এক নতুন বান্ধুবি হইল আমার। এক ফটোগ্রাফার বন্ধুর বান্ধবি। এখন আমারও। তো সেই বান্ধুবির সাথে আজ ছবির হাটে গেলাম। যাবার পথে বান্ধুবিটি বলছিল ওর বান্ধুবি এবং ওদের গ্রুপের সবাই অনেক মেধাবী এবং দেশ প্রেমি, সংস্কৃতিমনা। শুনে ভালো লাগলো। গেলাম ওর সাথে ওর বান্ধুবির সাথে দেখা করতে। দেখা হল । পরিচয় পর্ব শেষ হল। এবার এলো আপ্যায়ন পর্ব।
কোন ছেলে যদি আমাকে বলে সিগারেট নেবে আমি অবাক হই না, কোন মেয়ে সিগারেট নিব কিনা জানতে চাইলেও আমি অবাক হই না। কিন্তু আমি যখন বলি না আমি সিগারেট খাই না(পান করি না) তখন ছেলেদের তাকানোর ধরন কে উপেক্ষা করা যায়। কিন্তু সিগারেট খাই না শুনে সিগারেট খোর মেয়ের তাকানো ভয়ঙ্ককর। এমন ভাবে তাকায় যেন এই মাত্র আমি একটা খুন করে এসেছি। খুন করে লাশটাকে কুটিকুটি করে আলু দিয়ে রান্না করে খেতে বসেছি।
আমার বান্ধুবির বান্ধুবি আমাকে সিগারেট সাদল আমি সব সময়ের মত বললাম সরি আমি ধূমপান করি না। মেয়েটা আমার দিকে কি ধারুন ভয়ঙ্কর করে তাকাল। মেয়েটার চোখে মুখে অদ্ভুত যে দৃষ্টি তার অনুবাদ আমি জানি না। তবে এটুকু সত্যি যে একবার মনে মনে আমি বলেছি আহ! আমি কত সেকেলে! ওরা কত আধুনিক! কিছুক্ষন বসে আলাপ করে জানলাম মেয়েটা আর তার সহযোগীরা ছাত্র মৈত্রী আর ছাত্র ফেডারেশন নামের এই রকম বাম দল করে। এরা কি উন্মুক্ত মুক্তি বুদ্ধির, চিন্তা করে দেশ জাতি মানুষ নিয়ে, দুখি মানুষ নিয়ে। ওদের অনেক চিন্তা করতে হয় । অনেক ভাবতে হয় । আর ওরা সিগারেট খাবে না? কি বলেন? আমি কোন কিছু নিয়ে চিন্তা করি না বাম দলও করি না, ডান দলও করি না , দেশ নিয়েও চিন্তা করি না তাই আমি সিগারেট না খেলে কি আর খেলে কি??? অনেকেই কুরচনা করে বাম দলের ছেলে মেয়েরা নাকি লিভটুগেদার করে! ছিঃ ছিঃ এসব কোন কথা? ডান দলের পোলা মাইয়ারা কত কিছু করে সেটা অবশ্য দুঃখজনক নয়; কেন না ওদের নীতি নেই। ওরা মানুষ কাটবে মারবে মানুষের মাথা নিয়ে ফুটবল খেলবে ! কিন্তু বাম দলের ওরা সব সময় নীতির পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। ওদের নামে এসব খুবি অন্যায়। আরে ওরা স্মার্ট ছেলে মেয়ে। যৌনতা গাঁজা মদ সিদ্ধি । এসব বাড়ায় নাকি বুদ্ধি। ওদের বুদ্ধির অনেক দরকার। দেশ জাতি মানুষ নিয়ে, দুখি মানুষ নিয়ে। ওদের অনেক চিন্তা করতে হয় । অনেক ভাবতে হয় । আর ওরা সিগারেট খাবে না? গাঁজা খাবে না। মদ পান করবে না। সেক্স করবে না তা কি করে হয়? আপনি ডান দল করবেন এসব আপনার করা সাজে , আর ওরা করলেই বাজে। তা কি করে হবে।
আমার বান্ধুবিটি তার বান্ধুবিকে নিয়ে একটা সিগেরেট ভাগাভাগি করে খেলো। আহ! কি ধারুন দৃশ্য। আর আমি বোকা কি না ধূমপান করি না!!!!
একটা মা নাকি একটা জাতি। সিগারেট খাওয়া মা সিগারেট খাওয়া জাতি। স্তন ক্যান্সার, ফুসফুস ক্যান্সার, স্ট্রোক বেড়েই চলছে। আমার অনেক বন্ধু ডাক্তারি পড়ছে ভালই হবে ওদের জন্য। যত রোগ তত টাকা ।
এটা ঠিক না যে ডাক্তার বন্ধুরা সিগারেট মদ খায় না..।!!! কেউ কেউতো স্মার্টনেস দেখানোর জন্য শিসা খায়। গাঞ্জা তো এজি ব্যাপার । খাবে না কেন ? কত কষ্ট করতে হয় ওদের। কত পড়া লেখা করতে হয় ওদের।
ফিল্মর মিডিয়ার প্রতি আমার অনেক দিনের আগ্রহ। তাই মিডিয়ার লোকজনের সাথে ঘোরাঘুরি করি । কাউকে কাউকে বলতে শুনি সিগারেট খাওনা মিডিয়া কাজ করবে কেমন করে?
আমি এক সময় একটা জব করতাম। অফিসের সবাই স্মোকার, আমি ছাড়া। আমি তাঁদের সাথে মানিয়ে উঠতে পারি নাই। অদ্ভুত ব্যাপার আমি একলা হয়ে পড়লাম। জবটাও ছেড়ে দিলাম এক সময়।
যা বলছিলাম ছবিরহাট খুব যাতায়াত আমার। দেখি সবাই খুব গাঞ্জা খাচ্ছে। খাবে না সবাই ক্রিয়েটিভ লোক যে। বড় ছোট সবাই কেমন ফ্রেন্ডলি গাঞ্জা খায়, সিগারেট খায়। আমি পড়ছি বিপদে; আমি আজও ছোট ভাই রয়ে গেলাম। ছোট ভাইদের চোখেও আমি ছোট ভাই হয়ে রইলাম। মিডিয়ায় কাজ করবা আর মদ গাঁজা বিড়ি সিগেরেট খাবা না(?) তা কি করে হয়? জীবনের সব যায়গায় আমি এখন বেমানান, বেয়াক্কেল, বেকুব, বে-স্মার্ট, বে-আদ্মি।
তাই সৃষ্টিশীল কাজ করতে, দেশ বাঁচাতে--------
আসুন ধূমপান , মদ্য পান, গাঞ্জা পান কে হাঁ বলি!!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

