somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খেলার সাথিরা কোথা আজ তোরা, ভুলিইয়াই গেছি নাম.../:)

০১ লা আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছেলেবেলার খেলার সাথিরা আজ কে কথায় আছে, কেমন আছে জানিনা। তাদের সবার নাম আজ আর মনে নেই। কিন্তু তাদের সবাইকে আমার মনে আছে। বেশীরভাগ নামই ভুলে গিয়েছি। কোন কোন নাম কি করে যেনো স্মৃতির জালে আটকে আছে। বয়স যখন ৪/৫ তখন ঢাকায় ইন্দিরা রোডে ছিলাম। পাশের বাসার রেখার সাথে ছিলো চরম বন্ধুত্ব। আমাদের বাড়িটি আব্বা তখন সদ্য তৈরী করেছেন। তখনও গেট বসানো হয়নি। গেটের জন্য নির্ধারিত জায়গায় একটি বাঁশ রাখা ছিলো। হাত দিয়ে বাঁশ সরিয়ে আসা-যাওয়া করা হতো। সেই বাঁশ ধরে বানরের মতো ঝুলা ছিলো আমার আর রেখার প্রিয় খেলা।:) একদিন দুপুরে এমনি করেই ঝুলন ঝুলছি এমন সময় ঘটলো বিপত্বি। রেখার পায়ের একপাটি সেন্ডেল গিয়ে ছিটকে পড়লো অদুরে জটলারত একপাল কুকুরের মাঝখানে। সেখানে আমার টমিও বসে ছিলো। আমি বেশ কয়েকবার টমির নাম ধরে ডাকলাম, টমি ছিলো খুব লক্ষী। ঝড়ে ডাল সহ আম পড়লে, কতদিন সে মুখে করে ডালটি আমার পায়ের কাছে নামিয়ে রেখেছে। কিন্তু স্বজাতির কাছে নিজের কৌ্লিণ্য বজায় রাখতে সেদিন টমি আমার সেই সকাতর ডাক উপেক্ষা করলো।:| রেখা করুন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বল্লো, “সেন্ডেলটা এনে দেওনা”। বন্ধুর আবদার কি করে ফেলি? তাই আনতে গেলাম। আর তখনই টমির বন্ধুদের মাঝে সবচেয়ে দুষ্টু যে, সে আমার পায়ে দিলো এক খাঁমচি।:(( পায়ের রক্তধারা উপেক্ষা করে সেন্ডেল উদ্ধার করে আনলাম। রেখা আমার পায়ের রক্ত দেখে ভড়কে গিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে গেলো। আমায় একটিবার থেঙ্কসও বল্লোনা। /:) নিঝুম দুপুর, চারিদিকে নির্জন। আমি টুপ করে গাছের পাতা দিয়ে পায়ের রক্ত মুছে ঘরে গিয়ে মার পাশে শুয়ে থাকলাম। বিকেলে কোন পাড়াতুত খালা এসে আম্মাকে বললেন, “ওকে যে দুপুরে কুকুরে কামড় দিলো, ডাক্তার দেখিয়েছেন”? মা তো হাউমাউ করে উঠলেন। কিছু বোঝার আগেই গুমগুম করে পিঠে কিছু পড়লো। :(( যতই বলি কামড় দেয়নি আচঁড়ে দিয়েছে কে শোনে কার কথা। বিকেলে আব্বা অফিস থেকে ফিরে সব দেখে-শুনে নিশ্চিত হলেন ওটা আচঁড়, কামড় নয়। তারপরও ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন। তারপরের ইতিহাস আর নাই বলি।X( পেটের মাঝে ইয়াআআআ বড় সিরিঞ্জ দিয়ে ইঞ্জেক্সন এ জীবনে কি ভোলা সম্ভব? তাও একটা দুটো নয়। ৬টা।/:) কামড়ে দিলে কপালে জুটতো ১৪টা। রেখার নামটি মনে আছে এই ইঞ্জেক্সনের কারনেই।

