আমার প্রিয় পোস্ট

আসুন এই মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুকে অসম্ভব করে দেই ।

০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৬

শেয়ারঃ
0 4 0


নিতান্ত কোন দূঘটনা কিংবা আকস্মিক দূর্বিপাকের কথা বলছিনা, তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর পথে এগিয়ে যাবার স্মৃতিচারণ করিছ, আমি আমার প্রিয়তম বাবার কথা বলছি, সেই রাতের কথা বলছি, তারও আগে অসংখ্য রাত মাস আর বছর পেরিয়েছি আমরা, কিন্তু সেই রাতে আমি দেখেছি আমার কোলেই একটি নিশ্চিত মৃত্যু আমার জন্য অপেপক্ষা করছে। কি নির্মম, কি নিষ্ঠুর ! কিছুক্ষণ পর আমার বাবার মৃত্যু হবে, আর একজন সন্তান হয়ে আমাকে নিরুপায় হয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে ! কিভাবে একজন জীবন্ত মানুষ তার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সন্তান হয়ে আমি অর্থবের মতো শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছি সেই মৃত্যু! প্রায় এক যুগ আগের কথা বলছি আমি। সেই সময়ে বাবাকে তিনটা কেমোথেরাপি পর্যন্ত সহ্য করেছে এই প্রকৃতি, তারপর চোখ বুজলেন বাবা। তখন সবে মাত্র আমি স্কুলের গন্ডি পার হয়েছি, আমার কলম তখন জেগে উঠবার পৌরুষ অর্জন করেনি, সব কিছু বুঝে উঠার আগে তাই আমাকে মৃত্যুকেই স্বাগত জানাতে হয়েছিলো।

প্রিয় কলম সৈনিক, ব্লগার, কবি জিফরান খালেদের বাবাকে আমি আমার বাবার চেয়ে ভিন্ন ভাবে দেখিনা। এক যুগ আগে হয়তো নিজের বাবার মৃত্যুকে অসম্ভব করার দাবী নিয়ে আপনাদের কাছে আসবার সামর্থ্য আমার ছিলোনা, তাই জীফরানের বাবার জন্য আপনাদের কাছে এসেছি। শুধু সহযোদ্ধা হিসাবে নয়, একজন বাবা হিসাবেও নয়. কিংবা শুধু মানবিক কারনেও নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে এ.জে.এস.এম খালেদের বেঁচে থাকার এই আকুতি সচেতন মানুষ হিসাবে আমাদের কতটা আলোড়িত করে সেই মাপকাঠি আমার কাছে নেই, তবে আমরা যে চাইলেই অসম্ভব করে দিতে পারি এই মৃত্যুটিকে। আসুন এই মৃত্যুকে না বলি।

স্কিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া এই রোগটিকে ডাক্তারী ভাষায় 'কিউটেনাস টি সেল লাইফোমিয়া'বলা হয়ে থাকে । রক্তের শ্বেত কনিকায় এই ক্যান্সার আক্রমন করে রক্তের গতিকে শ্লথ করে দেয়। এই ধরণের রোগের চিকিৎসা যেমন দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ, তেমনি ব্যয় বহুল। ১৯৯০ সনে জিফরানের বাবার এই রোগ ধরা পড়ে। দীর্ঘ ১৭ বছরের যুদ্ধের পর নিজের কষ্ট সহ্য করে যাচ্ছিলেন অনেকটা নিরবেই। দূরারোগ্য এই ব্যাধিটির চিকিৎসা জন্য ডাক্তাররা মেডিকেশনের কথা বলছেন। সেই সাথে ডাক্তাররা ৯০ হাজার ইউ এস ডলারের একটি আনুমানিক চিকিৎসা ব্যায়ের কথাও স্বরণ করিয়ে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যার্নফোর্ড মেডিক্যাল ও পেনিসেলভিনিয়া মেডিকেশন সেন্টার এই চিকিৎসার জন্য উৎকৃষ্ট স্থান। চিকিৎসা ব্যায়ের এক বিশাল পাহাড় আর ভিসা জটিলতার দুষ্ট চক্রে পড়ে , বেঁচে থাকার যুদ্ধটা থেমে আছে ভারতের চেন্নাই আর ভেলোরে চিকিৎসা নেওয়ার মধ্য দিয়ে। তবুও খরচ হয়ে গেছে প্রায় ১২ লাখ টাকা !

