somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাজার শরীফ যিয়ারত

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে, “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে (নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে) সফর করোনা। মসজিদুল হারাম, মসজিদুল আক্বসা ও আমার এই মসজিদ (মসজিদুন্‌ নববী)।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
এই হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিম্নোক্ত হাদীস শরীফখানা বর্ণনা করেন, “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কোন ব্যক্তি যদি ঘরে নামাজ পড়ে তবে তার এক নামাজে এক নামাজের সওয়াব পাবে। আর যদি পাঞ্জেগানা মসজিদে নামাজ পড়ে তবে এক নামাজে ২৫ নামাজের সমান সওয়াব পাবে। আর যদি জুমুয়ার মসজিদে এক নামাজ পড়ে তবে ৫০০ নামাজের সওয়াব পাবে আর যদি মসজিদুল আক্বসায় এক নামাজ পড়ে তবে ৫০ হাজার নামাজের সওয়াব পাবে। আর মসজিদুন্‌ নববীতে যদি এক নামাজ পড়ে তবেও ৫০ হাজার নামাজের সওয়াব পাবে। আর যদি ক্বাবা শরীফে এক নামাজ পড়ে তবে ১ লাখ নামাজের সওয়াব পাবে।” (ইবনে মাযাহ, মিশকাত)
এছাড়াও মসজিদে কুবায় দু’রাকাত নামাজ আদায় করলে এক ওমরার সওয়াব হয়। যেমন হাদীস শরীফে এসেছে, “যে ব্যক্তি মসজিদে কুবায় দু’রাকাত নামাজ আদায় করবে সে এক ওমরার সওয়াব পাবে।” (নাসাঈ, আহ্‌মদ)
এ প্রসঙ্গে অন্য হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে, “হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক শনিবার মসজিদে কুবায় গমন করতেন হেটে অথবা সওয়ার হয়ে এবং ওখানে দু’রাকাত নামাজ আদায় করতেন।” (মুত্তাফাক আলাইহি)
শেষোক্ত হাদীস শরীফদ্বয় হতে এটা সুস্পষ্ট যে, প্রথমোক্ত তিন মসজিদ ছাড়াও চতুর্থ মসজিদ- মসজিদে কুবায় ফযীলত হাছিলের জন্য নিয়ত করে সফর করা জায়িয বরং সুন্নতের অন্তর্ভূক্ত। তাই শুধুমাত্র এ চার মসজিদে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে সফর করা জায়িয। যেমন আল্লামা মুহম্মদ হাসান শাহ্‌ মুহাজিরে মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি সর্বপ্রথম উল্লিখিত হাদীস শরীফটির ব্যাখ্যায় বলেন, “এর মর্ম হলো জীবিতদের জন্য ফায়দাদায়ক। বরকত হাছিলের জন্য এ তিন মসজিদ ব্যতীত অন্যত্র সফর করা বিধেয় নয়। কেননা বাকী মসজিদগুলো বরকত হাছিলের দিক দিয়ে সমান। এছাড়া অপরাপর স্থানে সফর করা নিষেধ নয়। যেমন- আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপনের জন্য, ইল্‌ম অর্জনের জন্য, বুজুর্গগণের যিয়ারতের জন্য, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রওজা মুবারক, হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম-এর মাজার শরীফ যিয়ারত ও সমস্ত ইমামগণের মাজার শরীফসমূহ যিয়ারত করা নিষিদ্ধ নয়।”
হাফিজে হাদীস, শায়খ আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উল্লিখিত হাদীস শরীফটির ব্যাখ্যায় বলেন, “এ হুকুমের উদ্দেশ্য হলো শুধু মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত। এ মসজিদত্রয় ব্যতীত অন্যান্য মসজিদে নামাজের জন্য সফর করা নিষিদ্ধ। তবে যদি মসজিদ ব্যতীত সালেহ্‌গণের (কবর বা মাজার) যিয়ারত, জীবিতগণের সাথে সাক্ষাৎ, ইল্‌ম অর্জন, ব্যবসা ও ভ্রমনের জন্য সফর করে তা এ হাদীস শরীফের হুকুমের অন্তর্ভূক্ত হবে না।” (ফত্‌হুল বারী ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা-৬৫)
ইমামুল মুহাদ্দিসীন শায়খ আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উল্লিখিত হাদীস শরীফটির ব্যাখ্যায় শরহে সুয়ূতী কিতাবে বলেন, “এটা শুধু মসজিদের জন্যই খাছ।”
উল্লিখিত হাদীস শরীফটির ব্যাখ্যায় আল্লামা মুহম্মদ ইউসুফ নিব নূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “জমহুর উম্মত-এর মাযহাব হলো রওজা মুবারক যিয়ারত করা উত্তম ইবাদত, আর নিয়ত করে সফর করা শুধু জায়িযই নয় বরং মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে সকলেই একমত এতে কোন প্রকার অসুবিধা নেই।” (মাআরিফুস সুনান, শরহে তিরমিযী ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা-৩২৯)
