[ প্রাককথন: সহব্লগার কল্যাণীয়া সহেলীর বিষন্নমাখা পোষ্ট "প্রত্যাবর্তনের জন্য অনেক বেশী সময় নিয়েছি,আর তাই কোন অপূর্নতা নেই' ( Click This Link) সম্ভবত: অনেককেই আপ্লুত করেছে। সহেলীর লেখাটি পড়ে ওর সেই রহস্যমানবের প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে তা নিয়ে যা লিখেছিলাম পোষ্টটির মন্তব্যের কলামে]
একদিন দিন শেষে সেইখানে জোসনা ছায়ায়
মুখোমুখি দুইজন হাত পেতে নেব ঝরা সময় ,
পাশিপাশি বসে কেটে যাবে অনন্তকাল
আমাদের , তুমি দেখে নিও -- সহেলী
তোমার কবিতার পংক্তির সাথে সংহতি প্রকাশ করে প্রায়শ:ই আমার স্বপ্নরা ডানা মেলে। কাঠখোট্টা তোমার এই মানুষটার হৃদয় গহীন থেকে জ্যোছনামাখা স্বপ্নগুলো কীভাবে যে ভেসে আসে কে জানে! অথচ তুমিই প্রত্যক্ষ করেছো, নিয়মনিষ্ঠ সৈনিকের মতোন আমি সময়ের দাস। গান শুনি না, কবিতা শুনি না--- তোমার এ অভিযোগকে তো অস্বীকার করি না। তোমার এক প্রিয় কবি তো বলেই গেছেন, 'সবাই কবি নন, কেউ কেউ কবি।' আমারও প্রশ্ন, কবিতা কিংবা গান কি সবাইকে স্পর্শ করতে পারে সেভাবে? কর্পোরেট শাসিত এ সমাজ ব্যবস্থায় গান কিংবা কবিতা শোনার অবসরই কি প্রায় কজনায়!
তবুও বলব, আমার মত রসকষহীন মানুষেরাও যান্ত্রিক হলেও পুরোপুরি যন্ত্রতো আর নয়! আমি যান্ত্রিক হই কিংবা নিয়মনিষ্ঠ কর্পোরেট দাসই হই শেষ বিচারে আমিও যে একটা মানুষ সে কথা তো আর অস্বীকার করতে পারব না। তোমার মতোন অতটা সংবেদী না হলেও আমারও একটা মন আছে। সুখে-দু:খে সে মনটাও হাসে কিংবা কাদেঁ। তাই তো একদিন তোমার-আমার দুজনের মনও নেচে ওঠেছিল একই সুরে, লয়ে। চন্দ্রাহত সে দিনগুলোতে আমরা মেতে ছিলাম আমাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন আকাশ বিনির্মাণে।
লিখেছো, 'আমি তোমার বিসর্জনের দেবী । যেদিন প্রথম গড়তে বসেছিলে ভাসিয়ে দেবে বলে কি শুরু ছিল তোমার !' সত্যিই কি তাই? তোমাকে প্রথম দেখি যেদিন, সেদিনের স্মৃতি আজো দিবালোকে দিব্যরথের মতোন স্পষ্ট। কিশোরী তোমার মাঝে কি এক অলীক রোশনাই দেখেছিলাম তা কি করে তোমায় আমি বুঝাবো! তোমার পাশে নিজেকে লেগেছিলো অকিঞ্চিতকর, মনে হয়েছিল এ যে বানরের গলায় মুক্তোর হার। অস্বীকার করবো না, সেদিনটাতেই আমি আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে তোমাকে আমি রাঙ্গিয়েছি, বসিয়েছি দেবীর আসনে। সে তো আর বিসর্জনের জন্য নয়। বরং প্রত্যয় প্রতিজ্ঞা ছিল, তোমার হাত ধরে হাঁটবো সারাটা জীবন পথ।
হয়তো দোষ আমারই। পেশা জীবনের যন্ত্রনাময় ঘোড় দৌড়েঁ অনিবার্য অংশগ্রহণে তোমাকে অবহেলা করেছি অনেক, দূরে সরে গিয়েছি অনিচ্ছা সত্ত্বেও। কিন্তু এ যাওয়া কি শুধুই যাওয়া? ফেরার জন্যই তো ছিল এ যাওয়ার তাগিদ, তা কি তুমি বুঝো না? হ্যা, তুমি ঠিকই বলেছো, 'প্রত্যাবর্তনের জন্য অনেক বেশী সময় নিয়েছি , আর তাই কোন
অপূর্নতা নেই আমাদের'। আমার দৃঢ় প্রত্যয়, যেদিন আমরা আবারো হব মুখোমুখী, পরিপূর্ণভাবেই দুজনে মিলে উপভোগ করব আমাদের, জীবন, সময়।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



