somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন সেলিম আল-দীন এবং নাট্যরীতি

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেলিম-আল-দীন রবীন্দ্র পরবর্তী যুগে বাংলা নাটকের সবথেকে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বাংলা নাটকে তিনি যুক্ত করেছেন এক স্বকীয় ধারা। ২০০৮ সালের এই দিনে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন তিনি। তিনি আসলে মারা যাননি। তিনি বেঁচে ছিলেন, আছেন ও থাকবেন তার কাজের মাধ্যমে। বাংলা নাটকে তিনি যোগ করেছেন মহাকাব্যিক বর্ণণাধর্মী রীতি।


বাংলা নাটকের এই জীবন্ত কিংবদন্তীর জন্ম ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন ডানপিটে স্বভাবের। একই সাথে পড়াশোনাতেও ছিলেন সবার সেরা। বাবা ছিলেন চাকুরীজীবী। বদলির সূত্র ধরে তিনি কখনও ছিলেন চট্রগ্রাম, কখনও সিলেট, কখনও আখাউড়া আবার কখনও রংপুরে। মঙ্গলকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন ১৯৬৪ সালে। ১৯৬৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন ফেনী কলেজ থেকে। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন কিন্তু দ্বিতীয় বর্ষে পড়াকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেন তিনি। টাঙ্গাইলের সাদত কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।১৯৯৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে পি.এইচ.ডি ডিগ্রী লাভ করেন ।

কিশোর বয়স থেকেই তিনি বাংলা কবিতার প্রতি আসক্ত ছিলেন। বাংলা সাহিত্যের সকল প্রথিতযশা কবির কবিতা তিনি পড়ে ফেলেন। রবীন্দ্রনাথ, মধুসুদন দত্ত, সুকান্ত সবই ছিল তার নখদর্পনে। কিন্তু কবিতার ভাবটা কিছুতেই আসছিলনা তার মাঝে। পরবর্তীতে বাংলা নাটকের আরেক মহাপুরুষ মুনীর চৌধুরী দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বাংলান নাটকের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এরপর শুধুই এগিয়ে চলা। তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

গতানুগতিক ইউরোপের প্রসেনিয়াম তত্ত্বকে বাদ দিয়ে তিনি চালু করেন বাংলার হাজার বছরের পুরান শিল্পরীতিকে। তার প্রবর্তিত এ ধারা একেবারেই বাংলার নিজস্ব ধারা। লুঙ্গিনুসের অন সাবলাইম আর পিটার ব্রকের দ্যা এম্পটি স্পেসের তত্ত্বগুলোকে তিনি পরিণত করছেন প্রাচ্যের নান্দনিকতায়। শব্দ চয়নের ক্ষেত্রেও তিনি তৈরী করেছিলেন নিজস্ব ধারা। তিনি অনেক গানও লিখেছেন। গানকে তিনি বলতেন কথাসুর। তার লেখা ”কীর্তনখোলা” ও ”চাকা” নিয়ে তৈরী হয়েছে চলচিত্র।

তিনি তার নাটকের মাধ্যেমে গ্রাম বাংলার স্বরূপ উন্মেচন করেছেন। পাশাপাশি গবেষণা করে গেছেন বাংলার লোক তিনি সব সময়ই মনে করতেন ইউরোপের থেকে বাংলা নাটকের ইতিহাস অনেক পুরান ও সমৃদ্ধ।

সেলিম-আল-দীন ১৯৬৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় প্রথম নাটক লেখেন। তার রচিত নাটক বিপরীত তমশায় ১৯৬৯ সালে প্রথম রেডিওতে প্রচারিত হয় এবং পরবর্তী বছর একই নাটকটি টেলিভিশনে প্রচারিত হয়।

নাটকের প্রতি ভালবাসা থেকে একক উদ্যোগে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা অনুষদ চালু করেন। তিনি ঢাকা থিয়েটারের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। ২০০৮ সালের আজকের দিনে প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে তিনি ল্যাবএইডে ভর্তি হন এরপর সবাইকে কাঁদিয়ে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৪:০৬
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হা হা রিয়্যাক্ট না করে কেউ যাবেন না

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই লোকটা বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে আমেরিকা ও ইসরাইলের ধ্বংস চেয়ে আসছে, তাদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করার মত ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়ে আসছে; অথচ যুদ্ধ শুরুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

একা হতে দুহু. দুহু থেকে বহু : যুদ্ধ আর ধংসও সৃষ্টির চিরন্তন লীলা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৫১


বিধাতার পরে দুহাত তুলে
জানাই শুকরিয়া কারণ
অসীম শূন্যতার ভেতরেও
তিনি শুনেছিলেন প্রতিধ্বনি
নিজ সত্তারই গভীর আহ্বান।

তাই তিনি সৃজিলেন দুহু
আলো আর অন্ধকার
দিন আর রজনী
আকাশ আর ধরণী
প্রেম আর প্রত্যাশা।
একটি হৃদয় থেকে আরেকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি এখন ইরান নিয়ে ভাবছি না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:১৮



সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ২৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৯। মোহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

“সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে” (দিনলিপি, ছবিব্লগ)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫


রোদের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে....
ঢাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২৩৩

"সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে" -- নিজ শিশুর মুখে একথা শুনে মানব শিশুর মায়েরা সাধারণতঃ কপট রাগত স্বরে এমন প্রতিক্রিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান নিজে কি পেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫


ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে — রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান আসলে কী পেল? ইরানের Shahed-136 ড্রোন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×