ময়মনসিং এ পন্ডিতপাড়ায় থাকি। পৃথিবীর সব চাইতে সুন্দর আর ভালো স্কুল ছিলো আমার। টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অন্তর্ভুক্ত এক্সপেরিমেন্টাল হাই স্কুল। ক্লাস টুতে পড়ি। হাতের কাজ নামক একটা ক্লাশ হতো। কোনদিন বাগানের কাজ, কোনদিন মাটির কাজ করতে হতো। মাটির কাজ যেদিন করতাম সেদিন বাসা থেকে এঁটেল মাটি আটার মতো মেখে নিয়ে যেতাম। মাটি দিয়ে বানাতাম, মাছ, পাখী, নৌকা, ফলমুল। আমার বন্ধু চাঁদ, চাঁদের মতো ফুটফুটে দেখতে। সেই চাঁদের মতো সুন্দর ছেলে কুটকুট করে মাটি খেতো।:-* দেখেই তো আমি টিচারের কাছে নালিশ দিলাম। টিচার ওকে কাছে ডেকে আদর করে মানা করলেন মাটি খেতে। মানা করার পরও দেখলাম চাঁদ টুক করে মুখে মাটি পুরছে। ধাই করে মাথা গরম হয়ে গেলো।X( দিলাম তার চাঁদ-পানা মাথায় গাট্টা। চাঁদের বড় বড় চোখ দিয়ে টপটপ করে অশ্রু ঝরে পড়লো। গরমের ছুটি শেষে স্কুল খুললে চাঁদকে আর দেখিনি। /:) জানিনা চাঁদের ভালো নাম কি? ও এখন কোথায় আছে। আমি কিন্তু চাঁদকে ভুলিনি। ভুলিনি মাহদিকেও। মাহদি আমার পাড়াতেই থাকতো। ওর উকিল পিতা একদিন আমার পিতাকে বললেন, আমি স্কুলে যাওয়ার সময় যেন মাহদিকে সাথে করে নিয়ে যাই। অলিখিত ভাবেই যেনো মাহদির বড় বোনের ভুমিকা আমি পালন করা শুরু করলাম।:D এমনিতে মাহদি ছিলো অনেক শান্ত, চুপচাপ। মাঝে মাঝে তাকে দেখতাম বন্ধুদের সাথে হাসিতে উচ্ছল হয়ে উঠছে। সাথে সাথে আমি গুরুগম্ভীর স্বরে হেঁকে উঠতাম, “মাহদিইইই”। ব্যাস! বেচারা একেবারেই চুপ হয়ে যেতো। এই মেহেদিকে খুঁজে বের করেছিলাম ৯৬তে। তখনও আমার সামনে কোন কথা বলতে পারেনি। ২টা ফুটফুটে ছেলের বাবা হয়েও সে আমার সামনে কাঁচুমাচু হয়ে ছিলো। কি আর করা, তার বৌ এর হাতের বানানো নানান রকম নাস্তা খেয়ে, তার আব্বা, আম্মার আদর নিয়ে ফিরেছিলাম।:| :|
মনে আছে, লস্কর চাচার মেয়ে বিলু, নীলু, দিলুর কথা, ছবি, ভবি, শংকরী আর উমার কথা। আরো অনেকের কথা মনে আছে, যাদের সাথে কলার ভেলায় চড়ে পুকুরে সাঁতার শিখতাম, দুর্গাবাড়ীর বাগানে শাখ-আলু আর ফুল তুলতাম। পাশের বাসার দুভাই, আনিস আর একজনের নাম মনে নেই, কিন্তু তাকে তো মনে আছে। ভোরবেলা একসাথে সার্কিট হাউজের মাঠে খরগোস দেখতে যেতাম। সাদা সাদা খরগোসগুলি ঝোপের আড়ালে লুকোচুরি খেলতো।

মৌ্লভীবাজারের বন্ধুরা তাদের কথাও মনে আছে। ভাদ্রের ছুটির দুপুরে পুকুর থেকে তাল তুলে আনতাম আমি আর কৃষ্ণা। বর্ষায় ছিপ দিয়ে মাছ ধরতাম অলি, মাসুম, শওকত বুড়ো, আরো কত বন্ধুর সাথে। মনু নদীর জলে পা ভিজাতাম, লাকি, শেলী, হেলেন, ঝর্নাদের সাথে। ফুলগুটি, কড়ি খেলতাম ভাইয়া, রানু, মেরীর সাথে। মুক্তিযুদ্ধের সময় নোয়ারাই গ্রামের সালেহা, আম্বিয়া, হাওয়ারুন, তোমাদের কথাও মনে আছে। ঝর্নার সাথে তাদের বাসায় যেতাম। সেই উচুনিচু পাহাড়ি পথ ধরে গল্প করতে করতে হেটে যাওয়া, কখনো পাল্লা দিয়ে ছুটে যাওয়া। নরয়েজিয়ান মিশনে থাকতো তারা। কত সময় যে সেখানে কাটিয়েছি।ঝর্নার সাথে পরে যোগাযোগ হলেও এখন আবার হারিয়ে গেছে। দু'কন্যার মা হেলেনের সাথেও পরে দেখা হয়েছিলো। কিন্তু যখন ওকে খুঁজে বের করেছিলাম তখন তার সিলেট থেকে যাবার সময় হয়ে গিয়েছিলো। ঢাকায় বাসাবোতে মায়ের বাসার পাশেই বাড়ি করেছিলো শুনেছিলাম। আমি বন্ধুদের যেমন করে খুঁজে বেড়াই ওরা কি আমায় খোঁজে? এ প্রশ্ন আমার সন্তানদের। আমি উত্তর দেই, সেটা তো তাদের ব্যাপার। আমার মন আমার বন্ধুদের খবর জানতে ব্যাকুল, এটা তো আমার ব্যাপার। অন্যে আমাকে কি চোখে দেখে তা নিয়ে তো আমি মাথা ঘামাই না। ভালোবাসার প্রতিদান আশা করিনা। আমি আমার মতই ভালোবেসে যাই। মনে আছে কুষ্টিয়ার ডোরা, ডুরিনের কথা। কতদিন, কত সময় আমরা এক সাথে কাটিয়েছি, খেলেছি, রেল লাইন ধরে অনেক দূর হেটে গিয়েছি। কুলফি মালাই, হজমি, চালতার আচার ভাগাভাগি করে খেয়েছি। তোমাদের কাউকেই আমি ভুলিনি। নাম মনে না থাকলে কি হয়েছে। তোমরা সবাই আমার মনের মনিকোঠায় সযতনে রক্ষিত আছো।আমার স্মৃতিময় সোনালি শৈশবের সাথে মিশে আছো। তোমাদের কি ভোলা যায়???
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০১১ দুপুর ১২:৫৪
৭২টি মন্তব্য ৭১টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×