জ্যামের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় পনের মিনিট। আসলে ঠিক দাঁড়িয়ে নেই, বসে আছি গাড়ির মধ্যে আমরা তিন কন্যা। আমার দুই খালাত বোন আর আমি।
আমি দেশে বেড়াতে এসেছি দুসপ্তাহের জন্য। আজ মোটে তৃতীয় দিন, আমি ঢাকার রাস্তায়, প্রচন্ড গরমে আর চরম জ্যামে গাড়ির ভিতরে সিদ্ধ হচ্ছি। অভ্যাস না থাকলে যা হয়, আমার মুখে চরম বিরক্তি। মনে হচ্ছিল দম বন্ধ হয়ে যাবে এক সাথে এই গরম, ধূলোবালি আর শব্দ দূষণে।
ঠিক এমন সময় আমরা লক্ষ্য করলাম যে একটি লোক অনেকগুলো রুমাল হাতে নিয়ে সুর করে গান গেয়ে গেয়ে বিক্রি করার চেষ্টা করছে।
আমাদের পাশের গাড়ির চালকটি লোকটিকে ডাক দিয়ে বলল, "এই তোর রুমাল কত করে রে?" ইত্যাদি ইত্যাদি। একটু দামাদামির পরে, গাড়ির চালকটি বলল, " তোর রুমাল গুলিতো সব সাদা রঙের। কোন কালার ওয়ালা রুমাল নাই?"
রুমালের বিক্রেতা এতটুকু সময় নষ্ট না করে বলে উঠল, "কালার দিয়া কি করতেন? কালার ওয়ালা রুমাল তো একবার ধুইলেই রঙ উইঠ্যা ভ্যাডভ্যাডাইয়া যাইবোগা!!!"
গাড়ির চালক বলল, "ধুরও মিয়া, তোর কাছ থেইকা রুমাল কিনতাম না!"
রুমাল বিক্রেতা বলল, "আরে মিয়া, হেইডা কইতে হইতো না। হেইডা তো আমি আগেই বুঝছি"।
এইদিকে আমরা তিন কন্যা গাড়ির ভিতরে বসে হেসে গড়াগড়ি। গরমে সিদ্ধ হওয়ার কথা ভুলে গিয়ে আমি নস্টালজিয়ায় ডুবে গেলাম। এই আসল মনুষত্যের চিত্র, এদের অকপট সরলতার অভাব অনুভব করলাম আমার নির্বাসিত জীবনে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


