আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন, “আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে ফিৎনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করো না। তখন তারা বলে, আমরা তো শান্তির পথ অবলম্বন করেছি। মনে রেখো, তারাই ফিৎনা সৃষ্টিকারী; কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না।” (সূরা বাক্বরা ১১-১২)
উপরোক্ত আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কাফির-মুশরিকরা তাদের নিজেদের স্বার্থ হাছিলের লক্ষ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকমের সমস্যা সৃষ্টি করে রেখেছে। ইরাক ও আফগানিস্তানে তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা এবং সম্পদ লুট করে যাচ্ছে। অথচ তারা বলে, সে দেশগুলোতে তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে শান্তি আনতে চায়। আবার মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে যেখানে তাদের অনুসারী শাসক রয়েছে সেখানে তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শব্দও উচ্চারণ করে না। এছাড়াও যে সকল দেশে তাদের আধিপত্য বিস্তার করা কঠিন সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে তাদের প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের সৈন্য মোতায়েন করে রাখে। এই সৈন্য স্থাপনের পিছনে থাকে তাদের সম্পদ লুন্ঠন, মানুষ হত্যা আর দেশ দখলের স্বপ্ন। অথচ এরা পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের নামে ফিৎনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। কাফির-মুশরিকদের এ সকল হীন প্রচেষ্টার একটি হচ্ছে এদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের নামে তাদের মন মত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। তাদের এই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তৈরী হচ্ছে ছবিযুক্ত ভোটার কার্ড ও আইডি কার্ড। অথচ ছবি আকাঁ বা তোলা হারাম, অন্য দিকে ছবির পরিবর্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরী শরীয়তসম্মত ও সবচেয়ে আধুনিক।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বোমা হামলার সাথে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, এ বিষয়টি এখন আর কারো অজানা নয়। আফগানিস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনীর হামলার পিছনে ‘আল কায়দা’ ছিল একটি উপলক্ষ মাত্র। ‘আল কায়দা’ যুক্তরাষ্ট্রেরই সৃষ্ট একটি দল। অথচ এ যাবৎ পাকিস্তানের, ইয়েমেনের এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মুসলমান নাগরিক ‘আল কায়দা’র সদস্য এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বোমা হামলার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারের পর মিডিয়াতে তাদের ছবি এসেছে, নাম এসেছে কিন্তু তারপরের ইতিহাস মানুষের জানা নেই। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ঘটনার সাথে জড়িত এক ব্যক্তির ছবি ছাপা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাতীয় দৈনিকে। পরে জানা গেল, সে ব্যক্তি পাকিস্তানের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। যে কখনই বিদেশ ভ্রমণ করেনি এবং পাসপোর্ট তৈরীর জন্য সে ছবিসহ প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র জমা দিয়েছিল মাত্র।