সুতরাং অধিক ফযীলতের কারণে শুধু এ চারটি মসজিদে সফর করার জন্য অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। আর অন্যান্য সকল মসজিদে নামাজ আদায়ের ফযীলত সমান হওয়ার কারণে তাতে সফর করা নিষেধ করা হয়েছে। কবর বা মাজার শরীফ যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করতে নিষেধ করা হয়নি। মূলতঃ কবর বা মাজার যিয়ারতের সাথে এই হাদীস শরীফের কোন সম্পর্ক নেই। কেননা যদি উপরোক্ত হাদীস শরীফখানা কবর বা মাজার যিয়ারত সংক্রান্ত হতো তাহলে আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই কবর বা মাজার শরীফ যিয়ারত করতেন না এবং এ ব্যাপারে সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে নির্দেশও দিতেন না। হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে, “হযরত ইবনে আবি শায়বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বছরান্তে ওহুদের শহীদগণের মাজার শরীফ যিয়ারত করতে আসতেন। অতঃপর বলতেন, তোমাদের প্রতি সালাম, যেমন তোমরা ধৈর্য্যধারণ করেছিলে, তেমনি পরকালে উত্তম বাসস্থান লাভ করেছ।” (ফতওয়ায়ে শামী) অনূরূপভাবে তিনি বদরের শহীদগণের মাজার শরীফও যিয়ারত করতে আসতেন।
এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে আরো বর্ণিত আছে, “হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, একবার সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর আম্মার মাজার শরীফ যিয়ারত করতে গেলেন, তখন তিনি নিজে কাঁদলেন আর তাঁর চতুর্দিকের লোকদেরকে কাঁদালেন। অতঃপর বললেন, আমি আমার প্রতিপালক-এর নিকট তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য অনুমতি চেয়েছিলাম কিন্তু তিনি (আল্লাহ পাক) আমাকে উহার অনুমতি দিলেন না। অতঃপর আমি তাঁর মাজার শরীফ যিয়ারত করার অনুমতি চেয়েছিলাম আর আমাকে অনুমতি দেওয়া হলো। সুতরাং তোমরা কবর বা মাজার শরীফসমূহ যিয়ারত করবে। কেননা উহা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।” (মুসলিম শরীফ)
এর দ্বারা প্রমাণিত হলো, আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই কবর বা মাজার শরীফ যিয়ারত করেছেন এবং যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফরও করেছে। শুধু তাই নয়, সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে নির্দেশও দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে, “হযরত বুরাইদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর বা মাজার শরীফ যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা করতে পারো।” (মুসলিম শরীফ)
এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে আরো বর্ণিত আছে, “হযরত ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর বা মাজার শরীফ যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা করতে পারো। কেননা উহা দুনিয়ার আসক্তি কমায় এবং আখিরাতের স্মরণ করায়।” (ইবনে মাযাহ শরীফ)
আর তাই খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত আবূ বকর সিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও আমিরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই ধারাকে বজায় রেখেছিলেন। (উমাদুল ফিক্বাহ) হযরত উছমান যুন্‌ নূরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুও কুফায় চলে যাওয়ার পূর্বে যতদিন মদীনা শরীফে ছিলেন ততদিন প্রতি বছর বদর ও ওহুদের শহীদগণের মাজার শরীফ যিয়ারত করতে আসতেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, ওহুদ মদীনা শরীফ থেকে পৌনে ২ মাইল এবং বদর ৮০ মাইল দূরে অবস্থিত। এতদ্বসত্বেও আল্লাহ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত খুলাফা-ই-রশিদীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ শুধুমাত্র যিয়ারতের উদ্দেশ্যে বা নিয়তে সেখানে যেতেনআরো উল্লেখ্য যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর আম্মার মাজার শরীফ যিয়ারত সম্পর্কিত হাদীস শরীফটি যখন বর্ণনা করেন, তখন তিনি মদীনা শরীফেই ছিলেন আর তাঁর আম্মা ইন্তেকাল করেন আবওয়া নামক স্থানে যখন তাঁর বয়স মুবারক ৬ বছর। আর সেখানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। আবওয়া নামক স্থানটি মক্কা শরীফ হতে মদীনা শরীফ গামী পথের পার্শ্বস্থ কিনানার বানু দামবা এলাকায়, আল জুহফা হতে প্রায় ২৩ মাইল দূরে অবস্থিত একটি স্থান। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাতা হযরত আমিনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা নিজ পিত্রালয় মদীনা শরীফ হতে মক্কা শরীফ ফিরার পথে এ স্থানে ইন্তেকাল করেন এবং এখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। কিন্তু কারো কারো মতে তাঁকে মক্কা শরীফে সমাহিত করা হয়। (তারাবী ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা-৯৮০)
আবওয়া হোক আর মক্কা শরীফ হোক হযরত আমিনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর মাজার শরীফ যে মদীনা শরীফ হতে অনেক দূরে ছিল তাতে কোন সন্দেহ নেই। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দীর্ঘপথ (যদি আবওয়া হয় তবে প্রায় ২৩ মাইল আর যদি মক্কা শরীফ হয় ধরা হয় তবে প্রায় ২০০ মাইল) একমাত্র তাঁর আম্মার মাজার শরীফ যিয়ারতের উদ্দেশ্যে বা নিয়তে গমন করেছিলেন অন্য কোন কারণে নয়।

