আমার প্রিয় পোস্ট

বাঙ্গালী জাতির গৌরবময় ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় সংস্কৃতির জন্য অপমানজনক কোনকিছু এই ব্লগে লেখা যাবে না।

যুদ্ধ শিশু '৭১ : স্বাধীনতার এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা-১

০১ লা এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:১৯

শেয়ারঃ
0 0 0

(ভূমিকা : প্রসঙ্গ যুদ্ধ শিশু। একাত্তরে আমাদের ধর্ষিতা বোনদের গর্ভের শিশু তারা। তাদের পাপ, তারা পাপের ফসল। ঠিক কী হয়েছিল তাদের নিয়ে এ নিয়ে আমার আগ্রহ অনেকদিনের। হঠাৎই পেয়ে গেলাম বীনা ডি'কস্টার একটি থিসিস। চার বছর আগে দ্য অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে উনি কাজ করেছেন এটা নিয়ে। পড়তে পড়তে যার নাম এল তিনি ডঃ জিওফ্রে ডেভিস। 72 সালে আমাদের অবাঞ্ছিত মাতৃত্বের শিকার বীরাঙ্গনাদের গর্ভপাতের দায়িত্বে ছিলেন। বীনার থিসিসটা কয়েকভাগে ভাগ করা। উনি যুদ্ধে নারীদের অসহায়ত্ব, বাংলাদেশের নারীদের সামাজিক প্রোপট, যুদ্ধে তাদের লাঞ্ছনা তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে নিয়েছেন ডেভিস ও এক বীরাঙ্গনার সাক্ষাৎকারও। এরপর পেলাম ডেভিসের নিজেরই লেখা স্মৃতিকথা 'দ্য চেঞ্জিং ফেস অব জেনোসাইড'।

দোটানার শুরুও এখানে। আমি কী কম্পাইল করে একটা স্টোরি দাঁড় করাবো? সেটাতে কী আমার আরোপিত অনেক বাক্য ঢুকে পড়বে না! বায়াসড হয়ে যাবে না লেখাটা? তারচেয়ে কী ভালো নয় বীনা এবং ডেভিসের লেখাগুলো অনুবাদ করেই তুলে ধরি। তারা বিদেশী, তাদের চোখে এবং বিচারে সবকিছুই যে স্বাধীনতার পক্ষে যাবে এমনটি নয়। তারপরও এই পথটিই বেছে নিলাম। লেখাগুলো বেশ বড়। কিছু জায়গা একেবারেই কাব্যিক বিশ্লেষণ বলে উপেক্ষা করা হয়েছে মূল তথ্যের গাথুনিতে আচড় না কেটেই। পাঠকদের ধৈর্য্যের ওপর আস্থা রাখার ঝুঁকি নিচ্ছি। কারণ তারা আমাকে নিরাশ করেননি আগে। ধারাবাহিক হবে তারপরও। আর আমার ইংরেজি তেমন সুবিধার নয় বলে অনুবাদে ভুলটা ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখার জন্য পাঠকদের প্রতি আর্তি রইল)

ওয়ার বেবিজ : দ্য কোয়েশ্চান অব ন্যাশনাল অনার / বীনা ডি'কস্টা

ইতিহাস নিয়ে তার সেই বিখ্যাত মূল্যায়নে নিয়েজশে লিখেছেন, 'আমরা আগের প্রজন্মের উত্তরসূরী বলেই তাদের দোষত্রুটি, ভুলভাল, আবেগ এবং নিঃসন্দেহে অপরাধের দায়ভারেরও ভাগীদার। এই শেকল থেকে পুরোপুরি মুক্তির সম্ভাবনা একেবারেই অসম্ভব।' ইতিহাসকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন ব্যাপারটা হচ্ছে 'ইট ওয়াজ' বচনটাকে বুঝতে পারা। কিন্তু ইতিহাস সচেতনতা একটা জটিল বিষয়। তাই সতর্ক করে বলেছেন, 'ঐতিহাসিক এবং এর বিপরীত ব্যাপারটা একই সঙ্গে একজন ব্যক্তি ও একটি সংস্কৃতির পুরো ছবিটা তুলে ধরে।' এভাবেই নিয়েজশে 'ভুলে যাওয়ার' মূল্যটাও বুঝেছিলেন। এটা তখনই হয় যখন মানুষ তার অতীতের বন্ধন থেকে পালিয়ে নতুন করে সব শুরু করে- কল্পনা ও বিনির্মাণ। বোঝার চেষ্টা করে যা সে আগে কখনও বোঝেনি। নিয়েজশে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন স্মৃতিভ্রষ্টতা নিয়েও বেচে থাকা সম্ভব, আমাদের অনেকেই তা করে। কিন্তু সব কিছু ভুলে গিয়ে বেচে থাকাটা সার্বিকভাবেই অসম্ভব।