স্রেফ রাজনৈতিক কারণে ছবি ব্যবহারে কিছু ফায়দা আছে কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্টের কারণের সে সুবিধাটুকু সব সময় ব্যবহার করা যায় না। উদাহরণ হিসেবে ব্রেন্ডন মেফিল্ড-এর ঘটনা বর্ণনা করা যায়। ব্রেন্ডন মেফিল্ড একজন আইনজীবী যাকে স্পেনের মাদ্রিদে বোমা বিস্ফোরণের কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের FBI (Federal Bureau of Investigation) মেফিল্ড-এর ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে আসামীর ফিঙ্গারপ্রিন্টের মিল খুঁজে পায় এবং এ ব্যাপারে তারা ১০০ ভাগ নিশ্চিত বলে দাবী করে। কিন্তু স্প্যানিশ জাতীয় পুলিশ আলাদাভাবে পরীক্ষা করে ব্রেন্ডন মেফিল্ড-এর ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে আসামীর ফিঙ্গারপ্রিন্টের মিল খুঁজে পায়নি। এ ব্যাপারে FBI তাদের ভুল স্বীকার করে এবং ২ সপ্তাহ পর ২০০৪ সালের মে মাসে ব্রেন্ডন মেফিল্ডকে মুক্তি দেয়। ব্রেন্ডন মেফিল্ডকে FBI ২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণও দেয়। পদ্ধতির কোন ত্রুটির কারণে মেফিল্ডকে ভুলভাবে শনাক্ত করা হয়েছিল তা নয়। বিষয়টি ঘটেছিল FBI–এর তদন্তকারী অফিসারের মানসিকতার কারণে। আমেরিকাতে জন্মগ্রহণকারী মেফিল্ড ইসলাম কবুল করেছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী ছিল মিশরীয়। একটা রাজনৈতিক ফায়দা হাছিলের উদ্দেশ্যে অন্ধ, বদ্ধমূল ধারণা FBIকে একটি ত্রুটিপূর্ণ ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিপোর্ট প্রকাশে প্রভাবিত করেছিল। যেহেতু ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিপোর্টে জালিয়াতি করা কঠিন তাই মেফিল্ড মুক্তি পেয়েছিলেন। ফিঙ্গারপ্রিন্টের কারণে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার বিষয়টি বাধাগ্রস্থ হয়। দাড়ি, টুপি বিশিষ্ট একজন ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী বানিয়ে তার ছবি প্রকাশ করে ‘আল কায়েদা’র সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা সহজ; কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্টে বিষয়টি তেমন সহজ নয়। রাজনৈতিক ফায়দা হাছিলের জন্য কখনো কোন কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ক্ষমতাসীন দলকে অন্যায় সহযোগীতা দিয়ে থাকে। যেমনটা করেছিল CIA ইরাক আক্রমণের ক্ষেত্রে। জানা গেছে কোন দেশের বিশেষ শ্রেণী গোষ্ঠীর উত্থান, আন্দোলন বা বিপ্লব ঠেকাবার লক্ষ্যেও সেই বিশেষ কমিউনিটিতে সরকারী গোয়েন্দা সংস্থা ড্রাগ চোরাচালান করে। উদ্দেশ্য, যুবক শ্রেণীকে ড্রাগে আসক্ত করে রাখা। এসব ক্ষেত্রে মূল অপরাধীরা কখনই ধরা পড়ে না। বরং মূল অপরাধীর পরিবর্তে ভিন্নজনের ছবি ছাপিয়ে, অপরাধী বানিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিকে ঘুরিয়ে দেয়া হয়। বিশেষ গোষ্ঠী বা বিরোধী দলকে ঘায়েল করতে কখনও কোন কোন দেশের সরকারী দল নিজেই অস্ত্র চোরাচালান, বোমাবাজী, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে থাকে। সেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতি দেশে চালু থাকলে এ ধরনের রাজনৈতিক ফায়দা লাভে সমস্যা হয়। অথচ ছবির ব্যবহার থাকলে ইচ্ছামাফিক যে কাউকে অপরাধী বানিয়ে মিডিয়াতে প্রচার করা সহজ।
বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসীদের প্রবেশাধিকার ঠেকাবার জন্য বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় স্থানে স্ক্যানিং মেশিন ব্যবহার করা হয়। পূর্বে এ সকল স্ক্যানিং মেশিনগুলোতে ছবির ব্যবহার হতো। রাজনৈতিক ফায়দা হাছিল ছাড়া মেশিনে ছবি দিয়ে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে দু’ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
১) যারা সন্ত্রাসী বা অপরাধী নয় তারাও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। এ রিপোর্টকে বলা হয় False Positive। অর্থাৎ সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করতে পেরেছে বলে মেশিনে একটি রিপোর্ট দেয় অর্থাৎ Positive Report কিন্তু ভুল তথ্য দেয়ায় একে বলা False Positive।
