শব্দ ব্যবহারের কুচিন্তায় যোগসাধনের ষড়যন্ত্র ইহুদী নাছারাদের ঐতিহ্যগত প্রবৃত্তি।স্বয়ং রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সময়ও ইহুদী নাছারাদের এরূপ ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার ছিল।
কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা রঈনা বলোনা, উনজুরনা বল এবং শ্রবণ কর। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।"
আয়াতের শানে নযুলে বলা হয়েছে, ইহুদীরা রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেবার জন্য রঈনা শব্দ ব্যবহার করত যার একাধিক অর্থ। একটি অর্থ হল "আমাদের দিকে লক্ষ্য করুন" যা ভাল অর্থে ব্যবহার হয় আর খারাপ অর্থ হল "হে মূর্খ, হে মেষ শাবক" এবং হিব্রু ভাষায় একটি বদ দুয়া।
ইহুদীরা রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রঈনা বলে সম্বোধন করত। যাতে প্রকৃতপক্ষে তাদের উদ্দেশ্য ছিল খারাপ অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করা। আর ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ রঈনা শব্দের ভাল অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করলে ইহুদীরা খারাপ অর্থ চিন্তা করে হাসাহাসি করত। এতে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কষ্ট পেতেন তবুও কিছু বলতেন না কেননা। আল্লাহু পাক-এর রসূল হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহী ছাড়া কোন কথা বলতেন না। যেমন কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে, "তিনি (হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওহী ব্যতীত নিজের থেকে মনগড়া কোন কথা বলেন না" (সূরা নজম-৩,৪)
এর ফলশ্রুতিতে আল্লাহু পাক কুরআন শরীফের আয়াত নাযিল করে রঈনা শব্দের বদলে
উনজুরনা শব্দ ব্যবহার করতে বললেন। কারণ রঈনা শব্দ ভাল-খারাপ উভয় অর্থে ব্যবহার হলেও উনজুরনা শব্দ শুধুমাত্র ভাল অর্থে ব্যবহার।
তাই যে সকল শব্দের ভাল-খারাপ উভয় অর্থে ব্যবহার হয়, সে সকল শব্দের পরিবর্তে
উপরোক্ত আয়াত মুতাবিক ওটার সমার্থক অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করতে হবে, যা শুধুমাত্র ভাল অর্থেই ব্যবহার হয়।
উপরোক্ত শব্দ নিয়ে ইহুদী খ্রিষ্টানদের এরূপ ষড়যন্ত্র এখন আগের চেয়ে কমেনি বরং বেড়েছে।
উল্লেখ্য ইহুদী খ্রিষ্টানদের কাছে ইংরেজী ৭ সংখ্যাটি বিশেষ আদরণীয় ও মূল্যায়নযোগ্য সংখ্যা।
ইহুদীদের কাছে ৭ সংখ্যা সমাদৃত কারণঃ
১। তাদের কথিত GOD ৭ম দিনকে পবিত্র করে সেদিনে বিশ্রাম গ্রহণ করেন।
২। তাদের দৃষ্টিতে পবিত্রতা অর্জনের জন্য ৭ দিনের প্রয়োজন।
৩। তাদের স্যাবাটিকেল প্রতি ৭ বছরে একবার আগমন করে।
৪। তাদের জুবিলী বছর ৭ বার সত্তর বছর পূর্ণ হওয়ার পর আগমন করে।
৫। তাদের তাওরাত শরীফে ৭ বার ও ৭ সপ্তাহের কথা বলা হয়েছে।
৬। ইহুদীদের বিয়ে অনুষ্ঠানে ৭টি স্লোত্ববাক্য পাঠ করা হয়ে থাকে।
৭। তাদের বিয়ের পর ৭দিন উৎসব পালিত হতো।
৮। তাদের কাছে ৭ জন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বঃ
(১) Abraham (হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম)
(২) Isaac (হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম)
(৩) Jcob (হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম)
(৪) Moses (হযরত মূসা আলাইহিস সালাম)
(৫) Jesus (হযরত ঈশা আলাইহিস সালাম)
(৬) David (হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম)
(৭) Joseph (হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম)
