somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উলকি আঁকা বৈশাখ

০৯ ই মে, ২০০৭ ভোর ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এবারের বৈশাখে নওরিতার আনন্দ একটু বেশী বলে মনে হয়েছে অলেকের। গেল বছর অলক নওরিতাকে নিয়ে বৈশাখী মেলাতে বেড়াতে যায়নি বলে সেই অপরাধবোধ থেকেই এবারের বাড়তি প্রস্তুতি। গত বছর এক অনুচ্ছেদ ফিচার লেখার উপজিব্য খুঁজতে অলক পালিয়ে গিয়েছিলো বান্দরবান,বৈসাবি জল উৎসব দেখতে। নওরিতার সেবার খুব অভিমান হয়েছিলো। নওরিতার অপো অলক হলিডেতে আসবে , নওরিতা আটপৌড়ে শাড়ি শাড়ি পড়বে, আলতা দেবে পায়ে, কাঠ বেলী দিয়ে গড়া গাজরা পড়বে খোপায়। সব কিছুই আগে থেকে গোছানো ছিলো নওরিতার। তবে অলকের পাঞ্জাবী কেনা হয়নি। চৈত্র সংক্রান্তীর আগের রাতে আড়ং এ ভীরের মধ্যে অলকের চোখে পরলো গেরুয়া রঙ্গের সর্ট পাঞ্জাবী। বাবা মারা যাবার পর অলক কোন উৎসবে কিছু কেনে না । অলকের উৎসব বলতে এক বৈশাখী মেলা। বছরের ঐ একদিনই অলক খুব ঘটা করে একটা পাঞ্জাবী কেনে। নওরিতা মুগ্ধ হয়ে অলকের পাঞ্জাবি কেনা দেখে। শুধু অলকই না সাধারন মানুষের শপিং দেখে মনে হচ্ছে যেন ঈদের শপিং করছে সবাই।

ভোর হতেই ঢাকাবিশ্ব বিদ্যালয় এলাকায় মানুষের উপচে’ পরা ভীর। চারদিক থেকে স্রোতের মত মানুষ আসছে।এবারের মানুষের ভয়মনে হচ্ছে অনেক কম। তত্বাবধায়ক সরকারের সামগ্রীক উদ্যোগ মানুষের আতœবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। রমনা বটমূল ও বিশ্ব বিদ্যালয় এলাকার আশে পাশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পায়ে হাঁটা ছাড়া গত্যান্তর নেই। সমস্যা হলো নওরিতাকেনিয়ে।শাড়ি পরে নওরিতা বেশীন হাটতে পারেনা। একটু পর পর অলকের পাঞ্জাবী টেনে ধরে নওরিতা। ” -এই অলক একটু আস্তে হাটোনা, আমার শাড়ি খুলে যাবে তো। খানিকন থেমে অলক আবার লম্বা পা বাড়ায়। নওরিতা এবার অলকের হাত টেনে ধরে বললো আমাকে ফেলে একা একা হাটছোকেন? আমার হাত ধরে হাটতে কি তোমার লজ্জ্বা লাগছে নাকি? নওরিতাকে থামিয়ে অলক কাঁধ থেকে হাতে তুলে নেয় তার শখের ক্যামেরা। কিক কিক শব্দের সাথে বিদ্যুতের মতো কয়েক ছটা আলোর ঝলক।
-দেখো নওরিতা কি অসাধারন ছবি । দেখো মেয়েটির গালে আঁকা উলকিটা কি অসাধারন হয়েছে! থামো, আরো কয়েকটা ছবি তুলে নেই...
নওরিতা চারু কলার বকুল তলের সবুজ ঘাসে বসে পড়ছে,”
- তুমি তোমার ছবি তুলো ,আমার সাথে বেড়াতে হবেনা” নওরিতার অভিমানী সুর। অলক নওরিতাকে ছাড়িয়ে খানিকটা দুরে সরে এসেছে,নওরিতার অভিমানী মুখ খানিকটা আড়াল হলেও অলকের ক্যামেরার সার্টার চলছে।
আমের চাটনি বিক্রেতা, বেলুন ওয়ালা,চরকি ওয়ালা কিংবা রাজপথে শসা বিক্রির দৃশ্য নিশ্চই বিলেতের লোকজনের কাছে আকর্ষনীয় হবে।এই ছবি তুলতেই হবে। বাংলাদেশের বৈশাখের একটা খন্ড চিত্র পাবে বিলেতের নতুন প্রজন্ম।রাস্তার মোড়ে মোড়ে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দল বেঁধে গান গাইছে। মেয়েরা হাতে আর গালে সমানে উলকি আকছে। ছেলেরা বাংলাদেশের পতাকা মাথায় দিয়ে কাঠ ফাটা রোদে হেটে বেড়াচ্ছে , কি অসাধারন আবহ!!
ফুদিয়ে যে ছেলেটি স্বপ্নের বুদ বুদ ছড়াচ্ছে অনন্ত আকাশে, সে হয়তো জানেনা দৃশ্য টি দেখতে কতটা অসাধারন! সে শুধু এই টুকু জানে এই স্বপ্নের বুদ বুদ তাকে রাতের খাবার জোগার করে দেবে। এবারের বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির পিছনের দিকে একটা বিশাল আকৃতির ক্রিকেট ব্যাট রাখা হয়েছে। এটি বিশ্বের দীর্ঘতম ক্রিকেট ব্যাট । সবাই ঐ ক্রিকেট ব্যাটে স্বার করছে, ব্যাটের এক জায়গায় লিখা,” হাবিবুল এখনও খেলে” ? অলক দীর্ঘতম ক্রিকেট ব্যাটে স্বার করলো।

