“তুমি কি আমার কথা ভাবো?
কঠিন প্রাচীরে কান পেতে শুনি
মুক্তির দিন একদিন আসবেই
সেইদিন তোমাকে আবারও কাছে পাবো।“
দোহারের কবি মিজানুর রহমান শমশেরীর এই কবিতার পংক্তিমালা দিয়েই শুরু হয়েছে এবারের সবুজ অঙ্গন। কবিতাটিতে নতুন দিনে প্রিয়তমার ভালবাসার কথা বলা হয়েছে। হৃদয়ঙ্গম করলে এ কবিতাটি যে কারো আত্না ছুঁয়ে যেতে বাধ্য।
এরপর আছে দুইটি ছোটগল্প। ডা জিল্লুর কামালের রিমান্ড এবং সুফিয়া বেগমের প্রতিশোধ।
রিমান্ড গল্পটিতে একটি সুন্দর ছবির চিত্র সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এখানে নিম্নমধ্যবর্তী এক গৃহিনীর ছোট্ট চিত্র জানা যায়।
এরপরই আছে কবিতার ভান্ডার।
শামীম আজাদের কবিতা “আক্রান্ত”।
“যুবতী জাফরান রাত গলি দিয়ে গলে পড়ে যায়
আমি আর স্বপ্নশব্দ থেকে বেরুতে পারিনা”
ফকির ইলিয়াসের “জৈব জলীয়গ্রাফি”।
“দেবো আরো কিছু আলো। কিরণের প্রথম জানালা খুলে
দেখবো পাঁজরের প্রতিদ্বন্দ্বি কাল,
কতোটা কাছে এসে ভাসিয়ে নিচ্ছে এই জলমহাল।“
এরকম আরো কবিতা। সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের “রুদ্ধশ্বাস”, সেলিনা শিরীন শিকদারের “কার্তিকের জ্যোৎস্না”, আইরিন সুলতানার “ঝড়ের রাত্রি বৃষ্টিতে ভিজে সারা”।
শাহীন রেজার “সে মানুষ” কবিতাটি আব্দুল মান্নান সৈয়দ এর মৃত্যু স্মরণে লেখা।
“ঘুমরাতে মানুষের দেহ থেকে ঝরে পড়ে মৃত্যুর ঘ্রাণ
এবং প্রতিটি সকালে খুলে ফেলে ‘ছায়া আর্গল’ ”
আরো আছে সবুজ কুন্ডুর “বৃষ্টিহীন বৃষ্টির নগরে”, আলতাফ হোসেনের “আগস্টের পৃথিবী”, তাহমিনা কোরাইশীর “স্বর্ণ অশোক”, রোকেয়া ইসলামের “দুঃখ বীজের কৃষ্টি”, রফিক রইচের “নারী ও প্রেমের টুকরো কবিতা”, মিতুল দত্তের “নবান্নভণিতা”, ইশতিয়াক আহমেদের “সম্পাদকের ইচ্ছায় ফিলিংসকে বাজারজাত করা শব্দেরা আমার”, শাহ সোহেলের “ফেইসবুক”, রাগ ইমনের “তোমার হাতে জল”, মঈন মুরসালিনের “হে সত্যবাদী শিশ্ন আমার”, মাকসুদা আন নাহালের “ডায়েরী থেকে...”, বীরের মুখার্জীর “বিবর্তন”, জাবেদ ইমনের “সুন্দর হে”, অপর্ণা হাওলাদারের “রাজদণ্ড”।
ফয়সাল অভির “বড়শি” কবিতাটি একটি খাঁটি আধুনিক কবিতা বলা যেতে পারে।
“বালি গিলে সেথপুকুর আজ বহুতল পাখিবাস
যার পকেট উঠানে শহুরে মানুষের মানুষ ডাক”
মাহমুদ হাসানের “ছাত্রী রুমমেট আবশ্যক” গল্পটি একটি ভিন্নধারার গল্প। গল্পটিকে এক অসহায় গ্রাম্য মেয়ের আত্নকাহিনী বলা যায়।
এরপর রয়েছে নির্ঝর নৈঃশব্দের “ডেকালগ এবং আমরা ফিরে যাবো শুধু বিপরীত অশ্রুজল” মুক্তগদ্যটিও একটি উত্তম পাঠ্য।
