গণতান্ত্রিক অধিকার হরতাল বন্ধ করা যাবে না। আজকাল খুচরা দোকানদরও হরতাল দেয়। আবার কেউ কেউ বলে ধুস শালি সিগারেট ধরানোর দেশলাই নাই-- কাল হরতাল।
কিন্তু হরতাল দিয়ে কোনো লক্ষই অর্জিত হয় না কেবল মানুষের ভোগান্তি ছাড়া। আওয়ামী লীগ ১৭৪ দিন দিয়েছে অতএব বিএনপিকে ১৭৫ দিন দিতে হবে। এই ধরনের প্রতিযোগিতায় চলছে দেশ। কিন্তু এই হরতাল তো বন্ধ গওয়া উচিত। আবার কেউ কেউ বলবেন এটা গণতান্ত্রিক অধিকার অতএব- এটা হরণ করলে একদলীয় তান্ডব শুরু হয়ে যাবে।
আজকাল সবাই বলছেন- হরতাল বন্ধে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতৈক্য হওয়া দরকার। কিন্তু আমি শতভাগ নিশ্চিত এই মতৈক্য হবে না। তাহলে কি করা যাবে?
আমার মতে একটি হরতাল নীতিমালা তৈরি করা যেতে পারে।
বিষয়টিকে ইয়ারকি মনে না করে একটু ভেবে দেখতে পারেন-- এই নীতিমালায় কি কি বিষয় সংযুক্ত করা যায়।
হরতাল আহবানকারীর যোগ্যতা
নিবন্ধিত দল ছাড়া কেউ হরতাল করতে পরবে না। কোনো বিচ্ছ্নি পেশাজীবীরা ধর্মঘট করতে পারবে কিন্তু হরতাল নয়। আগে ছাত্ররা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ডাকতো এখন তারা হরতাল ডাকে। এই অধিকার কি তাদের থাকা উচিত?
হরতাল ডাকার যৌক্তিকতা
হরতাল অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত হতে হবে। সরকার যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কোনো আচরণ করলে এবং সেটি যদি সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয় তার জন্য হরতাল করা যাবে। কাউকে গ্রেফতার করলে বা জামিন না দিলে আদালত অবরোধ করুন, সরকারি দপ্তর ঘেরাও করুন। হরতাল কেন? সমির আলী বা আ্দুল হালীম গ্রেফতার হলে সাধারণ মানুষের কি? প্রয়োজনে নিজের দলের লোকজন নিয়ে অনশন করুন। কালো ব্যাজ ধারণ করুন। কিন্তু দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, তেল গ্যাস এর মূল্য বৃদ্ধি, বাসভাড়া বৃদ্ধি, এর জন্য হরতাল হতেই পারে। কৃষক যে ন্যায্যমূল্য পায় না তার জন্য হরতাল হয় না কেন?
যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কোনো করতাল হলে-- ব্যক্তির ক্ষয়ক্ষতির জন্য সংশ্লিষ্ট দলকে ক্ষতিপূরণে বাধ্য করা হবে।
পিকেটিং এর নীতিমালা
হরতালের সপক্ষে পিকেটিং করতে দিতে হবে। কারো যেমন হরতাল ডাকার অধিকার আছে তেমনি সেটা না মানারও অধিকার আছে। তেমনি হরতাল না করারও অধিকার আছে। কাউকে বাধা দেওয়া যাবে না। জোর করে হরতাল পালনে বাধ্য করাকে ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
ক্ষতিপূরণের বিধি
সরকার যদি কোনো হরতাল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তাহলে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই ক্ষতিপূরণ কারো দৈনিক উপার্জন বা উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন খরচের কম হলে চলবে না।
ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনা
প্রতিটি রাজিনিতক দল বিশেষত যারা নিবন্ধিত তারা একটি তহবিল তৈরি করবেন এবং হরতালের জন্য প্রিমিয়াম প্রদান করবেন। বিআইডিএস এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রতিদিনের হরতালের ক্ষতি সূচারুভাবে ক্যালকুলেশন করে প্রিমিয়াম নির্ধারিত হবে। জনসভা করতে মাইক ভাড়া দেন, কর্মী আনতে বাসভাড়া দেন, পিকেটিং করতে পয়সা দেন, অফিস পাহাড়া দেওয়ার জন্য বিরিয়ানীর খরচ ব্যয় করেন-- হরতালের জন্য প্রিমিয়াম দেবেন না তাতো হতে পারে না।
উপসংহার
এই নীতিমালাকে আইনে পরিণত করতে হবে। অপরিণত রাজনীতিকদের দিয়ে হবে না। জনগণের প্রনীত এই আইন না মানলে হরতাল আহবান কারীর অফিস থেকে ইট খুলে নেওয়া হবে। নেতাদের বাড়ীর এসি ফ্যান খুলে নেওয়া হবে।
খুব বেশিদিন নাই জনগণই এই পন্থা অনুসরণ করবে।
আপনাদের আরো কোনো পয়েন্ট যোগ করার ইচ্ছা থাকলে তা করুণ এবং এটা নিয়ে এগিয়ে যাই।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১০:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