নওরিতার এসব নিয়ে ভ্রপে নেই ,তার আনন্দ অলককে একটু ছুঁয়ে থাকা, একটু পাশে বসে থাকা, বেশ কিছু সময় এক সাথে কাটানো। বৈশাখী মেলায় নাগর দোলা চড়া, কিংবা দুপুরে একসাথে ভর্তা দিয়ে ভাত খাওয়া।
নওরিতা একটু তাকাওতো ,তোমার অভিমানী রক্তীম মুখের একটা ছবি তুলি। অলক শোন, ন্যাকামো করবে না। তোমার এইসব ঢং আমার অসহ্য লাগছে,তুমি বরং উলকি পরা মেয়েদের ছবি তুলো, আমার ছবি তুলতে হবেনা। অলকের মুখে অপরাধের ছায়া। চোখ ঢেকে দেয়া চুলের গুচ্ছ সরিয়ে নওরিতার পাশে বসলো অলক। ক্যামেরার ডিসপ্লে অপশনে গিয়ে অলক একে একে সব ছবি নওরিতাকে দেখাতে লাগলো।দেখো কি অসাধারন সব ছবি। নওরিতা তুমি কি জানো ১৩ মে লণ্ডনেও বৈশাখী উৎসব হবে। ওখানের ছেলেমেয়েরা যারা বাংলাদেশের বৈশাখী মেলার এই আনন্দ উপভোগ করতে পারেনা তারা যদি এইসব দেখে কত খুশি হবে জানো?
-অলক তুমি হলিডেতে এসেও বিলেতের মানুষকে খুশি করার এসাইনমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত, আর যে নওরিতা তোমার জন্য এক বছর অপো করে থাকে তাকে খুশি করতে কি করছো শুনি?
-অলক ক্যামেরা বন্ধ করলো। নওরিতার হাত ধরে টেনে তুললো , চলো আজ তোমাকে নাগর দোলা চড়াবো। যতন আমাদের মাথা না ঘুরে আমরা ততন নাগর দোলা চড়বো।
-না না আমার ভয় লাগে। চলো আমরা আমের চাটনি খাই।
নওরিতার হাত ধরে অলক বললো চল......
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৯
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×