somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লিলিয়ার রোজ নামচা

১৮ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ৮:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অগোছাল কিছু দিয়েই শুরু হল দিনটা। সবই অগোছাল আশে পাশে, যেদিকে তাকাই। বিশেষ করে সংবাদ পড়তে গেলে কঠিন বিপত্তি। সুখ আর আনন্দ কল্পনাতেও ঘেঁষে না ধারে কাছে। কিন্তু কেন? প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে না হয় আমরা নিরুপায়, কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের ঘৃণা বিদ্বেষের কমতি নেই কেন, এমনকি এই একবিংশ শতাব্দিতেও? --- ভাবতে ভাবতে লিলিয়া টেবিলের ছড়ান ছিটান বই খাতাগুলো গুছিয়ে রাখল বুকশেলফে। কি মনে করে একটা পুরনো মলাটে বাঁধান বই সযত্নে তুলে নিল হাতে। অনেকদিন পরে আজ অবসরে লিলিয়া আর পত্রিকার পাতা ওল্টাবেনা বলে পণ করল নিজের কাছে।

এক একটা দিন পার হয়ে যায় শুধু শঙ্কা দুক্ষ হতাশা নিয়ে। জীবন কে যাপন আর করা হয়ে ওঠে না শেষ মেষ। আর কত? লিলিয়া হাতে তুলে নিল সেই বইটা আর হাসল একটু আপন মনে। চট করে একটু মুখে পানি দিয়ে, দুটুকরো জ্যাম টোস্ট আর এক কাপ কফির পরে লিলিয়া বেড়িয়ে পরল পথে। একটা নির্জন পার্কে গিয়ে সারাটা দিন আজ সে বই পড়েই কাটাবে। সব কিছু প্ল্যান মতই চলছে এ পর্যন্ত। নদীর পারের ছোট্ট নির্জন পার্কে বসে লিলিয়া বইয়ের রাজ্যে হারিয়ে গেল। বইটি কে মিথ বা প্রফেসি অথবা বৈজ্ঞ্যানিক কল্পকাহিনীর মাঝামাঝি বলাটা বোধ হয় ভুল হবে না। মানব সভ্যতার উত্থান এবং পতন, পতনের পরে আবার উত্থান এবং আবার নতুন করে পতন এর ঘূর্নীপাক অনেক বড় স্কেল এ কল্পনা করলে যেমনটি হওয়ার কথা ঠিক তেমন অনুভব করছিল লিলিয়া। চিন্তা করতে গিয়ে মাথা ঘুরপাক খাওয়ার দশা তার। মনের এবং ব্রেইনের জং ধরার সম্ভাবনা রাশ পায় এসব চিন্তার ঘুর্নিপাকে। লিলিয়া ভাবে, একারনেই বোধহয় মানুশ অন্ধভাবে ধর্মীও পুস্তক গুলোকে বিশ্বাস করে চলে। কারন তা সহজ এবং এত চিন্তার ঘূর্নীপাকে ঘোরারও প্রয়োজন পরে না।

কিন্তু সে তো আর সবাই পারে না। লিলিয়াও তেমনি না পারার দলে। অনেক প্রশ্ন, অনেক এডভেঞ্চার নিয়েই তো এই অস্তিত্বের, এই বেঁচে থাকার স্বার্থকতা। আর বাংলাদেশের মত একটি দেশের মেয়ে হলে তো অনেক কাঠখড় পোঁড়াতেই হয় সেই বেঁচে থাকাকে স্বার্থক করতে। ধন্যবাদ এই একবিংশ শতাব্দির বিজ্ঞান এবং টেকনলজিক্যাল এডভান্সমেন্ট যা জিওগ্রাফিক্যাল দুরত্বকে তুচ্ছ করে সারা পৃথিবীকে এত কাছে নয়ে এসেছে। বাংলাদেশের মেয়ে হয়েও পাশ্চাত্যের মেয়েদের মত স্বাধিনতা উপভোগ করা সম্ভব, নানা দেশ নানা সংস্কৃতির স্বাদ নেয়া সম্ভব। এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখা সম্ভব।

ঘাসের উপর আধশোয়া হয়ে বইয়ের মধ্যে মাথা গুঁজে ছিল লিলিয়া। আচমকা একটি ভরাট একটু বয়স্ক পরিচিত গলার আঁওয়াজ শুনে উঠে বসল লিলিয়া। পিটার, চিত্র শিল্পী। প্রায়ই সে নদীর ধারের এই পার্কটিতে বসে ঝকঝকে শহরটির নানা মুডের ছবি আঁকে। কখন রৌদ্রজ্জল, কখনওবা বৃষ্টিস্নাত, আবার কখন মনমরা ধুসর রঙের শহরটি।

"কেমন আছো সুন্দরী তরুনী? অনেক দিন কোন দেখা নেই যে? আমি তো প্রায় ভাবতে শুরু করেছিলাম যে আমার ভারতীয় সুন্দরীর আর বোধ হয় দেখা মিলবে না। ইংল্যান্ড তাকে নিশ্চয়ই বিরক্ত করে ফেলেছে তার ধুসর আবহাওয়া দিয়ে!", একনাগারে কথা বলে গেল পিটার।

লিলিয়ার মুখ হাসিতে উদ্ভাসিত হল। অনেক গল্প আছে পিটারের জীবনে, অনেক অভিজ্ঞতায় ভরা। শুনতে গেলে অনেক সময় অজানা শিহরণ জাগে। এডভেঞ্চারের উত্তেজনার সাথে ভয় এবং আনন্দের মশেল অনুভূতি।

"ওহ পিটার। বাংলাদেশী আমি, ভারতীয় নই। আর কতবার তোমাকে মনে করিয়ে দিতে হবে?" একটু রাগের ভান করে হেসে বলল লিলিয়া।

"এমন নয় যে আমি খুব একটা মাথা ঘামাই এটা নিয়ে। এই ছোট্ট পৃথিবীটাকে আমরা খন্ডে খন্ডে বিভক্ত করেছি, আর সেটা নিয়ে কতই না আবেগ আর রঙ চড়িয়ে গর্বিত হওয়ার খেলা খেলে আমরা পরম তৃপ্তি লাভ করি। কিন্তু পিটার, সে তো একই বাতাস আমরা ভাগাভাগি করে বেঁচে থাকি।" বলে চলল লিলিয়া। "আমরা কেউ আমাদের জন্মসূত্রে পাওয়া গায়ের রঙ নিয়ে গর্বিত, কেউ আবার জন্মস্থান, কেউবা আবার ধনী পরিবার নিয়ে যার পর নাই অতিব আপ্লুত। এগুল তো সবই দুর্ঘটনার ফল, আমরা কেউ ই আমাদের জন্মস্থান, গায়ের রঙ কিংবা বাবা মাকে পছন্দ মত বেঁছে নিতে পারি না, পারি কি?" একটু দম নিয়ে লিলিয়া একমুখ হাসি নিয়ে পিটারের গম্ভির মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, "কফি? এত ভারী এবং গুরুত্বপূর্ন আলোচনা কফি ছাড়া কি জমে!" পিটার অভিমানে ভংগী করে বলল, "এতক্ষনে?"

চলবে ---


সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০১১ ভোর ৬:০৫
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×