বিখ্যাত হাদীস শরীফ বিশারদ আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেন, “সাইয়্যিদাহ্‌ ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা প্রতি শুক্রবার হযরত হামযাহ্‌ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মাজার শরীফ যিয়ারত করতে যেতেন, অনূরূপ হযরত আয়িশা সিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা স্বীয় ভ্রাতা আব্দুর রহমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মাজার শরীফ যিয়ারত করার জন্য মক্কা শরীফ যেতেন।” (উমাদুল ক্বারী ফি শরহে বুখারী)
শুধু তাই নয়, যাঁরা ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম তাঁরাও মাজার শরীফ যিয়ারত করতেন। যেমন এ প্রসঙ্গে “আন্‌ নাসিয়াতুলিল ওহাবী” কিতাবে উল্লেখ আছে, “হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি শাফিয়ী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা তিনি যখন কোন মাসায়ালার বিষয়ে সমস্যার সম্মুখিন হতেন তখন তিনি ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মাজার শরীফে এসে যিয়ারত করে সেখানে হানাফী মাযহাব মুতাবিক দু’রাকাত নামাজ পড়তেন। অতঃপর ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর উসিলা দিয়ে আল্লাহ পাক-এর দরবারে তাঁর সমস্যার কথা জানাতেন। আল্লাহ পাক সাথে সাথে তাঁর দু’য়া কবুল করতেন। অর্থাৎ মাসায়ালার যে সমস্যার জালে আবদ্ধ হয়ে তিনি সেখানে যেতেন ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর উসিলার বরকতে তা খুলে যেত। অতঃপর তিনি সুদূর বাগদাদ শরীফ থেকে স্বীয় স্থান ফিলিস্তিনে প্রত্যাবর্তন করতেন। উল্লেখ্য ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর এ আগমণ শুরু হতো ফিলিস্তিন থেকে, আর এই সুদূর ফিলিস্তিন থেকে আগমণের একমাত্র নিয়ত ছিল মাজার শরীফ যিয়ারত। অন্য কোন উদ্দেশ্যে বাগদাদে এসে মাজার শরীফ যিয়ারত নয়।”
আরো উল্লেখ্য যে, ইমামে রব্বানী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সুলত্বনুল হিন্দ হযরত মুঈনুদ্দীন চিশ্তী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মাজার শরীফ যিয়ারত করতে গিয়েছিলেন। আর এতে মাজার শরীফ যিয়ারত ভিন্ন অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। (সীরাতে মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি)
অতএব, প্রমাণিত হলো যে, কবর বা মাজার শরীফ যিয়ারত করা কিম্বা কবর বা মাজার শরীফ যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে সফর করা উভয়টি সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুন্নতে খুলাফা-ই-রশিদীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম প্রত্যেকেরই খাছ সুন্নতের অন্তর্ভূক্ত। হাদীস শরীফে আরো এসেছে, “তাবেয়ী মুহম্মদ বিন নুমান রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক শুক্রবার আপন মা-বাবার অথবা তাঁদের একজনের কবর যিয়ারত করবে, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং মা-বাবার সাথে সদ্বব্যবহারকারী বলে লিখা হবে।” (বায়হাক্বী শরীফ)
এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে যে, কবর বা মাজার শরীফ যিয়ারত করতে গিয়ে যাতে শরীয়ত বিরোধী কোন কার্যকলাপ সংঘটিত না হয়। এটা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য। শরীয়ত বিরোধী কোন কার্যকলাপ বলতে কবরস্থান বা মাজার শরীফে গিয়ে সিজদা করা, গান বাজনা করা, মহিলা পুরুষের বেপর্দা চলাফেরা ইত্যাদি কার্যকলাপ মূলতঃই হারাম। কোথাও যদি শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ হয়, এজন্য কবর বা মাজার শরীফ যিয়ারত হতে লোকদেরকে বিরত করা, মাজারের বিরুদ্ধে কোন ফতওয়া দেয়া যাবে না বরং যাতে ঐ সমস্ত কবর বা মাজার শরীফে শরীয়ত বিরোধী কোন কার্যকলাপ সংঘটিত না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এ প্রসঙ্গে হাফিজে হাদীস, শায়খ আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “সেখানে যদি শরীয়ত বিরোধী কাজ পরিলক্ষিত হয়, যেমন মহিলা পুরুষের একত্র মিশ্রণ, তথাপি কবর বা মাজার শরীফ যিয়ারত ত্যাগ করা যাবে না বরং মানুষের এরূপ নব উদ্ভাবিত (বিদায়াত) কাজকে দূর করতে হবে।” (দুররুল মুখতার ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা-২৪২)
কিছু সংখ্যক লোক বলে থাকে যে, মুস্তাহাব আমলের ভিতর বিদায়াত প্রবেশ করলে মুস্তাহাব আমলকে ছেড়ে দিতে হবে, বস্তুত তাদের এই কথাটি শুদ্ধ নয়। এর দলীল হচ্ছে আশুরার রোজা। আশুরার রোজা ১০ই মুহররম একটি রাখার নিয়ম ছিল, কিন্তু যখন হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ বললেন যে, ইহুদীরাও ১০ই মুহররম একটি রোজা রেখে থাকে, তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা আশুরার দিন রোজা রাখ এবং তার পূর্বে একদিন অথবা পরে একদিন রোজা রেখে ইহুদীদের খিলাফ করো।” (মুসনাদে আহমদ)
এখানে বিদয়াত তো দূরের কথা, তাশাব্বুহ বা মিল হারাম হওয়া সত্ত্বেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরার রোজাকে বাদ দিলেন না, বরং মূল আমলকে ঠিক রেখে তার তাশাব্বুহ দূর করে দিলেন আরেকটি রোজা রাখার নির্দেশ দিয়ে।
বর্তমানে কবর বা মাজার শরীফ যিয়ারতের ব্যাপারে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে যে, কিছু সংখ্যক লোক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মাজার শরীফের নামে অপকর্ম চালিয়ে আসছে। এ সমস্ত হীন চক্রান্তকারীদের দৌরাত্ম্য এতটা বৃদ্ধি পেয়েছে যে, যেখানে কবরের চিহ্নমাত্র নেই সেখানে কৃত্রিম কবর বানিয়ে মানুষের ঈমানকে হরণ করার কাজে মেতে উঠছে। খোঁজ-খবর নিলে জানা যাবে যে, এ সমস্ত মাজার শরীফের কোন ভিত্তি নেই। বিশেষ করে বটতলাই এই শয়তান ভন্ডদের গায়েবী ? মাজার পাওয়া যায়। তাই এ সমস্ত ক্ষেত্রে কাজ হলো প্রকৃত মাজার শরীফ সনাক্ত করে তদারক করা, আর যেগুলোর মৌলিকত্ব নেই অর্থাৎ কৃত্রিম, তার উচ্ছেদ করে শয়তানী শিকড় উৎপাটন করা।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৯
১৩টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা ধর্ম আল্লাহ'র মত করে পালন করিনা, করি আমাদের নিজেদের মত করে!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২২ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩৯


