ইংরেজী গান আমি শুনিইনা বলতে গেলে। বাজনার আধিক্যে কথা বোঝার কোন উপায় নেই। আর আমি এমনিতেও ইংরেজীতে বড্ড কাঁচা। টাইটানিক ছবিতে সেলিন ডিওনের সেই বিখ্যাত গানটি মাঝে মাঝে শুনি। কারন ওটাতে যন্ত্র সঙ্গিতের বাহুল্য নেই। সুরটাও মনকাড়া। আমি মানুষটা গান পাগল। তাই কথাগুলো না বুঝলেও শুনতে ভালোই লাগে।রবিন্দ্রসংগীত শোনার কান তৈরী করে দিয়েছেন আমার বাবা। বাবা নিজে খুব ভালো গান গাইতেন। তবলার হাতও ছিলো খুব ভালো। যে কোন গান শুনে বলে দিতেন ওটা কত তাল, কত মাত্রার। ভিষন ইচ্ছে ছিলো গান শেখার। মধ্যবিত্বের অনেক হাজারো অপূর্ণ শখের সাথে এ শখও হারিয়ে গিয়েছিলো।
ভাইয়া খুব সুন্দর শিষ দিয়ে গানের সুর বাজাতে পারতো। তার ভরাট গলায় গানও গাইতো অপূর্ব। ভাইয়া প্রায়ই গাইতেন, “জিম রিভস, টম জোন্স, লিওনেল রিচি, আরও অনেকের গাওয়া গান। কথা না বুঝলেও সুরগুলো মনে দাগ কেটে ছিলো। কাল রাতে হঠাৎ ইউটিউবে “ ডোণ্ট ক্রাই জনি” গানটি খুঁজতে গিয়ে টম জোন্সের গ্রিন গ্রিন গ্রাস গানটির কথা মনে পড়লো। সার্চ দিতেই পেয়ে গেলাম। শুনতে শুনতে সেই ক-ত যুগ আগে ফিরে গিয়েছিলাম। জোছনা রাতে বারান্দায় পাটিতে শুয়ে শুয়ে ভাইয়া গানটি গাইছেন। কথা না বুঝলেও সুরের আবেগে আমি তন্ময় হয়ে শুনছি। গাইতে গাইতে ভাইয়ার গলা ভিজে উঠছে। মনে হচ্ছিলো কন্ঠ যেন জোছনায় ডুব দিয়ে উঠলো। গান শেষ করে কিছুক্ষন চুপ করে থেকে ভাইয়া বললেন, “জানিস এই গানের কথাগুলোর মানে কি? আমার দিকে না ফিরেই ধ্যানমগ্নের মতো বলতে লাগলেন- “ এক ফাঁসীর আসামী তার বন্দীশালায় ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছে। সে তার গ্রামের বাড়িতে ফিরে গেছে। ট্রেন থেকে নেমে সে দেখে তার বাবা, মা, আর প্রেয়সী মেরী তাকে নিতে এসেছে। সে দেখলো তার শৈশোবের সেই পুরনো বাড়িটি সেই আগের মতই আছে। তার চারিদিকে ঢেউ খেলে যাচ্ছে সবুজ সবুজ ঘাস। সেই সবুজ ঘাসের প্রান্তরে সে হাত বুলিয়ে দিলো। হঠাৎ তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। সে দেখতে পায় সেলের কঠিন ধুসর পাথরের মেঝেতে সে হাত বুলাচ্ছে। তখন সে উপলব্ধি করে এতোক্ষন সে স্বপ্ন দেখছিলো।
কাল রাতে বার বার গানটি শুনলাম। সুরের মাঝে আমি ভাইয়ার সে বেদনাহত কন্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছিলাম। গানটি আবার আমায় কাঁদালো।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