স্বাধীন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জটা এই জটিল পরবাস্তবতার ঘেরাটোপেই বন্দী। একটি দেশ এবং একটি জাতি হিসেবেই তার অতীত ভুলে যাওয়াটা উচিত নয়। একই সঙ্গে তাকে কিছু ব্যাপার ভুলতেই হবে। তাকে মেনে নিতে হবে নিষ্ঠুর সেই নিয়তিকে, কোনো কিছু ভোলার আগে তার কথা স্মরণ করতে হয়।

1971 সালের স্বাধীনতার যুদ্ধ বাঙ্গালীর উপর জঘণ্য এক হিংসাচার। ভিটেছাড়া হওয়া থেকে শুরু করে ব্যাপক আকারে গণহত্যার মতো ব্যাপারগুলো তাদের সইতে হয়েছে। বিজয়ের পর সেই য়তির তালিকাও ব্যাপক। আমাদের আলোচনা সেই ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিশেষ একদলকে নিয়ে। প্রশ্ন হচ্ছে যারা ইতিহাসে উপেক্ষার শিকার, তাদের কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়? বিপন্না নারী থেকে শুরু করে অধস্তন সৈন্যদের সবার স্মৃতিকথা লিপিবদ্ধ করাতেই কী 1971 সালের পূর্ণাঙ্গ ছবিটা পাওয়া সম্ভব? বাংলাদেশের প েক্ষ কী আসলেই সম্ভব অতীতকে পুরোপুরি ভুলে গিয়ে সেই ক্ষত থেকে সেরে ওঠা? যদি নতুন করে ইতিহাস লেখা হয়, সেখানে কী সেটা কী শেষমেষ সম্মিলিত অতীতভ্রষ্টতায় রূপ নেবে?

যুদ্ধে গণহত্যার পাশাপাশি ধর্ষণের ব্যাপারটাও একটা স্বীকৃত আচার। বাংলাদেশই শুধু নয়, যে কোনো যুদ্ধেই একটি জাতির অস্তিত্ব ও পরিচয়কে বিপন্ন করতেই ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নারী এবং তার শরীরকে নিয়েই পুরুষরা তাদের জঘণ্যতম প্রতিহিংসাগুলো চরিতার্থ করতে পারে। শুধু ভোগেই নয়, তার মননকে চিরতরে দুঃস্মৃতিময় করে দিয়েও। এই অর্থে বীরাঙ্গনারা (স্বাধীনতা যুদ্ধে ধর্ষিতা) শুধু সেই যুদ্ধের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থই নন, নির্মমতার স্বাক্ষীও। এই প্রান্তিক নারীদের ক্ষেত্রে ধর্ম-সংস্কৃতি-আত্মপরিচয়-ইতিহাসের অবমাননা ও স্মৃতির এক জটিল সংযুক্তি ভূমিকা রাখে। এই নারীরা দুর্বল। পক্ষ ও বিপক্ষের শক্তির কাছে তারা বরাবরই অসহায়। যদিও জাতীয় ভাবমূর্তি নির্মাণের ক্ষেত্রে এদের গুরুত্ব ফেলনা নয়, কিন্তু ইতিহাসে ব্রাত্য রাখার প্রয়াসটাও অবিরাম। যুদ্ধ বিধ্বস্ত এক জাতির পুনর্গঠণে অনেক সময় তারা বোঝাও হয়ে যান।

এ প্রসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা, সমাজকর্মী, বীরাঙ্গনা ও সমাজের নানা স্তরের মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। দুটো সাক্ষাৎকার আমি প্রকাশ করছি। তবে সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে বাঙ্গালীদের ঐতিহ্য ও লোকাচার সম্পর্কে কিছুটা আভাস না দিলেই নয়।

