somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

পেরিয়ে যাই মরীচিকার আহ্বানে

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আহ্! তুষারপাত শুরু হলো, দ্রুত শুভ্রতায় ভরে উঠছে চারপাশ। ছোট ছোট বলের ঝরে পরা প্রথম বরফপাতে ভিজে আমি তুলছি প্রিয় নীলাভ- বেগুনি  ল্যাভেন্ডার । এখনও ওরা সতেজ ফুটিয়ে চলছে ফুল অবিরাম, শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে। আমার খুব মন খারাপ হয়ে যায়, জানি না কি ভাবে বাঁচাব ওদের এই শীতে। প্রচণ্ড শৈত্য প্রবাহে তুলতুলে নরম হয়ে ঝরে যাবে । কালো হয়ে যাবে পাতা। বসন্তে মাথা তুলে জাগবেনা হয়তো বা আবার। হাসবে না মন ভুলানো রঙের হাসি আর অপূর্ব সৌরভে জড়িয়ে রাখবে না আমাকে।এক পথ পারি দেয়ার ভাবনা ঋতু বদলের সাথে,ভাবছি বসন্ত আসার। আর সাথে একটা অনুভুতি জাগছে, যেন একটা ব্রীজের এ পাড়ে দাঁড়িয়ে ওপারে যাওয়ার ভাবনা ভাবছি। এপার আর ওপারের মাঝে কতটা ব্যবধান? এক বার দাঁড়িয়ে ছিলাম মিসিগানে সামনে বয়ে যাচ্ছিল সেন্টক্লেয়ার নদী। ওপারে সার্নিয়া, কানাডার একটি শহর দেখা যাচ্ছে ব্লুরিভার ব্রীজটি যেখানে মিলিয়েছে দুইটি দেশকে। মনে হয়েছিল কখনও কি দেখা যাবে ওপারের ওই শহর। কি আছে সেখানে, কেমন জীবন যাপন।  নীল নদীর পুল পেরিয়ে যাওয়া হবে কি অন্যপাড়ে কখনও? জীবন বড় অদ্ভুত একবার সুযোগ করে দিল সেই শহরে যাওয়ার।পীস ব্রীজ বা শান্তি সেতুপেরিয়ে। বড় বড় ব্রীজ তার উপর দিয়ে ব্ড় বড় লরি, ট্রাক পেরিয়ে যাচ্ছে, অনেক রকম পণ্য নিয়ে। এপার ওপারের জীবন যাত্রায় অনেক পার্থক্য, এপারে যেমন শান্ত নিরবতা ওপারে তেমন ব্যস্ত নাগরিক জীবন।  দুই দেশের পতাকা উড়ছে পাশাপাশি আমেরিকা কানাডার।
রাতের ঘন অন্ধকারে শুয়েছিলাম এক ঘন বনের ক্যাম্পগ্রাউণ্ডে, অসংখ্য বনো জন্তু আর পাখির সাথে সার্নিয়ায়।একবার পারি দিয়ে ছিলাম,  নিউ ব্রান্সউইক থেকে প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডর সংযোগ বিশাল সমুদ্রের উপর কনফেডারেশন ব্রীজ। এক সন্ধ্যার অপরূপ সংযোগ সময় হয়ে উঠে ছিল দুই প্রভিন্সের পথের সংযোগ সময় অদ্ভুত বিশাল এক পুল পারি দিয়ে। ওপারে পৌঁছে যাওয়ার অনুভুতি সত্যি অন্য রকম। অন্য কিছু জানার অনুভব।যখন বিশাল যমুনা পাড়ি দিতাম স্টিমারে সে অনুভবের সাথে যমুনা ব্রীজ পেরিয়ে যাওয়ার অনুভবটা বড়ই অন্য রকম। দ্রুততার সাথে অনেক আবেগ আর আনন্দ হারানো। আার সহজিয়া চলার সাথে অনেকবার স্টিমারে যমুনা পাড়ি দেয়ার নানা রকম কষ্টের অথচ বুকের ভিতর জড়িয়ে থাকা ভালোলাগার গল্পগুলো হারিয়ে ফেলা। 
গভীর রাতে এক বর্ষাকালে যমুনা সেতুর উপর থেমে গেলো আমার গাড়ি। কারণটা ছিল তেলের সাথে জলে মিশিয়ে দিয়েছিল তেল বিক্রিতা! অবাক বিষ্ময়ে ঝুম বৃষ্টির মধ্যে মাঝরাতে যমুনার সৌন্দর্য উপভোগ করেছিলাম সে রাতে।অথবা অবাক হয়ে চেয়ে দেখা, আমি গোল্ডেনগেট, পৃথিবীর এক সপ্তম আশ্চর্যর উপর দিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছি ঝকঝকে অনুভবে। এমন কত সংযোগ কত পুল পাড়ি দিতে হয়, আমাদের জীবনের ধাপে ধাপে, মাঝে মাঝে অবাক বৈচিত্র মরীচিকার মায়ায় হারাই।  সব অজানা রহস্য হয়ে উঠে সুন্দর স্বপ্ন মধুর আমার কাছে। প্রতিটি  অজানা আসে চ্যালেঞ্জিং হয়ে আমার কাছে তাকে গ্রহণ করি সাহসে। তার সাথে পাল্লা দেই অকুত ভয়ে শেষ সীমানা দেখার দুঃসাহসিক স্বপ্ন নিয়ে। ইচ্ছে করি আরো অনেক সেতু পেরিয়ে যাওয়ার। শৈশব, কৈশোর, য়ৌবন পেরিয়ে পৌড়. বৃদ্ধ থেকে অন্য জীবনে সুন্দরের মায়ায়। বৈচিত্রের ঝাল মসলা আর ফুলের সুরুভি উপভোগ করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৪৬
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেড ইন বাংলাদেশ ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২২


দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা আমাদের দেশে ঋতুভেদে বদলায়। তবে ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এক নতুন ধরনের সিজনাল দেশপ্রেম দেখলাম। একে বলা যেতে পারে "রিটার্ন টিকিট দেশপ্রেম"। যারা দেশে বিদেশে আরাম-আয়েশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×