বাউল শাহ আব্দুল করিমের সাথে যখন আমার পরিচয় হয়, তখন উনি বাউল সম্রাট উপাধি
আনুষ্ঠানিক ভাবে পান নি। কিন্তু আমাদের সিলেটের মানুষের কাছে উনি অনেক জনপ্রিয়
মানুষ ছিলেন।
১৯৮৪ সালের কোনো একদিন উনি আমার বাসায় এসেছিলেন, বিশ্বনাথের মোখলিছ, আমাদের
পারিবারিক প্রিয় একজন মানুষের সাথে। প্রথম দিন বেশী কথা বলেন নি। লাজুক মুখে চুপচাপই
ছিলেন। ঢাকা থেকে জার্নি করে এসেছিলেন, তাই ক্লান্তও ছিলেন। খাওয়া দাওয়া করে বিশ্রাম নিয়ে
বিকেলে চলে গিয়েছিলেন। কিছুদিন পর যখন আবার এসেছিলেন, তখন অনেক সপ্রতিভ ছিলেন।
অনেক গল্প করেছিলেন, ঢাকা গেলে তখন চিত্র নায়িকা অলিভিয়ার বাসাতেই থাকতেন।
জনাব শফী, ও অলিভিয়া উনাকে খুবই সম্মান ও আদর করতেন, এসব গল্প করতেন।
উনার প্রতিটি গল্পেই থাকতো উনার স্ত্রী সরলা। সরলার গল্প করতে গেলে উনার মুখ এক
অবর্ননিয় আলোতে ছেয়ে যেত। উনার সরলা কে নিয়ে ঠাট্টা করতাম। উনি হাসঁতেন।
নিজের কন্ঠে কতো যে গান শুনিয়েছেন। আমার হাতের রান্না খুব পছন্দ করতেন।
খেতে বসলেও অলিভিয়ার প্রসঙ্গ তুলতেন। আমি মাঝে মাঝে কপট রাগ দেখিয়ে বলতাম
" অলিভিয়া কি আমার মতো নিজের হাতে আপনাকে রান্না করে খাইয়েছে? উনার মুখটা
বাচ্চা ছেলেদের মতো কাচুমাচু হয়ে যেতো।
উনার নিজের হাতে আমায় উনার বই দিয়েছিলেন, কালনীর ঢেউ।
১৯৯০ পর্যন্ত উনার সাথে যোগাযোগ ছিল। তারপর আস্তে আস্তে কি করে যেন যোগাযোগ
কমে গেলো। সেটা কি কারনে ঠিক মনে নেই, আমার বাসা বদল ও একটি কারন হতে পারে,
তারপর পত্রপত্রিকা মারফত উনার খবর জানতাম। উনার একুশে পদক প্রাপ্তি, আর ও নানা
পুরস্কারের খবরে আন্তরিক ভাবেই খুশী হয়েছি। কারন আমি দেখেছি, কত দারিদ্রতার সাথে
উনাকে যুদ্ধ করতে হয়েছে। উনার অসুস্থতার খবরে অনেক বার ইচ্ছে হয়েছে, ভাটী তে
উনার বাড়িতে যাওয়ার। তা আর হয়ে উঠেনি।
আজ উনার মৃত্যুর খবর শুনে মনে হল, আমি আমার খুব আপনজন কেই হারিয়েছি।
আল্লাহ পাক উনাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


