
আমদের ভারত বন্ধু ইহুদিবাদী ইসরাইল ১৯৬৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের ২৩ হাজার ১০০টিরও বেশি আবাসিক ভবন ধ্বংস করে আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করেছে। ইসরাইলের এসব পদক্ষেপের ফলে এক লক্ষ ৭০ হাজারেরও বেশী ফিলিস্তিনী গৃহহারা হয়েছে এবং ফিলিস্তিনিদের আরো ৯০ হাজারেরও বেশী ঘর-বাড়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পি এল ও'র একটি রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, দখলদার ইসরাইল পশ্চিম তীরের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশী এলাকায় ফিলিস্তিনিদেরকে আবাসিক ভবন নির্মাণ করতে দিচ্ছে না এবং ফিলিস্তিনিদের আবাসিক ভবন নির্মাণের অধিকাংশ আবেদন ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ নাকচ করে দিচ্ছে। দখলদার ইসরাইলী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের আবাসিক ভবন ধ্বংসের পরিসংখ্যাণ থেকে ইসরাইলের মানবতা-বিরোধী চরিত্র আরো একবার ফুটে উঠেছে। ১৯৪৮ সাল থেকে দখলদার ইসরাইল ফিলিস্তিনীদের ওপর যেসব অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে এসেছে এসব ঘটনা সেসবের সামান্য অংশ মাত্র।

দখলদার ইসরাইল সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় ধ্বংসাত্মক আগ্রাসন চালানোর সময়ও ফিলিস্তিনীদের ওপর নিষিদ্ধ অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। এ ছাড়াও শক্তিশালী বোমা বর্ষণ করে ধ্বংস করেছে ফিলিস্তিনীদের বহু ঘর-বাড়ী। এসব ধ্বংসযজ্ঞ থেকে ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে দখলদার ইসরাইলের পরিকল্পিত গণহত্যা-অভিযান এবং পোড়ামাটি নীতি প্রয়োগের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে গেছে। বর্ণবাদী ইসরাইল একদিকে ফিলিস্তিনীদের ঘড়-বাড়ী ধ্বংস করছে, আবার অন্যদিকে ফিলিস্তিনীদেরকে নতুন ঘড়-বাড়ী নির্মাণ করতেও দিচ্ছে না। অথচ ইসরাইল দখলদার ইহুদিবাদীদের জন্য নতুন নতুন আবাসিক শহর গড়ে তুলছে অবৈধভাবে এবং আগে গড়ে তোলা অবৈধ ইহুদি-বসতিগুলোর বিস্তৃতি ঘটানোর কাজও অব্যাহত রেখেছে। ইসরাইল এসব অবৈধ ইহুদি বসতি গড়ে তুলছে ফিলিস্তিনীদের এলাকাতেই। ফিলিস্তিনীদেরকে নিজ আবাসভূমিতেই সংখ্যালঘু করা এবং ফিলিস্তিনী ভূখন্ডগুলোকে ইহুদিবাদী রূপ দেয়াই ইসরাইলের এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।

ইসরাইল বিশ্বসমাজকে ধোকা দেয়ার জন্য অবৈধ ইহুদি বসতিগুলোকে বৈধ ও অবৈধ-এই দুই ভাগে ভাগ করছে। অথচ মধ্যপ্রাচ্য আপোস-পরিকল্পনা ও সকল আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনী অঞ্চলে সকল ইহুদি-বসতিই অবৈধ। বিশেষ করে জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৬৭ সালে দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় সব ধরনের ইসরাইলী বসতি স্থাপন নিষিদ্ধ। আসলে ইসরাইলের এই কূট-কৌশলের উদ্দেশ্য হল, অবৈধ ইহুদি-বসতিগুলোর বেশীর ভাগ এলাকাকেই ইহুদিবাদীদের দখলে রাখা এবং ইসরাইলের দখলদারিত্বকে পাকাপোক্ত করা বা বিশ্বসমাজকে এই দখলদারিত্ব মেনে নিতে বাধ্য করা। ইসরাইল এভাবে ফিলিস্তিনীদেরকে ফিলিস্তিন থেকে উচ্ছেদ করে ও তাদেরকে শরণার্থীতে পরিণত করে এবং তাদেরকে ফিলিস্তিনে ফিরে আসতে বাধা দিয়ে এক সময় দাবী করবে যে, ফিলিস্তিন নামে কিছুই ছিল না, বরং সেখানে ইহুদিবাদীদের অবস্থান প্রমাণ করে যে এই দেশটি ইহুদিদেরই দেশ। এ অবস্থায় ফিলিস্তিনে দখলদার ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞ বন্ধ করা ও আন্তর্জাতিক আইন লংঘন বন্ধ করতে ইসরাইলকে বাধ্য করার জন্য বিশ্ব-সমাজকেই সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

গতকাল এক ব্লগার বলেছেন, বাংলাদেশের উচিত ইহুদি ইসরাইলের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করা। তার বক্তব্যের পরিপেক্ষিতে লেখাটি দিলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


