পবিত্র কুরআনের ১৬শ আয়াত পরিবর্তন করার জন্য ইহুদী গোষ্ঠী বেশকিছু দিন ধরে চক্রান্ত করে আসছে। ভারতের হাইকোর্টের মাধ্যমে পবিত্র কুরআন পবির্তনের ষড়যন্ত্রে সফল হতে না পেরে চক্রটি বাংলাদেশের হাইকোর্টে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের চক্রান্তের অংশ হিসেবে বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রেসিডেন্ট পরিচয় দিয়ে দেব নারায়ণ মহেশ্বর কুরবানী নিয়ে আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছে বলে মনে করছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদরা। কুরআন পরিবর্তনের চক্রান্তকারীরা ভারতের হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেছিল, কিন্তু ভারতের হাইকোর্ট তা গ্রহণ করেনি। বাংলাদেশের মুসলমান বিচারপতিগণ কুরবানী সংক্রান্ত রিট গ্রহণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশের আলেম সমাজ।
সম্প্রতি সংবিধানের ৫ম সংশোধনী বাতিল করে সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর (ঈমান) আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দেয়া এবং ধর্মীয় সংগঠন ও রাজনীতি না করার বিধান সংযোজন করা এবং কুরবানী নিয়ে রিট দায়ের করা একই সূত্রে গাঁথা বলে মনে করছে তারা। ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারলে পবিত্র কুরআনে জিহাদ ও আন্দোলন সংক্রান্ত কয়েকশ আয়াত নিষিদ্ধ হয়ে যাবে বলে আলেম সমাজ মনে করছে। সরকার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মিথ্যা অজুহাতে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করলেও মুসলমানদের কুরবানী নিয়ে একজন হিন্দু ব্যক্তি রিট দায়ের করার বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। আলেম সমাজের পক্ষ থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কারণে দেব নারায়ণ মহেশ্বরকে গ্রেফতার করার দাবি জানিয়ে আসলেও সরকার তা আমলে নিচ্ছে না।
কুরবানী নিয়ে রিট দায়ের করা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলেম মাসিক মদীনা সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দিন খান দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, গত কয়েকবছর ধরে ইহুদীরা পবিত্র কুরআনের ১৬শ আয়াত নিষিদ্ধ করার জন্য চিহ্নিত করেছে। তারা বিভিন্নভাবে কুরআনের এসব আয়াত নিষিদ্ধ করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রথমে তারা ভারতের হাইকোর্টে রিট করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ভারতের হাইকোর্ট তা গ্রহণ করেনি। ইহুদীরা কুরবানীর বিষয়ে বির্তক সৃষ্টি করেছে। অথচ তাদের তাওরাতেই বলা হয়েছে, ইব্রাহীম (আঃ) তার একমাত্র সন্তানকে কুরবানী দিতে বলা হয়েছে। আর ইব্রাহীম (আঃ) এর একমাত্র সন্তান ইসহাক (আঃ) নন, ইসমাইল (আঃ)। আর ইব্রাহীম (আঃ) ইসমাইল (আঃ)কে কুরবানী দিতে সম্মতি হলে আল্লাহ তাকে সন্তানের সু সংবাদ দেন। ইসমাইল (আঃ) এর ১৪ বছর পর ইসহাক (আঃ) এর জন্ম হয়েছে।
তিনি বলেন, ইসহাক (আঃ) ফিলিস্তিনে বসবাস করেন। আর ইসমাইল (আঃ) বসবাস করেন মক্কায়। হজ্ব ও হজ্বের অনুসঙ্গ হলো মক্কা কেন্দ্রীক। হজ্বে কুরবানী দেয়া হয়। ইসহাক (আঃ) এর বায়তুল মোকাদ্দাস কেন্দ্রীক হজ্ব হয় না। আর ইসহাকের (আঃ) জাতির মধ্যে কুরবানীর ধারনা নেই বলেও তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন, কুরবানীর বিষয়ে মাআরেফুল কুরআন, তাফসীরে ইবনে কাসীর ও সীরাতুন্নবী গ্রন্থে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের হাইকোর্ট এ বিষয়ে রিট খারিজ করে দিয়েছে অথচ বাংলাদেশের হাইকোর্ট কিভাবে এ রিট গ্রহণ করলো, এ জন্য তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলনের আমীর সৈয়দ মাওলানা রেজাউল করীম বলেন, ইসলামকে বির্তকিত করার কৌশল হিসেবে কুরবানী নিয়ে রিট করা হয়েছে। একজন হিন্দু লোকের ইসলাম ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা ঠিক নয়। বাংলাদেশ ও ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ রিট করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন। বিচারক ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত দিয়ে কোন সিদ্ধান্ত দিবেন না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বলেন, বাংলাদেশের মতো মুসলিম রাষ্ট্রে কুরবানীর মতো স্পর্শকাতর বিষয়টি বিচারকগণ কিভাবে গ্রহণ করলেন তা দুঃখজনক। এ রিট ইসলামী শরিয়তের উপর বড় ধরনের আঘাত। দেড় হাজার বছর ধরে চলে আসা রীতিতে কোন বির্তক নেই, আজ এ বিষয়ে বির্তক সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অনৈসলামী করণের চক্রান্তের অংশ হিসেবে এটি করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী বলেন, এ রিট করে ঔদ্ধত্যের সকল সীমা অতিক্রম করেছে। ভারতেও কেউ এ ধরনের কাজ করতে সাহস পায় না। এটি কুরআন পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের অংম। বাংলাদেশের মতো দেশে এ ধরনের কাজের মাধ্যমে উস্কানি দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। বর্তমান সরকার দিন বদল করতে চায়। এ সরকারের আমলেই কুরআন বদলের দুঃসাহস দেখিয়েছে।
ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমীর হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, কুরবানী ঘটনার পর ইব্রাহীম (আঃ) এর প্রথম স্ত্রী বিবি সা‘রার গর্ভে ইসহাক (আঃ) এর জন্ম হয়। এক শ্রেণীর ইহুদী খৃষ্টান এ সর্ম্পকে এক ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য চেষ্টা করছে। অবিলম্বে দেব নারায়নকে গ্রেফতার করে তাকে ফাঁসি দেয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান।
উল্লেখ্য, গত রোববার বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রেসিডেন্ট পরিচয় দিয়ে দেব নারায়ণ মহেশ্বর কুরবানী নিয়ে আদালতে রিট পিটিশন দায়ের। তাতে বলা হয়, ইসমাইল (আঃ)কে নয়, ইসহাক (আঃ) কে কুরবানী দিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব মিঞা ও বিচারপতি রেজাউল হকের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ রিট গ্রহণ করেন
http://www.dailysangram.net

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

