গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণ করা সঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
ইউনূসকে অপসারণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নোটিসের বৈধতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম শরিকপ্রধান এরশাদ এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, "১৯৮৩ সালে আমি রাষ্ট্রপতি থাকাকালে এই অধ্যাদেশটি জারি করেছিলাম। আজকের গ্রামীণ ব্যাংক, এই ব্যাংকের সাফল্য এবং নোবেল বিজয় সেই অধ্যাদেশেরই ফসল।"
গ্রামীন ব্যাংকের সাফল্য তুলে ধরে এরশাদ বলেন, "ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের সাহায্যে শুধু দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ অবদান রাখেননি, এই ব্যাংকের মাধ্যমে তিনি নোবেল পুরস্কার জয় করে দেশ ও জাতিকে সম্মানিত করেছেন।"
সাবেক এ সামরিক শাসক আরো বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পাশাপাশি এখন গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূসের নাম সমানভাবে পরিচিত। তার মত ব্যক্তিত্ব নিজ দেশে অপদস্থ হলে কোনোভাবেই তা বিশ্ব পরিমণ্ডলে মর্যাদাকর বলে বিবেচিত হবে না।
অবশ্য ইউনূসের অপসারণের এই বিষয়টিতে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই- এমনটিই মনে করেন এরশাদ।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশ ব্যাংকের নোটিস প্রত্যাহার করে নিলেই ইউনূস বিতর্কের অবসান হতে পারে। এ ব্যাপারে আমি সরকারে হস্তক্ষেপ কামনা করি।"
'কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়' উল্লেখ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, "আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হয়। ড. ইউনুস আইন লঙ্ঘন করেছেন এমন কোনো প্রমাণ জাতির সামনে উপস্থাপন করা যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে অপসারণ করে যে নোটিস দিয়েছে তা কতখানি বিধিসম্মত সে বিষয়টি আমার কাছে অস্পষ্ট।"
অন্যান্য বেসরকারি ব্যাংকের নিয়ম-নীতির সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংককে মিলানো যাবে না বলেও জানান তিনি।
১৯৮৩ সালে বিশেষ অধ্যাদেশের মাধ্যমে 'গ্রামীণ ব্যাংক' প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছিলেন ওই সময়ের রাষ্ট্রপতি এরশাদ।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ করে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