২) ছবি দিয়ে মূল সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করতে সিস্টেম ব্যর্থ হয়। একে বলা False Negative। অর্থাৎ সিস্টেম সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করে তথ্য দিতে না পারায় রিপোর্ট হয়েছে Negative কিন্তু বাস্তবে সন্ত্রাসী বা অপরাধী হওয়ায় রিপোর্টি False হয়েছে।
ছবি দিয়ে শনাক্তকরণ পদ্ধতির একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কোন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তাদের শনাক্তকরণ করতে সিস্টেম ৫৩ ভাগ সময় ব্যর্থ এবং False Negative রিপোর্ট আসে। অর্থাৎ আসল ব্যক্তিকে সিস্টেম চিহ্নিত করতে পারে না। আর ৪ ভাগ সময় দেখা যায় ভুল মানুষকে (অপরাধী বা সন্ত্রাসীকে) সঠিক হিসেবে রিপোর্ট দেয়। অর্থাৎ False Positive রিপোর্ট আসে। উদাহরণ হিসেবে একটি ব্যস্ত বিমানবন্দরের কথা বলা যেতে পারে। যদি একটি বিমানবন্দরে মোট যাত্রীর ৪ ভাগ ভিন্ন মানুষকে সঠিক বলে চিহ্নিত করা হয় তবে বিষয়টি ভাবনার। যেমন ফ্লোরিডার টেম্পা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ মাসে প্রায় ১০ লক্ষ যাত্রী আসা-যাওয়া হয়। তাহলে ৪ ভাগ বলতে প্রায় ৪০,০০০ যাত্রীকে যদি চিহ্নিত করতে সিস্টেম ব্যর্থ হয় অর্থাৎ ভিন্ন মানুষকে সঠিক বলে চিহ্নিত করে প্রবেশাধিকার দেয়া হয় তবে বিষয়টি চিন্তিত হবার মত। ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতিতে এ অসুবিধা থাকে না। ছবি দিয়ে শনাক্তকরণ পদ্ধতিতে ভুলের মাত্রা থাকে অনেক বেশী।
বর্তমানে উন্নত বিশ্বে যেসব স্থানে ব্যক্তিগত আইডি কার্ড ব্যবহার করা হয় সেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহারের উপর কাজ হচ্ছে। কেননা কেউ ভুলে আইডি কার্ড সাথে না নিয়ে এলেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে সেখানে প্রবেশাধিকার সম্ভব। ফিঙ্গারপ্রিন্ট কেউ ভুলে ফেলে আসে না। এছাড়াও ছবি পরিচয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কোন ভূমিকাই রাখতে পারে না। কারণ গলা কেটে ছবি পরিবর্তনের নজীর এদেশে বহু রয়েছে। আরো উল্লেখ্য যে, ছবিভিত্তিক আইডি কার্ডের ক্ষেত্রে কিছু কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভিত্তিক আইডি কার্ডে এদিক দিয়ে সম্পূর্ণরূপে উপযুক্ত। যেমনঃ যমজ ব্যক্তির ক্ষেত্রে চেহারার মিল, বয়সের পরিবর্তনের সাথে চেহারা পরিবর্তন, দাড়ি-মোচ এবং চুলের কাটিং-এর সাথে সাথে চেহারার পরিবর্তন ইত্যাদি হলো ছবিভিত্তিক আইডি কার্ডের সীমাবদ্ধতা বা জটিলতা। কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভিত্তিক আইডি কার্ড এসব সীমাবদ্ধতা ও জটিলতা থেকে মুক্ত। একজন ব্যক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্ট অন্য ব্যক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে কখনও মিলবে না বা ক্বিয়ামত পর্যন্ত চেষ্টা করেও পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাছাড়া বয়স বাড়ার সাথে সাথে কোন মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্টে কোন পরিবর্তন আসে না। তাই এক্ষেত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতিই হচ্ছে ইসলামসম্মত ও সবচেয়ে আধুনিক। তাই আমরা দেখতে পাই যে, ইহুদী-নাছারারা মুসলমানদেরকে ছবিযুক্ত আইডি কার্ডের জন্য উৎসাহিত করলেও নিজেরা কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্টযুক্ত বা ছবিবিহীন আইডি কার্ড ব্যবহার করে। এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
