
ব্যবধান মাত্র সাত দিন। আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে জয়ের পর যারা আনন্দ মিছিল নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন, শুক্রবার তাদের কণ্ঠেই ঝরে পড়লো ক্ষোভ। উইন্ডিজের কাছে বাংলাদেশের লজ্জাজনক হারে এবার জুতা হাতে মিছিল বের করেছেন ভগ্নহৃদয় সমর্থকরা।
শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার খেলা হয়েছে মাত্র ৩১ ওভার ১ বল। প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১৮ ওভার ৫ বলে বাংলাদেশের পালা শেষ হয়ে যায় ৫৮ রানে। বিশ্বকাপে এর চেয়ে কম রানে কখনোই গুটিয়ে যায়নি বাংলাদেশ। একদিনের ক্রিকেটেও। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২ ওভার ২ বল খেলেই জয়ের লক্ষে পৌঁছে যায়।
বাংলাদেশের এই পরাজয়ে নারী-পুরুষ-শিশু সবার কণ্ঠেই ক্ষোভ, হতাশা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার রিকশা চালক ফুলবাবু এর আগের শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের জয়ের পর রিকশা নিয়েই যোগ দিয়েছিলেন মিছিলে। বিনা ভাড়ায় চড়িয়েছেন ছাত্রদের।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪১ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তিনি আর খেলাই দেখেননি।
"ভাইজান কি আর কমু, চারুকলার ভিতরে মাইয়াগো খেলতে দেখছি। মনে অইলো তেনারাও আমাগো দলের চাইতে ভালা খেলে।"
শুধু ফুলবাবু নয়, অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমী টিএসসিতে এসেছিলেন বড় পর্দায় খেলা দেখতে। খেলা শুরুর আগে থেকেই কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল পুরো এলাকা। ক্রিকেটপ্রেমীরা লাল-সবুজের জার্সি আর ভুভুজেলা নিয়ে এসেছিলেন আনন্দ করতে। কিন্তু তাদের আনন্দ মাটি হতে সময় লাগেনি।
খেলা শেষ হতে না হতেই ক্ষুব্ধ ক্রিকেটপ্রেমীরা শুরু করেন জুতা মিছিল। কাগজ জড়ো করে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন তারা। স্লে¬াগান শোনা যায়, 'ভুয়া, ভুয়া'। 'বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ' সাকিব আল হাসানের পোস্টারও জ্বলতে দেখা যায় এক ক্ষুব্ধ সমর্থকের হাতে।
ইসলামী ব্যাংকের সৌজন্যে সোহারাওয়ার্দী উদ্যান গেটের বিলবোর্ডে ঝুলানো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একটি বড় জার্সিও ছিড়ে ফেলেন মিছিলকারীরা।
যারা বাজি কিনে বিজয় উৎসবের জন্য প্রস্তুত হয়ে ছিলেন, সেই পটকা ফুটিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে তাদেরকে। সমর্থকদের ভুভুজেলার সুর এদিন হয়ে গেছে বেদনাময়, করুণ।
বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই এ লজ্জাজনক হারের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে দুষেছেন।
হারের পর কাগজে লেখা স্লে¬াগান বুকে ও পিঠে সেঁটে হল থেকে টিএসসি এলাকায় এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র মিরাজ। 'বাঘের বাচ্চাগুলো ছুঁচোর বাচ্চা হলো কেন? বিসিবি জবাব দে' কিংবা 'বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এ অবস্থার জন্য বিসিবিই দায়ী' লেখা পোস্টার ও প্ল¬্যাকার্ড দেখা গেছে অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর হাতেই।
সোহরাওয়ার্দী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র সোহরাব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশ খেলোয়াড় বাছাইয়ে চরম ভুল করেছে। মাশরাফি, অলক কাপালি, শাহরিয়ার নাফীসের মতো খেলোয়াড়দের বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি।
আশরাফুলকে দল থেকে এবং সাকিব আল হাসানকে অধিনায়কত্ব থেকে সরানোরও দাবি করেন তিনি।
টিএসসিতে বড় পর্দায় খেলা দেখতে আসা নর্দান কলেজের ছাত্র জনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এই হার দুঃখজনক, সেই সঙ্গে লজ্জাজনকও।
"বাংলাদেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে খেলোয়াড়রা।"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