পবিত্র কোরআন-এ শূকরের মাংস খেতে নিষেধ করা হয়েছে চারটি জায়গায়। কিন্তু দেখুন, আমরা মুসলমানরা এই নির্দেশটি আজ পর্যন্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আসছি। পৃথিবীর প্রায় সব মুসলিমকে আপনি চেষ্টা করলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোন অতল অন্ধকার গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে দেশ

লিখেছেন অর্ক, ২২ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪২




নাহ, আইনের শাসন নেই! চারিদিকে হত্যা ধর্ষণসহ বিভিন্ন জঘণ্য অপরাধ ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। যে কোনও সমাজ রাষ্ট্র জাতির জন্যই অশনি সংকেত। কোথায় যাচ্ছি আমরা? কোন অন্ধকার অতল গহ্বরে তলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯১

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে মে, ২০২৬ রাত ১২:১৮



রামিসার ঘটনা নিয়ে আমার মনটা ভালো নেই।
গতকাল সারারাত আমি ঘুমাইনি। ঘুম আসেনি। কেমন দম বন্ধ হয়ে আসছিলো! আমার কন্যা আমার পাশে গভীর ঘুমে। রামিসার চেয়ে আমার কন্যা আড়াই... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারিয়ে যাওয়া এক সময়ের খোঁজে

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে মে, ২০২৬ রাত ১:৫২



একটা সময় ছিলো প্রচুর শপিং করতাম। কিছু একটা মন চাইলে কিনে ফেলতাম। আমার সংগ্রহে Zara-এর ২৮ হাজার টাকার জুতাও ছিলো। এখনো আছে — তবে চামড়া নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার মুভি সিরিজ - "ইন্ডিয়ানা জোনস"

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৩ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

হলিউড ইতিহাসের অন্যতম সফল, জনপ্রিয় এবং কালজয়ী অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার মুভি সিরিজ হচ্ছে ইন্ডিয়ানা জোনস (Indiana Jones)


এই সিরিজের মূল চরিত্র "হেনরি ইন্ডিয়ানা জোনস জুনিয়র" এর ভূমিকায় অভিনয় করেন আমার পছন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×