somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমারে তুমি অশেষ করেছো এমনি লীলা তব......

১৪ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এক নাগাড়ে সাতদিন ধরে বৃষ্টি, কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে, পৃথিবী ধংস হয়ে যাবে। প্রবল বর্ষনের পর প্রভাতে সূর্যের আলো ফোটার সাথে সাথে আমি নাকি এ পৃথিবীতে এসেছিলাম। মেয়ে হয়েছে বলে কেউ জানান দেয়নি। সবাই আমার নাম ধরেই বলেছিলো “...” হয়েছে। আব্বার যখন ১০ বছর বয়স, তখন আমার দাদী একটা উপন্যাস পড়েছিলেন। সে উপন্যাসে তিন-বোনের মাঝে সাহসী, প্রতিবাদী বড় বোনকে দাদীর এতোই পছন্দ হয়েছিলো যে সাথে সাথে দেয়াল আলমারীর পাল্লার ভেতরের দিকে চক দিয়ে নামটা লিখে রেখেছিলেন। আর সবাইকে বলেছিলেন, উনার ছেলে বড় হবে, বিয়ে করবে, তার মেয়ে হলে উনি এই “নামটি’ রাখবেন। তাই উত্তরাধিকার সুত্রে নামটি আমার গলায় ঝুলেছিলো।

জীবনের চাওয়া-পাওয়ার হিসেব আমি করিনা। জানি, সেটা করা বোকামি। তবুও মাঝে মাঝে অনেক অপ্রাপ্তি বুকের মাঝে চিনচিন করে ব্যাথা দেয়। তবে তা সাময়িক। ছোটবেলা থেকে সামান্য জিনিসের মাঝে মগ্ন থাকার অভ্যাস গড়ে উঠেছিলো। তা সেটা আকাশ, ফুল, লতা-পাতা, পাখিই হোকনা কেনো। কত অলস দুপুরে আকাশে মেঘের মাঝে কত চেহারা, কত রুপ সৃষ্টি করেছি। কোন গাছ-পালা দেখে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে দিয়েছি। ছোট্ট নীল ঘাস-ফুলের সৌন্দর্যে বিস্ময়ে মুগ্ধ হয়েছি। একটি বই হাতে করে আমি কাটিয়ে দিতে পারি এ জীবন। কখনোই নিজেকে একেলা মনে হয়না। বইএর প্রতি ভালবাসা গড়ে উঠেছে সেই শিশুকাল থেকেই। স্বপ্ন দেখতাম, আমার একটা লাইব্রেরী হবে। বিশাল ঘর জুড়ে শুধু বই-আর বই। বই অনেক হয়েছে, তবে সে ঘরের স্বপ্ন পুরন হয়নি। শিলং পাহাড়ে নিঃসংগ পাইনের বনে একা একা ঘুরে ঝরনার গান শোনার সাধ ছিলো। শিলং পাহাড়ে গিয়েছি, কিন্তু সেই একেলা গান শোনা হয়নি। মনে মনে একতারা হাতে অনেক দু-র দুরান্তে চলে গিয়েছি। অচেনা অজানা দেশে। ক্লান্ত শিথিল পা-দুখানি বিশ্রাম নিয়েছে ঝাকড়া কোন অশ্বথের ছায়ায়। খড়-কুটো জ্বেলে ফুটিয়েছি মাধুকরি অন্ন। সেটাও আমার কল্প-রাজ্যে।

ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গলের মত বাতি হাতে অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতে চেয়েছি। দাড়িয়েছি অনেকের পাশে। বাড়িয়ে দিয়েছি আমার দুর্বল হাত। তবে সে বাতির আলোয় অন্ধকারকে জয় করতে পারিনি। হতে পারিনি সেবিকা। হতে পারিনি অনেক কিছুই, চেয়েছি যা। সাংবাদিক হতে চেয়েছিলাম, হতে চেয়েছিলাম একজন আইনজীবি। সমাজের বঞ্চিত, নিপিড়িত মানুষের পাশে দাড়াতে চেয়েছিলাম। হতে পারিনি। কেনো হতে পারিনি তা ব্যাখ্যা করা এখন অপ্রয়োজন।
ভালবাসার অপর পিঠেই নাকি ঘৃনার বাস। কিন্তু আমার মনে ঘৃনার কোন অস্তিত্ব আমি খুঁজে পাইনি। একবুক ভালবাসা। সাগরের চেয়েও বিশাল সে ভালবাসার ঢেউএ ঘৃনার সামান্য ছিটেফোটাও টিকে থাকতে পারেনা। আঘাত পেয়েছি অনেক। কিন্তু স্বজ্ঞানে কাউকে আঘাত দিয়েছি বলে স্মরন করতে পারিনে। যারা আমায় আঘাত করেছে তাদের প্রতি আমার বিন্দু মাত্র ঘৃনা নেই, আছে করুনা। আহা! তারা যদি ভালবাসার মহিমা বুঝতে পারতো, তবে কাউকে আঘাত করতো না। ভালবাসার আলো দিয়ে এ পৃথিবী আলোকিত করে তুলতো।

“এ জীবনে যতটুকু চেয়েছি মন বলে তারও বেশী পেয়েছি” গানের এই কথাগুলো জীবনের ধ্রুব সত্য বলেই মনে করি। অর্থ প্রাচুর্য্য কোনদিনও বড় করে দেখিনি বা ভাবিনি। জীবনে চলার পথে যখন দেখি অর্থের কাছে মানবতা, সভ্যতা মুখ থুবড়ে পড়ে যাচ্ছে, তখনও অর্থ প্রাচুর্য্যকে বড় ভাবতে পারছিনা। এ আমার ভাবনার সীমাবদ্ধতা। এভাবেই ভাবতে শিখেছিলাম, তাই আজও সে ভাবনার উর্ধে উঠতে পারছিনা। যখন দেখি আমার ভালবাসা মিশ্রিত সরলতাকে আড় চোখে দেখা হচ্ছে, বা তার বাঁকা অর্থ ভেদ করার চেষ্টায় অনেকেই ব্যাস্ত হয়ে পড়ছে, তখনও আমার বিন্দুমাত্র হেলদোল হয়না। আমার সরলতাকে বোকামি আখ্যায় আখ্যায়িত করলেও আমার কিছু যায় আসেনা। হয়তো আমি সত্যি বোকা বলেই কিছু যায় আসেনা।
শৈশবের বীজ আজ মহীরুহ হয়ে এ কথাই বলে যাচ্ছে – যগতের সকল প্রানী সুখী হোক, জগতের সবার মঙ্গল হোক, ভালবাসার আলোকে আলোকিত হক সবার অন্তর।

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৫:০৭
৯৫টি মন্তব্য ৯২টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×