গত ১৩ নভেম্বর মতিঝিল থানায় দায়ের করা গাড়ি ভাংচুর মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর আমির রফিকুল ইসলাম খানকে শ্যোন অ্যারেস্ট করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার এসআই মিজানুর রহমান। অন্যদিকে আদালতের নথিতে রয়েছে, রফিকুল ইসলাম খান গত ২৫ আগস্ট থেকে সরকারের হেফাজতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ঢাকা মহানগর ডিবি কার্যালয়ে আটক রয়েছেন। আদালতের কাছে এ নথি সংরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও পুলিশের করা এ মিথ্যা মামলায় রফিকুল ইসলাম খানের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পল্টন থানার একই ধরনের অন্য একটি মামলায় তিনদিন রিমান্ড শেষে রফিকুল ইসলাম খানকে গতকাল ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল থানায় দায়ের করা গাড়ি ভাংচুরের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, রফিকুল ইসলাম খান গত ১৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় নটর ডেম কলেজের সামনে নিজ দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সশরীরে হাজির হয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে যাত্রীদের টেনেহেঁচড়ে নামিয়ে বাসটি ভাংচুর করেন। একই সঙ্গে আসামি নিজ হাতে গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। ধাউ ধাউ করে বাসটি জ্বলতে থাকলে মতিঝিল থানা থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। গাড়ি ভাংচুর ও আগুন দেয়ার সময় তার সঙ্গে যারা ছিল তাদের নাম-ঠিকানা জানতে তাকে ৭ দিন পুলিশের হেফাজতে রাখা প্রয়োজন।
মামলাটিকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে রফিকের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, মামলা দায়ের হয়েছে ১৩ নভেম্বর। ঘটনাও ঘটেছে ওইদিনই। ফরোয়ার্ডিংয়ে বলা হয়েছে, গাড়ি ভাংচুর ও পোড়ানোর ব্যাপারে তিনি স্বয়ং হাজির থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি নিজ হাতে আগুনও দিয়েছেন। অথচ এ ঘটনার ২ মাস ১৮ দিন আগে ২৫ আগস্ট রফিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওইদিন থেকে তিনি কারা ও ডিবি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। কাজেই রিমান্ড তো দূরের কথা এ মামলাটিই গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশের বক্তব্যের সমর্থন করে সরকারপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, পুলিশ যে মামলা দিয়েছে তা সঠিক। আসামিকে রিমান্ড থেকে বাঁচানোর জন্য তার আইনজীবীরা আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকিবতণ্ডা শুরু হলে আদালত আসামিপক্ষের আইনজীবীদের তাদের বক্তব্যের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ দিতে বলেন। আইনজীবীরা রফিকের গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতের বিভিন্ন তারিখের আদেশ ও এর আগে রিমান্ডের কাগজপত্র পেশ করেন। তারা উচ্চ আদালতের একটি আদেশনামাও পেশ করেন। এতে উল্লেখ রয়েছে, রফিক গত ২৫ আগস্ট থেকে সরকারের হেফাজতে রয়েছেন। তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিপক্ষের দাবিই সঠিক এবং পুলিশের মামলাটি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। শুনানির একপর্যায়ে আদালতের বিচারক অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হোসাইন এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে যান। খাস কামরায় বসেই তিনি রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে জামিনের আবেদনও নাকচ করে দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়।
মাওলানা রফিকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট কামালউদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন, লুত্ফর রহমানসহ অর্ধশত আইনজীবী। সরকারপক্ষে ছিলেন পিপি আবদুল্লাহ আবু, অতিরিক্ত পিপি আসলাম প্রমুখ। আদালতের আদেশের পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের দমন করার জন্য সরকার মিথ্যা মামলার যে পাহাড় তৈরি করছে, এ মামলাটি তারই একটি নিকৃষ্ট প্রমাণ। যেখানে মামলাটিই মিথ্যা সেখানে আসামিকে জামিন না দেয়ার কোনো যৌক্তিকতাই দেখছি না। সরকারপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, পুলিশ মামলার এজাহারটি সঠিকভাবে তৈরি করতে পারেনি। ফলে রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে ।
কপি পেষ্ট -দৈনিক আমারদেশ
বাকশালী মামলার রুপ । শ্যোন অ্যারেস্টের নিকৃষ্ট নমুনা : কারাগারে থেকে মতিঝিলে গাড়ি ভাঙলেন মহানগর জামায়াত নেতা রফিক!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।
স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...
গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...
একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
অন্তর্দিগন্ত

যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।
পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।
তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন
Laptop Stand কেন দরকার?
Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান

দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।