somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইতিহাসের কাঠগড়ায় ১/১১-র রাজনীতি ( আমার ৫০-তম পোষ্ট)

১১ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ১১ই জানুয়ারী ২০০৭ সালের পট পরিবর্তন এখন ইতিহাসের অংশ। বর্তমানে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পটভূমিতে অনেকেই ১/১১-র রাজনীতিকে বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করে যাচ্ছেন। দু:খের বিষয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনেক লেখাতেই ১/১১-র পরিবর্তনকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী থেকেই বিশ্লেষিত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক এই ইতিহাস কোন দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং র্নৈব্যক্তিক দৃষ্টিতেই বিশ্লেষণ করা কাংখিত।



প্রথমেই প্রশ্ন করা যাক, ২০০৭ সালে ১/১১-র পরিবর্তন কেন অনিবার্য য়ে পড়েছিল? এ প্রশ্নের উত্তরে নি:সন্দেহে দলনিরপেক্ষ সচেতন নাগরিকরা একবাক্যে স্বীকার করবেন, রাজনৈতিক দলগুলোর চরম ব্যর্থতার কারণেই ১/১১-র পটপরিবর্তন অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। বিশেষত: ২০০৭ সালের প্রস্তাবিত সংসদ নির্বাচনে হাওয়াভবন নিয়ন্ত্রিত অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ৪-দলীয় জোটকে জিতিয়ে আনার ষঢ়যন্ত্র, আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রিত মহাজোটের সরকার বিরোধী আন্দোলনে সে সময়ে দিশেহারা ছিল সাধারণ জনগণ। সে সময়ে দুটি প্রধান রাজনৈতিক জোটের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে দেশে বড় ধরণের রক্তপাত হওয়ার আশংকা অমূলক ছিল না। এ অরাজকতা থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে তাই ১/১১-র অসাংবিধানিক সরকার পরিবর্তনকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছিল-- এ বাস্তবতা অস্বীকার করলে সত্যের অপলাপ হবে।

১/১১-তে অধিষ্ঠিত সেনা-নিয়ন্ত্রিত ড: ফখরুদ্দিনের অসংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার শুরুটা কিন্তু খারাপ করেনি। দূর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিক, আমলা, ব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচনে সেদিনগুলোতে সাধারণ মানুষ হয়েছিল উল্লসিত। বিশেষ করে দূর্নীতিবাজ রাঘব-বোয়াল, যারা জীবনে ভাবতে পারেনি আইন তাদের কেশাগ্র স্পর্শ করবে তাদেরকে যখন একেকটা দূর্নীতির দায়ে জেলে ঢুকানো হচ্ছিলো, তখন তো জনগণের উল্লসিত হওয়ারই কথা। যখন মানুষ দেখে তথাকথিত হাওয়া ভবনের দূর্নীতিবাজ যুবরাজ, ঋণখেলাপী ব্যবসায়ী সালমান রহমান, বসুন্ধরার লুটেরা আব্দুস সোবহান একে একে জেলে ঢুকছে তখন মানুষ দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

কিন্তু দূর্ভাগ্য, ১-বৎসরের মাথাতেই জেনারেল মঈন নিয়ন্ত্রিত সরকার লক্ষ্যচ্যূত হয়। বিশেষ করে মাইনাস টু ফর্মূলা (হাসিনা-খালেদাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে ফেলার যঢ়যন্ত্র) বাস্তবায়নে নানা অভিসন্ধীমূলক কার্যকলাপের কারণে সরকারের জনপ্রিয়তা পারদ অতি দ্রুত নামতে থাকে। এর বহি:প্রকাশ ঘটে ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া সরকার বিরোধী আন্দোলনে। সম্ভবত: সে সময়েই ড: ফখরুদ্দিন তার সরকারের জনপ্রিয়তা ধ্বস নামার বাস্তবতা উপলব্ধি করে ২০০৮ সালের জানুয়ারীতে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, ১/১১-র মূল কুশীলব জেনারেল মঈনের ক্ষমতা দখল করে রাজনীতি করার খায়েশ থাকলেও আর্ন্তজাতিক বিশ্ব বিপরীত অবস্থান নেয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

পরিশেষে বলা যেতে পারে ১/১১-র পরিবর্তন দূর্নীতিবাজ রাজনৈতিক, আমলা, ব্যবসায়ীদের জন্য ছিল একটা টর্ণেডো। ১/১১-র ইতিহাস থেকে রাজনীতিকদের শিক্ষা নেওয়া বাঞ্চনীয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, চোরায় না শুনে ধর্মের কাহিনী! দল হিসেবে আওয়ামী লীগে ততোটা না হলেও বিএনপি-র রাজনীতিতে চিহ্নিত দূর্নীতিবাজরাই হচ্ছে আরো ক্ষমতাবান। আর আবারো আগের মতোর রাজনৈতিক দলগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় লুটেরা ব্যবসায়ী, আমলাদের উথ্থান ঘটছে। জনগণের আকাংখার বিপরীতে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকান্ড চলতে থাকলে যে আবারো একটা রাজনৈতিক টর্ণেডো আসবে না সে নিশ্চয়তা কে দেবে!






সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৩১
২১টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×