বিশাল মাঠে বন্ধুদের সাথে খেলা করছি। হঠাত আমার চোখ গেল আকাশের দিকে। আকাশে কতগুলো তারার ঝলকানি দেখে আমার দৃষ্টি সেদিকে আটকে গেল। দেখলাম চার পাঁচটা তারা ছুটাছুটি করছে। এদের মধ্যে একটা তারা দূরে সরে যাচ্ছে। ক্রমেই বুঝতে পারলাম এটা আসলে একটা বিমান যার পেছনদিক থেকে আগুন বের হচ্ছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই পুরা আকাশ বিমানে বিমানে ভরে গেল। শুরু হল বোমা বর্ষন। সবার দিক বিদিক ছুটাছুটি, পলায়ন। চিতকার, চেচামেচি!! কিছুক্ষন পরেই আসমান থেকে স্পিকারে ঘোষনা আসতে শুরু হল। হিন্দি নাকি উর্দু। ইংরেজী না ফার্সি কিছুই মাথা মুন্ডু বুঝতে পারলাম না। অল্পক্ষন পরে বুঝা গেল এই মাঠের সবাইকে বন্দী করা হয়ে গেছে। সেইসাথে বন্দী করেছে আশেপাশের লোকজনদের কেও। বড় যাদেরকেই পাচ্ছে মিলিটারীরা বন্দুকের বাট দিয়ে ধুলিস্মাত করে দিচ্ছে। আমাকে ছুরি লাগানো বন্দুক দিয়ে জোরে আঘাত করল। মাটিতে শুয়ে গেলাম। কিন্তু আমার গায়ে কোন আঘাতই লাগল না। হওয়ার মধ্যে যা হল তা হল আমার ভাঙ্গা মোবাইল সেট টা আরো ভেঙ্গে গেল। কিছুতেই আর আম্মার সাথে যোগাযোগ করতে পারলাম না।
তারপর মেডিক্যাল টীম আসল। আমার ঠিক মাথার পেছনটায় একটা ইঞ্জেকশন দিল। আমি ইঞ্জেকশন ভয় পাইনা তাই ব্যথা পেলাম না। কিন্তু কি জন্য যে দিল সেটা বুঝতে পারলাম না।
ঘুম থেকে উঠে দেখলাম মাঠের মধ্যে মিলিটারীরা তাদের ঘুপচি ঘর বানিয়ে ফেলেছে। সব কিছু ঘুরে ফিরে দেখলাম। এইবার আর কাউকে মারদোর করতে দেখলাম না। তবে এটা শিউর হলাম যে এরা আমাদের দেশটা দখল করে নিয়েছে। ভাঙ্গা মোবাইলটা হাতে করে বাসায় ফেরার পথে আরো মিলিটারীদের ঘুপচি ঘরদোর দেখলাম। বেটারা এইবার সাধারণ পোষাকে সেখানে বসে আরাম করছে। এলাকার এক চাচাকে দেখলাম তাদের সাথে খাতির জমিয়ে ফেলেছে। চাচা তাদের ভাষাটা শিখল কি করে তা কিছুতেই মাথায় ঢুকাতে পারলাম না। গায়েব থেকে কে যেন আওয়াজ দিচ্ছে আবার যুদ্ধ শুরু হবে, সকলে প্রস্তুত হও। আমি পালাবার পথ খুঁজলাম। এসব যুদ্ধ টুদ্ধ আমার ভয় লাগে।
পাদটীকাঃ আরেকবার স্বপ্নে দেখেছিলাম তাইল্যান্ডের মিলিটারীরা সে দেশ দখল করে ফেলেছে। ঘুম থেকে উঠে আমার বড় ভাইকে স্বপ্নের কথা বলেছিলাম। কিছুদিন পরই দেশে 'উড়ে এসে জুড়ে বসা' দের শাষন শুরু হয়েছিল। আমি কোন পীর বুজুর্গ নই যে স্বপ্নে যা দেখব তা ই ফলে যাবে!! তবুও ভয় করে, দেশের জন্য কিছু না করতে পারলেও দেশকে বড় ভালবাসি যে!!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