এছাড়া শফিল হাসানের “শক্তি”, নার্গিস মাহবুবা কাজলের “নিভৃতচারী” এবং নুরুল আজমের সায়েন্স ফিকশন গল্প “ভাইরাস এপিজি”।
প্রত্যেকটি গল্পই তরুন লেখকদের অনুপ্রাণিত করবে।
এরপর আবার রয়েছে কবিতার ভান্ডার।
শেখর সিরাজের “যষ্ঠীপূর্তী”, সেলিমা তাসনীম ছন্দার “জীবন চক্র”, রঙ্গীত মিত্রের “সামাজিক”, মিলটন রহমানের “পান্থ”, প্রণব আচার্যের “শায়মা হক”।
সাইফ সামিরের “মেটালিকা” কবিতা।
“আমি এখন মেটালিক সভ্যতার
ডিজিটাল যুগে যাবতীয় রোমান্টিসিজম ভুলে
কালোজলে আমি এক শাদা ছায়া।“
হাফিজুর রহমানের “আমার মৃত্যুর পর বলতে না পারা কিছু কথা” এবং শামীম শরীফ সুষমের “একজন পরাজিত মুক্তিযোদ্ধা” মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গল্পদুইটিই মানুষের মন ছুঁয়ে যাওয়ার মত গল্প।
এবারই প্রথম ম্যাগাজিনে কোন বরেন্য মানুষের সাক্ষাতকার ছাপা হয়েছে। এবার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে আহমাদ মোস্তফা কামালের। এই বরেন্য কথাশিল্পীর বিভিন্ন কথা উঠে এসেছে এই সাক্ষাৎকা্রে।
এছাড়া কবিতা রয়েছে ইয়াসিন কবির চৌধুরীর “বৃষ্টিতে কান্না”, ফেরারী কৌশিকের “কুমারী সকালের আনন্দ”, শেখ ফরিদা ফারহানার “মধুপুর নিবাস”, ডালিয়া সুলতানার “ফিরে এসো”, এন জুলফিকারের “খেলা”, নাছির উদ্দিন সরদারের “নীল সবুজের হাটে”, আয়শা আকাশীর “বোধহীন মানুষের শহরে”, সাহানা খানম শিমুর “সীমাহীন পথ”, সৈয়দ নাসির আহমদের “আবার তুমি আসতে পারো”, শাহৈজাদী নীলা ইয়াসমিন খানের “রূপালী বৃষ্টির হাসি”, শায়মা হকের “আকাশলীনা মেঘ ও আকাশের কাব্য”, সুমন বসুনীয়ার হৃদয়ের “অনুক্ত ব্যাথা”, আদনান ফারাদীর “প্রথম দিন”, ইশরাত জাহান আভার “আজ আমার”, কুমার অনিমেষের “নিষ্পাপ প্রেম”, সাবিনা ইয়াসমিন ডলির “শূন্য ক্যানভাস”, মামুনুর রহমান খানের “একটি স্বপ্নের তৈলচিত্র”, রেজোয়ান আহমদের “হৃদস্পন্দনহীন এই শিশির বিন্দু”, রকি রহমানের “অপেক্ষা”, মুনীরা বিনতে ইউসুফের “জলচোরা বন”, ডিউক জনের “সাপলুডু”, কণা আকন্দের “ক্ষয়ে যাওয়া কলাবতী”, উদয় মাহমুদ “মরণ সন্ধি”, এস এম তাহমিদুর রহমানের “বিজ্ঞাপন”, নুরে আলম মুকতার “মগজ ছিনতাই”।
গল্প রয়েছে কাব্য রাসেলের “থাপ্পড়”, সবুজ ওয়াহিদের “খোঁজ” এবং মোজাফফর হোসেনের “মৃত্যু মৃত্যু খেলা ও একটি গল্প”
সর্বোপরি এবারের সংখ্যাটি সবদিক থেকেই সার্থক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


