চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা। স্থগিত হয়ে আছে ভর্তি পরীক্ষাও। ক্যাম্পাসে অবস্থান করে আন্দোলনকারী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শিক্ষক ও কর্মচারীদের হুমকি দিচ্ছেন। এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও একজন শিক্ষক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
উপাচার্য নীতিশ চন্দ্র দেবনাথের অপসারণসহ ২১ দফা দাবিতে ছাত্রলীগ গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু করে। ১৪ ডিসেম্বর জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্র জানায়, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী ছাত্রলীগের নেতারা ছাত্রাবাসে তিন মাস ধরে অবস্থান করছেন। ছাত্রাবাসে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মোমিন ও সদস্য শাহাদাত্ হোসেন ওরফে শুভ। উপাচার্যের পদত্যাগসহ নানা দাবি নিয়ে তাঁদের আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা যাচ্ছে না।
জানা গেছে, ছাত্রলীগের ব্যানারে চলমান আন্দোলনে শাহাদাত্-মোমিনের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষক ও ছাত্রদের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা কথায় কথায় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। ক্যাম্পাস সচল করার পথে এখন তাঁরাই বাধা বলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মনে করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্র জানায়, ক্যাম্পাস সচল হওয়ার আভাস পেয়ে শাহাদাত্ ও মোমিনের নেতৃত্বে আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী গত রোববার শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের হুমকি দেন। তাঁরা প্রশাসনিক ভবন বন্ধ রাখতে বলেন; না হলে অঘটন ঘটানোর হুমকি দেন। এর আগে তাঁরা দুই শিক্ষক ও একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন। এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় দুটি জিডি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ চৌধুরী আলাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত রোববার তাঁরা আমার সঙ্গে দেখা করে উপাচার্য নীতিশ দেবনাথের পদত্যাগ দাবি করেন।’
শিক্ষক কৃষ্ণ রায় বলেন, ‘শাহাদাত্ ও মোমিন যে ভাষায় আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে, তা দুঃখজনক। এ কারণে আমি খুলশী থানায় জিডি করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আরেকটি জিডি করে।’
অভিযোগ পাওয়া গেছে, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক মো. আবুল কাশেমকে কক্ষে তালা মেরে আটকে রাখার হুমকি দেন শাহাদাত্, মোমিনসহ কয়েকজন ছাত্র। আবুল কাশেম বলেন, ‘ওরা এসেই আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পিআরটিসির একটি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলে; না হলে কক্ষের মধ্যে আটকে রেখে বাইরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ওই ঘটনায় শাহাদাত্ ও মোমিনকে নেতৃত্ব দিতে দেখেছি।’
শাহাদাত্ ও মোমিন দাবি করেন, তাঁরা শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেননি। তাঁরা উপাচার্যের পদত্যাগসহ তাঁদের দাবি-দাওয়া আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
জানা গেছে, শাহাদাত্ একসময় ছাত্রদলের ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, আর মোমিন ছিলেন ওই কমিটির সদস্য। ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিগত কমিটির সভাপতি আজিমুল হক ওরফে রাসেল বলেন, ‘শাহাদাত্ আমার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ক্ষমতার পরিবর্তনে তিনি ছাত্রলীগের নেতা বনেছেন, আর মোমিন ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন। এর আগে চট্টগ্রাম কলেজে পড়াশোনার সময় মোমিন ছাত্রশিবিরের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমল কান্তি দাবি করেন, শাহাদাত্-মোমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়। তাঁরা ছাত্রলীগেরই নেতা-কর্মী। তাঁরা সক্রিয়ভাবে সংগঠনের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।
শাহাদাত্ অবশ্য দাবি করেন, ‘ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি আছে কি না, আমি জানি না।’ পরে তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে থাকেন। মোমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কেন আমাকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছেন না? আমাকে একবার ছাত্রদল, আরেকবার শিবির বানিয়েছেন। আমি নিজ এলাকা খাগড়াছড়িতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে আছি।’
জানা গেছে, স্বার্থসংশ্লিষ্টতার কারণে নগর ছাত্রলীগের একাংশ প্রথম দিকে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিল। আর বিএনপির নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে ছাত্রাবাসের নামকরণ বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হক আন্দোলনে সরাসরি সমর্থন দেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক সভায় নোমানের নামে ছাত্রাবাসের নামকরণ বাতিল করা হয়েছে।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


