কিছুদিন আগে এক বিদেশী পত্রিকায় বাংলাদেশ সম্পর্কে রিপোর্ট এসেছিল এই শিরোনামে "Bangladesh is set to disappear under the waves by the end of the century"। রিপোর্টের শেষে বলা হয়েছিল- Bangladesh, 1971-2071: born in blood, died in water.। আগে জানতাম এই শতাব্দীতে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ডুবে যাবার সম্ভাবনা আছে। এখন বলা হচ্ছে পুরোটাই ডুবে যাবে।
যাই হোক, যদি ডুবে নাও যায়, তবে কি হবে এই বাংলাদেশের। একটু মোটা দাগেই চিন্তা করা যাক। বাংলাদেশের যা খনিজ সম্পদ (তেল, গ্যাস, কয়লা)মজুদ আছে, তাতে আর ব্ছর ১৫/২০ পরেই টান পড়বে। আর যে হারে ব্যবহার বাড়ছে, আর যদি নতুন ক্ষেত্র আবিস্কার না হয় তবে এই সময়টুকুও চলে কিনা সন্দেহ আছে। আমদানী করা তেল দিয়ে আর কত দিন.... আর সেই ভান্ডারও তো শেষ হয়ে আসবে। তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে কি দিয়ে। নবায়নযোগ্য শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কোন প্রস্তুতিও আমাদের নাই। আজ গরমকালে রাজধানী শহরেই ৬ থেকে ১০ ঘন্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। এই সমস্য মোকাবেলায় সরকারের সদিচ্ছায় খুব একটা কাজ হবে না। কারন মুল সমস্যা resource constrains। অপ্রিয় হলেও সত্য যে আমাদের সামনে শুধুই অন্ধকার.......
বিদ্যুত গেল.... রান্নার গ্যাস আসবে কোথা থেকে... এখানেও অন্ধকার....... গ্যাসের ব্যাপারে আশাবাদি হবার মতো খুব একটা তথ্য আমাদের হাতে নেই। নতুন বৃহৎ গ্যাসে ক্ষেত্র আবিস্কার হবার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। আর বিদ্যুত উৎপাদন ছাড়াও গ্যাসের সব থেকে বেশী ব্যবহার হয় শিল্প-কারখানা আর পরিব্হনে। সেগুলো কোথায় যাবে?
গ্যাস-বিদ্যুত গেল... পানি আসবে কোথা থেকে? ঢাকা পানির স্তর এখন প্রায় ২০০ ফুট (নাকি মিটার) নিচে নেমে গেছে। আর খুব একটা পানি সেখান থেকে তোলা যাবে না। ভুমি ধ্বস এর সম্ভাবনা আছে। আর ঢাকার আশেপাশের নদীর পানি প্রায় সবই শোধনের অযোগ্য। সুতরাং, ভবিষ্যত এখানেও অন্ধকার......
এটা গেল একদিক। ঢাকার যানজটের কি হবে? আজ ১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে সময় নেয় ১ ঘন্টা। ১৫/২০ ব্ছর পরে কি ঢাকার যানবাহন বা জনসংখ্যা কমবে? ঢাকায় রাস্তা বাড়ানোর তেমন কোন উপায় নেই। মানুষের বাড়ীঘর ছেড়ে গ্রামে যাবারও সম্ভবনা কম। সেদিন ১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে হ্য়ত সময় নেবে তিন ঘন্টা। মানুষের কর্মক্ষমতা রাস্তাতেই শেষ!
আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনীতি, দুর্নীতি, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য এখান থেকেও সুখবর আসার সম্ভাবনা খুবই কম। '৬০ বা '৭০ দশকে মালেশিয়া/ইন্দোনেশিয়া থেকে শিক্ষার্থীরা আসতো বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য । আর আজ বিদেশী শিক্ষার্থীতো আসেইনা ববং আমরা ঐসব দেশের হাতে পায়ে ধরি যেন বাংলাদেশী শ্রমিকদের ঐ দেশ থেকে বের করে না দেয়া হয়। সাধের চিংড়ী শিল্প মার খেয়ে গেল, দর্জি শিল্পও (ভদ্র ভাষায় RMG Sector) মার খেতে সময় লাগবে না। কাজের বুয়া রপ্তানী ছাড়া আমাদের আর আশা করার মত কোন শিল্প নাই।
নৈরাশ্যবাদী হতে চাই না, কিন্তু স্বপ্ন দেখার মত কোন অবলম্বনও পাই না। ইন্ডিপেন্ডেট পত্রিকায় ডেডলাইন দিয়েছে ২০৭১ সাল পর্যন্ত। আর আমি দেখালাম ১৫/২০ ব্ছর পরে কি হতে পারে। এর পরে আর যাওয়ার সাহস পাইনি। কোথায় যেন পড়েছিলাম, আমাদের গৌরবউজ্জল অতীত আছে, দু:সহ বর্তমান আছে, কিন্তু কোন ভবিষ্যত নাই। কথাটা মনে হয় একেবারে ভুল না। এখন সমুদ্রের পানিতে ডুবে মরে বেচে যাবার প্রতীক্ষায় বাংলাদেশ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