৯। তাদের কথিত GOD ইহুদীদেরকে বলেন যে, " তোমরা যখন ইসরাঈলে প্রবেশ করবে তখন ৭টি জাতিকে স্থানচ্যূত করবেঃ (১) হিট্টি (২) গিরগেসাইট (৩) অ্যামোরাইট (৪) ক্যানানাইট (৫) পেরিজাইট (৬) হিভাইট (৭) জেবুসাইট।
১০। তাদের প্রথানুযায়ী মুখমন্ডলে ৭টি গহ্ববরঃ দু' চোখ, দু' নাসারন্ধ্র,দু' কান এবং মুখ
১১। তাদের ধর্মীয় দৃষ্টিতে ৭ শাখা বিশিষ্ট ঝাড়বাতি জ্বালানো হয়।
১২। ১৯৪৭ সালের ৭ম মাসের ৭ম দিনে ইউরোপের ইহুদীরা এক্সোডাস জাহাজে ফ্রান্স হতে ইসরাঈলের উদ্দেশ্যে পাড়ী জমিয়েছিলো।
খ্রিষ্টানদের কাছে ৭ সংখ্যা সমাদৃত কারণঃ
১। খ্রিষ্টানদের কাছে ৭ সংখ্যা সপ্ত মানবগুন সংখ্যা নিদর্শক। যথাঃ (১) সতীত্ব (২) সংযম (৩) বদান্যতা (৪) পরহিতকরণ (৫) ধৈর্য্যশীলতা (৬) উদ্দীপনা (৭) নম্রতা
২। তাদের দৃষ্টিতে ভয়াবহ পাপের সংখ্যা ৭।
৩। প্রতিটি পাপের জন্য পারগ্যাটোরী পর্বতে রয়েছে ৭টি বেদী।
৪। নিউ টেস্টামেন্ট " ম্যাথিউ অব গসপেল"(১৮:২১) অধ্যায়ে পিটারের প্রতি কথিত যিশুর নির্দেশ ছিলো, ৭বার করে সত্তর বার ক্ষমা করার।
৫। তাদের মতে, Mary (হযরত মরিয়ম আলাইহিস সালাম)-এর জন্য ৭টি আনন্দ ছিল। যথাঃ (১) পুর্নজন্ম (২) পাদ্রি কতৃক দর্শন (৩) যিশুর জন্ম যিশুর জন্য নৈবদ্য আনয়নকারী (৪) পূর্বদেশের তিন জ্ঞানী ব্যক্তি (৫) জেরুজালেমের মন্দিরে যিশুপ্রাপ্তি (৬) খ্রিস্টের পুনরুথ্থান (৭) হযরত মরিয়ম আলাইহিস সালাম-এর জান্নাতে প্রবেশ।
৬। লিউক অব গসপেল অনুযায়ী যিশুর পথ ৭৭তম সরল পথ।
অতএব মুসলমানদের এখন সময় এসেছে নিজের ঈমান ও ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে সচেতন হওয়ার। নিজেদের ঐতিহ্য এবং বিধর্মীদের ফাঁক সম্পর্কে সচেতন হওয়ার।
সংখ্যা হিসেবে ৭ -এর কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু ইহুদী নাছারারা যে অর্থে ৭ কে লাকি বলে, সেদিক হতে ৭ই আনলাকি এবং ১৩ই লাকি। কারণ ৭ হলো তাদের(ইহুদী নাছারাদের) GOD এর G-এর সাথে সম্পৃক্ত। {G ইংরেজী বর্ণমালার ৭তম বর্ণ}
উল্লেখ্য, GOD বিশ্বাস করার অর্থ হলো শিরক করা। কারণ GOD এর রয়েছে GODDESS। এতে আল্লাহ পাকের সাথে শরিক করা হয়। যে শিরক করবে সে জাহান্নামী আর জাহান্নামী হওয়াটাই আনলাকি বা বদনছসীবের বিষয়।
অন্যদিকে ১৩ হল নুরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সম্পৃক্ত সংখ্যা। { M ইংরেজী বর্ণমালার ১৩তম বর্ণ}
আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্মান করা আল্লাহ পাকের নির্দেশ। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে সম্মান করবে সে জান্নাতী। আর জান্নাতী হওয়া হলো সৌভাগ্যের লক্ষণ। সে হিসেবে ১৩তম সংখ্যাকে (M) সম্মান ও মুহব্বত করা সৌভাগ্যের বা লাকী হওয়ার বিষয়।
কুরআন শরীফে আল্লাহ পাক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রেরণ সম্পর্কে ইরশাদ করেন,
" নিশ্চয়ই আমি আপনাকে রহমত ব্যতিরেকে প্রেরণ করি নাই"
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু আল্লাহ পাক নন বাকী সব কিছু। আল্লাহ পাকের হাবীব সমস্ত নিয়ামত বন্টনকারী,উম্মতের কান্ডারী, তার জিসম মুবারক যে মাটি স্পর্শ করেছে তার মর্যাদা আরশের চেয়ে বেশী। সুবহানাল্লাহ।"
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনার্থেই ইহুদী নাছারাদের প্লেনে, রেলে, জাহাজে, হোটেলে ১৩ নং কোন সিট বা রুম থাকে না । এর মুল কারণ হলো ইংরেজী M তথা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর প্রতি বিদ্বেষ।
তাই সবার প্রতি আকূল আবেদন,
LUCKY SEVEN UNLUCKY THIRTEEN নয় বরং
UNLUCKY SEVEN LUCKY THIRTEEN
এই ধারণা পোষণ করুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