এই লেখা যখন আমি লিখছি তখন জিফরান আমাকে টেলিফোনে জানালো তারা বাবা এই বিষয়টি অপছন্দ করছেন, আমি এই বিষয়টি নিয়ে লিখে যেন সময় নষ্ট না করি, তার সময় শেষ হয়ে আসছে, যা হবার হবে.....আমি এক অবাধ্য সন্তানের মতো লিখে চলেছি, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা গুনী শিক্ষকের কথা। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই যিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকা অবস্থায় অসাধারণ মেধার অধিকারী হবার কারণে সোভিয়েত ইউনিয়নের ফুলব্রাইট বৃত্তিও পেয়ে যান, ফিরে এসে দেশের হন। শিক্ষকতা শুরু করেন চট্র্রগ্রাম বিআইটিতে, বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশনেও কিছুদিন কাজ করেন। কাজ করেন বিসিক, ইয়াঙ্গুনের মতো গুও“ত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে শান্তা-মরিয়াম ইউনিভার্সিটিতে টেকনিক্যাল এ্যডভাইজার ও ফ্যাকাল্টি হিসাবে কর্মরত। তাঁর লেখা দুটি গ্রন্থ 'পোশাক শিল্পে ওয়ার্ক স্টাডিজ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কৌশল' এবং 'পোষাক শিল্পে মান ব্যবস্থাপনা' আমাদের গার্মেন্টর্স শিল্পের অন্যতম দলিল। কিন্তু জীবন মৃত্যুর এই সন্ধিক্ষনে আজ বড় বেশী অসহায় এই মুক্তিযোদ্ধা। বিপন্ন হতে চলেছে তার জীবন নিছক অর্থের অভাবে !!


অসম্ভব গুনী, অভিমানী আর সৎ এই মুক্তিযোদ্ধার সহযোগিতায় হাত বাড়িয়েছেন অনেকেই। সু-শান্ত, সুবিনয় মুস্তফি , জিফরান, ধ্র“ব, নিঝুম আর আমি বসেছিলাম ব্রিকলেনে, সিদ্ধান্ত হলো ব্লগে ব্লগে আমরা এই আবেদন ছড়িয়ে দেবো। নিঝুম লিখবে সচলনায়তনে , আমি সামহোয়্যার ইনএ আর সু-শান্ত আমার ব্লগে । সুবিনয় খুলেছেন ফেসবুক গ্র“প(Click This Link), খোলা হয়েছে একাউন্ট, লিংক আছে পে পলের( ), তৈরী হয়েছে ওয়েব সাইট (http://www.saveafreedomfighter.org) সহায়তার দ্বার খুলে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্লগার রেনেটের ভাই সঞ্জয় পেরেরা, ক্রেডিট কার্ডে কিনে দিয়েছেন ৩ হাজার দুশ ডলারের ঔষধ। ব্লগার সিগ্ধা ঔষধ ক্রয় সংক্রান্ত জটিলতা দূর করে দিয়েছেন, প্রতি মাসে এই ঋণের এই বোঝা বাড়ছে....

আমার কাছে এমন কোন যাদুর চেরাগ নেই যে, আমি একজন বাবা কিংবা একজন মুক্তিযোদ্ধার জন্য এক ঘসাতেই ৯০ হাজার ডলারের মতো বিশাল অংকের অর্থ যোগার করে ফেলবো। তবে আমি স্বপ্ন দেখি হাজার মানুষের মানবিক চেতনায় একটি অসম্ভব কে সম্ভব করার। এমন দৃষ্টান্ত ব্লগাররা দেখিয়েছেন বহুবার। আজ আবার এ জে এস এম খালেদের জন্য আমাদের মানবিক অনুভূতিগুলো জেগে উঠুক থেমে যাক এই মৃত্যুর ডাক।


একাউন্ট ডিটেইলস :

A. J. S. M. Khaled
Account no. 1510200470775001,
Swift Code: BRAKBDDH, BRAC BANK,
Uttara Branch, Dhaka

 

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪০
মনির হাসান বলেছেন: হাজার জন মিলে দায়িত্বটা ভাগাভাগি করে নেই ...
অনেক সহজ হবে ব্যাপারটা ..

পাশে থাকলাম ...
৩. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৫৭
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

একজন সাহসী মুক্তিযুদ্ধার সর্বাঙ্গিন সুস্থতা কামনা করি ।
৪. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:১৩
অন্যসময় বলেছেন: সহমত - একজন মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচানর দায়ভার আমাদের সবার
৭. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:৪৭
লারেলাপ্পা বলেছেন: আব্বে পোস্ট স্টিকি হয়না ক্যা ?? মানুষকি সব অমানুষ অইয়্যা গেলো গা ??