পর্দাপ্রথা ও পুরুষদের থেকে পৃথক বিচরণের ঐতিহ্যেই অভ্যস্ত বাঙ্গালী মেয়েরা। তাইবলে পশ্চিম পাকিস্তানের মতো অতোটা ধর্মীয় অনুশাসন কখনোই ছিল না তাদের ওপর, বিশেষ করে পর্দা নিয়ে। বাঙ্গালী মেয়েরা তাদের প্রাচুর্য্যপূর্ণ সংস্কৃতিতেই বেড়ে ওঠে যা তাদের গান, সাহিত্য ও অন্যান্য অনুষঙ্গে সমপৃক্ত রেখেছে বরাবর। তাই পাকিস্তানীদের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ে মিল ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সার্বিকভাবে পাঞ্জাবিরা লম্বা-চওড়া ফর্সা, বাঙ্গালীরা বেটে-শ্যামলা। শারীরিক এই পার্থক্যই যুদ্ধ শেষে গর্ভবতী ধর্ষিতা বাঙ্গালীদের মনে বাড়তি এক মনস্তাত্তি্বক চাপ সৃষ্টি করেছিল। কারণ যে শিশু জন্মাবে, তার শারীরিক বৈশিষ্টই তাকে আলাদা করে চিনিয়ে দেবে তার পরিচয়। (চলবে)

::::http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog/24158::::

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ০১ লা এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:৩৫
সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: তাদের পাপ, তারা পাপের ফসল। এই কথাটা আমার কাছে ঠিক পরিষ্কার নয়।

তাদের পাপ---কাদের পাপ?? এই শিশুটির পাপ??
তারা পাপের ফসল--- কাদের পাপের ফসল??? এই শিশুদের মায়েদের পাপের ফসল???

০১ লা এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৩

লেখক বলেছেন: তাদের পাপ---কাদের পাপ?? এই শিশুটির পাপ?? @ na PAKI'DER paap

৩. ০১ লা এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:১৭
সেতূ বলেছেন: @লেখক-একাত্তরে আমাদের ধর্ষিতা বোনদের গর্ভের শিশু তারা। তাদের পাপ, তারা পাপের ফসল।
ভূল ভাবে লিখেছন-ঠিক করে দিন...।

বীরাঙ্গনা কোন পাপ করেনি... "ওয়ার বেবিজ " রা বীরাঙ্গনা কোন পাপের ফসল নয়।
বীরাঙ্গনাদের ক্রারি কারতে বাদ্ধ করে ছিল পাকিরা- ৮-১০ মাস আটক রেখে। বীরাঙ্গনাদের মৃত্যুর/আত্হত্তারও সুযোগ দেয় নি পাকিরা।

"ওয়ার বেবিজ "

৭১ মুক্তিযুদ্ধ পর দেশ স্বাধীন হলো। সকলে মুখে বড় বড় বুলি।
আজ পর্যন্ত "ওয়ার বেবিজ"-দের কোন সরকার সঠিক ভাবে স্বিকৃতি/মূল্যায়ন- করেনি।

সকলে দল লুকুচুরি খেলে বা খেলছে ও পাপীদের কাধে কাধ মিলিয়ে মায়া কান্না- কানছে..........
৪. ০২ রা এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৬:১০
আলী প্রাণ বলেছেন: আমি অনেককে গালি দিতে শুনেছি ..বাহাত্তইরগা!

সবকিছুর একটা সীমা থাকে, যাদের ইজ্জতের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন তাদের সন্তানের এই স্বীকৃতি!

তাদেরকে মূল্যয়নের নামে আরো আবর্জনার তিলক লাগানোর গান গাওয়া হলে আরো লজ্জাজনক হবে।

ভালো থাকুক ওরা, বীরঙ্গনার সন্তান হয়ে বীরের বেশে।

লেখককে ধন্যবাদ।

ভালো থাকবেন।
০২ রা এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৫১

লেখক বলেছেন: ভালো থাকবেন।

৫. ০৩ রা এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:০৫
সুবিদ্ বলেছেন: আমার কাছে সবসময়ই মনে হয় আমরা আমাদের বীরাঙ্গনাদের প্রতি যে অন্যায়টা করেছি, তার কোন ক্ষমা হতে পারেনা.......তাই মাঝে মাঝে সব চেতনা/বুলিকে আমার মেকি আর অর্থহীন মনে হয়

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২১৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
© ALI 2009, ALL Rights Reserved
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