
পৃথক প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের কথা বললেন নেতানিয়াহু, তবে শর্তসাপেক্ষে৷ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের নানান প্রতিক্রিয়া শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে৷
তেল আভিভের বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন গত রবিবার৷ সেখানে শর্তাধীনে প্যালেস্টাইনের পৃথক রাষ্ট্রস্বীকৃতির কথা বলেছেন তিনি৷ শর্তের মধ্যে অন্যতম অবশ্যই প্যালেস্টাইনের সামরিক বাহিনীর অপ্রয়োজনীয়তা৷ যে প্রসঙ্গটি নেতানিয়াহু অতীতেও উল্লেখ করেছেন৷ তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার হাতে নেওয়ার পর মধ্য দক্ষিণপন্থী নেতানিয়াহু এই প্রথম পৃথক প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের কথা বলায় সেই মন্তব্যকে বেশ ইতিবাচক সুরে স্বাগত জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ যদিও অধিকৃত প্যালেস্টাইন ভূখন্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের ব্যাপারটি অবিলম্বে বন্ধ না করা হলে তার পরিণতি তেমন সুখকর হবে না বলে মন্তব্য শোনা গেছে সোমবার লুক্সেমব্যুর্গে আয়োজিত ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে৷
লন্ডনে সোমবার বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য অবশ্যই এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক৷ তবে একে বাস্তবায়ন করার কাজটা অত্যন্ত দুরূহ তাই সাবধানে এগোনোই বুদ্ধিমানের কাজ৷ পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির রোডম্যাপ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের কাজ বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার দিকেও জোর দেন ব্রাউন৷ লন্ডনে হাউস অব কমন্সে ব্রাউন সোমবার জানান, পরবর্তী পর্যায়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা হলে ব্যক্তিগতভাবে বসতি সম্প্রসারণের কাজ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে তিনি অনুরোধ জানাবেন৷
অধিকৃত প্যালেস্টাইনি ভূখন্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের ইস্যুতেই ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অধিক উদ্বিগ্ন এরকম ধারণা আরও জোরদার হয়েছে সাইপ্রাস এবং ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য থেকে৷ তাছাড়া, নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে যেভাবে প্রায় সম্পূর্ণ সামরিক শক্তিশূণ্য পৃথক প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের কথা বলেছেন, সমালোচনা শোনা গেছে সেই মন্তব্যেরও৷ নেতানিয়াহুর প্রস্তাব অনুযায়ী পৃথক প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র ইসরায়েলের শত্রু বলে পরিচিত সিরিয়া এবং ইরানের সঙ্গে কোন চুক্তি করতে পারবে না৷ এবং ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসাবে তাদের স্বীকৃতি দিতে হবে৷ সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কোস কাইপিরানাউ সংবাদসংস্থা ডি পি এ-কে জানান, এইসব শর্ত কখনোই ইউরোপিয় মানের উপযোগী হতে পারে না৷
লেবানন থেকেও নেতানিয়াহুর এই শর্তাধীন দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের সমালোচনা শোনা গেছে সোমবার৷ সেদেশের প্রেসিডেন্ট মিশেল সুলাইমান নেতানিয়াহুর এই সমাধানসূত্রকে অত্যন্ত অনমনীয় বলে ব্যাখ্যা করেছেন৷ সুলাইমানের মতে, এ বিষয়ে আরব নেতৃত্বের একটি সার্বিক ঐকমত্য আশু প্রয়োজন৷ পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সুলাইমানের অনুরোধ, শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে আসতে ইসরায়েলের ওপর চাপ দিক বিশ্বনেতৃত্ব৷
সুত্রঃ Deutsche Welle

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