৮. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:০৮
ক-খ-গ বলেছেন: স্টিকি করা হোক
৯. ০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:২৬
রুদ্র আনোয়ার বলেছেন: তানভির ভাই সাইটের নাম টা তে http://www.saveafreedomfighter.org দিয়ে আপডেট করেন।
১০. ০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৩৬
মুহম্মদ জায়েদুল আলম বলেছেন: লেখাটিকে অতি সত্বর স্টিকি করা হোক।
১১. ০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৪৬
থার্ডআই বলেছেন: পোস্টি স্টিকির ব্যপারে কতৃপক্ষের নিরব ভূমিকা দেখে আমি বিম্মিত!

স্টিকির নীতিমালার ব্যপারে সামহোয়্যার কতৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ব্যপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই মুক্তিযোদ্ধার জন্য ব্লগারকরা চাইলে অনেক কিছু করতে পারে কিন্তু সেই সহযোগিতাটুকু নিয়ে কতৃপক্ষের এগিয়ে আসা উচিত বলে আমি মনে করি। কতৃপক্ষ কিসের জন্য অপেক্ষা করছে সেটি আমার কাছে স্পষ্ট নয়। আশা করি মডারেটরা তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।

আমিন চাইনি আমার নিজের লেখাকে স্টিকি করার জন্য আবেদন জানাবো। কিন্তু নিতান্ত নিরুপায় হয়ে এই মানবিক আবেদনটির জন্য কতৃপক্ষকে অনুরোধ জানাতে বাধ্য হলাম।
১২. ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪২
মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন রেজা নাদিম বলেছেন: ৬৩,০০,০০০ টাকাই তো। আমরা তো ১৫ কোটি মানুষ....................

পোষ্টটি স্টিকি করা হোক।
১৩. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫৫
লীনা দিলরূবা বলেছেন: পোস্টটি দেরীতে চোখে পড়লো বলে খারাপ লাগছে। এই মহান মানুষটির জন্য আমরা কি আমাদের হাত প্রসারিত করবোনা! অবশ্যই করবো। আমার বিশ্বাস, পুরো টাকাই জোগাড় হবে। আমি বিশ্বাস করছি কারন, মানুষ তার বিশ্বাসের সমান বড়।

একজন মুক্তিযোদ্ধার, একজন পিতার, একজন সহ ব্লগারের পিতার জীবন রক্ষার ব্রত নিতে বিশ্বাস নামক গাঢ় বস্তুটা আমাকে নিদারুণ তাগাদা দিচ্ছে...

আমার সাধ্যমত আমি করবো।

পোস্টটি স্টিকি করে কর্তৃপক্ষ তাদের হাত প্রসারিত করুক। ব্লগারদের সবার কাছে খবরটি যেন যায় সেই দায়িত্বের কথা মাথায় রেখে পোস্টটি স্টিকি করা হোক।
১৪. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৩
সুমন রহমান বলেছেন: ইঞ্জিনিয়ার এ জে, এস এম খালেদ এর চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটানো তাঁর পরিবারের পক্ষে নিতান্ত দূরূহ, এটা যে কেউ বুঝবে। দরকার সকলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশগ্রহণ। সামহোয়্যার ইতোমধ্যে এরকম উদ্যোগে সাড়া দিয়েছে এবং এতে অনেক সুফলও এসেছে। এবারও তাই হোক। জানুয়ারির পোস্ট, কিন্তু এই মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক এবং লেখকের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংকুলান এখনো দূর অস্ত। সামহোয়্যার তার দায়িত্ব পালন করবে বরাবরের মত, এটা আমি প্রত্যাশা করি।

থার্ড আইকে ধন্যবাদ এই পোস্টের জন্য। স্টিকি করা হোক।
১৫. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৫৪
কৌশিক বলেছেন: পোস্টটা স্টিকি করা হোক পোস্টটা স্টিকি করা হোক পোস্টটা স্টিকি করা হোক
পোস্টটা স্টিকি করা হোক
পোস্টটা স্টিকি করা হোক
পোস্টটা স্টিকি করা হোক
পোস্টটা স্টিকি করা হোক
পোস্টটা স্টিকি করা হোক

 

মোট সময় লেগেছে ১.২৬২৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
স্বপ্নকে ছুঁতে চাই সৃষ্টির উল্লাসে
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