আমাদের পাশের বাসার মিনু আন্টি তার ছেলের জন্য চার চাক্কার সাইকেল কিনে দিয়েছিলেন। ঐ যে আছে না কি বলে, এক ধরনের সাইকেল যার পেছনের চাকার সাথে আরো ছোট ছোট দুইটা চাকা লাগানো থাকে যাতে আরোহী সহজে পড়তে না পারে! মিনু আন্টির ছেলে বিল্টুর চার চাকার সাইকেলটা দেখে আমার মনে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছিল। যাক, এবার তাহলে আমি নির্ভয়ে সাইকেল চালাতে পারব, মাটিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ব না। মনে কত আশা নিয়ে বিল্টুর আশেপাশে ঘুরঘুর করতাম যদি কখনো চান্সে ওর সাইকেলটা চালাতে পারি। কিন্তু বিল্টুটা ছিল আস্ত একটা ধরিবাজ! সাইকেলটা ছোয়ার আগেই মুখটা বড় করে চিতকার দিয়ে উঠত আআআম্মাআআআআ...... দেখ আমাদের পাশের বাসার ওই রোগা ছেলেটা আমার সাইকেল ধরতে চায়!!!! আর বলত যা হাবড়া কোথাকার, একদম আমার সাইকেল ছুবিনা!!!
ওই রকম একটা সাইকেল কিনে দেবার মত সামর্থ্য যে আমার আব্বার ছিল না তা নয়। আমিই মুখ ফোটে কোনদিন আব্বা কিংবা আম্মাকে কিছু বলিনি। বলার সাহস পেতাম না। কি রকম একটা ভয় যেন আমার মনের মধ্যে কাজ করত যা কখনও আমার মনের কথাটা মুখ গলে বাইতে বেরুতে দিত না। আজও দেয় না!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





