ্রামে থাকত মুক্তিযোদ্ধার নামের ফলক উজ্জ্বল হয়ে। প্রতিটি মানুষ চিহ্নিত সেই রাজাকারদের বয়কট করত। আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম বিভ্রান্তিতে পরত না রাজাকার আর মুক্তিযোদ্ধার নামে। শুভ জন্মদিন রুমী। শুভ জন্মদিন প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার জন্য।

৮টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×