সুইডেনের ‘স্টকহোম রয়েল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজী’তে বাংলাদেশের একজন ছাত্র ‘ওয়াটার সিস্টেম টেকনোলজী’তে মাস্টার্স প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত। এই ইনস্টিটিউটে ছাত্র ছাত্রীদের জন্য যে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড ব্যবহৃত হয় তাতে কোন ছবি নেই বা ছাত্র-ছাত্রীদের কোন ছবি ব্যবহৃত হয় না। কার্ডে শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদের নাম, জম্মতারিখ, কার্ড নম্বর, স্টুডেন্ট আইডি নম্বর, কার্ডের মেয়াদকাল উল্লেখ থাকে। কার্ডে একটি কোড নম্বর ব্যবহৃত হয়, যেটা কম্পিউটারভিত্তিক মেশিনে পাঞ্চ করলে ছাত্র-ছাত্রীদের বিস্তারিত তথ্যাবলী কম্পিউটারে এসে পড়ে। শুধু তাই নয়, ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে ইন্টারনেট ব্যবহার এবং রিডিং রুম ২৪ ঘন্টা ব্যবহার করতে পারে সেজন্য সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে কম্পিউটার রুম ও ডিপার্টমেন্টে ঢুকার জন্য একটি সিকিউরিটি কার্ড ব্যবহার করতে হয়। তাতে কোন ছবি নেই, এমন কি কোন নাম কিংবা কোন লিখাই নেই। শুধুমাত্র প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি করে কোড নম্বর বরাদ্দ থাকে।যারা সন্ধ্যা ৬টার পর ডিপার্টমেন্টে ঢুকতে চায় তারা এ সিকিউরিটি কার্ডটি দরজায় রক্ষিত মেশিনে পাঞ্চ করে নিদির্ষ্ট কোড নম্বরটি টিপে দরজা খুলে ডিপার্টমেন্টে ও কম্পিউটার রুমে ঢুকতে পারবে। ডিপার্টমেন্টগুলোতে এদেশের মত কোন পাহারাদার কিংবা কেয়ারটেকার বা সিকিউরিটি গার্ড থাকে না। দরজা খুলার জন্য যখন সিকিউরিটি কার্ডটি পাঞ্চ করে কোড নম্বরটি টেপা হয়, তখন অটোমেটিক সেই ছাত্র-ছাত্রীর বিস্তারিত তথ্য নিদির্ষ্ট কন্ট্রোল রুমে চলে যায় এবং কম্পিউটারে রেকর্ড হয়ে যায়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ জানতে পারে কোন ছাত্র বা ছাত্রী কখন কোন ভবনে ঢুকেছিল।
ছবি ছাড়াও যে আইডি কার্ড করা সম্ভব এবং এর দ্বারা যে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের মত প্রতিষ্ঠানই নয় বরং একটি দেশও চালানো সম্ভব, এক্ষেত্রে সুডেনের ‘স্টকহোম রয়েল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজী’ এর ‘স্টুডেন্ট আইডি কার্ড’ পদ্ধতি একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এছাড়াও উদাহরণ হিসেবে জার্মান ও যুক্তরাষ্ট্রে কথা বলা যেতে পারে। ২০০৭ সালের নভেম্বর থেকে জার্মানে e-Passport চালু হয়েছে। যেখানে থাকছে দুটো ফিঙ্গারপ্রিন্ট। প্রতিটি নাগরিকেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ১০আঙ্গুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়ার পদ্ধতি চালু করেছে। অথচ দুঃখজনক যে, উন্নত বিশ্বে যেখানে অতি আধুনিক বিষয়টি গ্রহণ করছে সেখানে আমাদের দেশে, শরীয়তের জায়িয নেই এবং যে সিস্টেমটি ত্রুটির কারণে উন্নত বিশ্বে সমালোচনা হচ্ছে সেই ছবি দিয়ে শনাক্তকরণ পদ্ধতিটি মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। অবশ্যই যারা শরীয়তের বহির্ভূত কোন বিষয় মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে তারা ইসলামের চিহ্নিত শত্রু। একজন মুসলমান হিসেবে আমি আশা করি করব হারাম ছবিভিত্তিক আইডি কার্ডের পরিবর্তে ন্যাশনাল আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড ইত্যাদি ক্ষেত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভিত্তিক আইডি কার্ডের প্রচলন করার ব্যপারে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সকল মুসলিম দেশের সরকার প্রধান শুভবুদ্ধির পরিচয় দিবেন।
(তথ্যসূত্রঃ দৈনিক আল ইহসান ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ ঈসায়ী এবং দৈনিক আল ইহসান ১৬ জুলাই ২০০৮ ঈসায়ী)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



