somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিরোইজম এবং অবশেষে..........

১৫ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক॥
২০০৫ সালের রোজার মাসের ঘটনা। সবার মধ্যে একটা পবিত্র মনোভাব ,এ মাসে নামাজ পড়তে হবে,রোজা করতে হবে এবংু সংযমে চলতে হবে তো আমারমনেও একই ধরনের ইচ্ছা কাজ করছে। আমি ভাবতেই পারিনি আমার সিগারেট খাওয়ার খবর কেউ বাসায় নাঁলিশ করবে এবং যার কারনে আব্বু আমার উপর প্রচন্ড ক্ষেপে যাবে এবং এতটাই যে দুপুর ২টার সময় আমাকে বাসা থেকে বেরিয়ে চলে আসতে হবে বা সহজ ভাবে বলতে গেলে আমাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হবে। যাইহোক রাগে,ক্ষোভে মনের দুঃখে বেরিয়ে চলে আসলাম। পকেটে বেশ কিছু টাকা ছিল সুতরাং মনের যন্ত্রনা খানিক বাদেই ঠান্ডা হয়ে গেল। দোকান থেকে একটা সিগারেট কিনে ধরালাম । নিকোটিন ফুুসফসে ঢোকার সাথে সাথে মাথা ঠান্ডা হয়ে গেলো । মনে হল একি করলাম আমি বাসা থেকে বের করে দিল আর আমি বেরিয়ে আসলাম । রাগের মাথায় বাবা মা অনেক কথায় বলে থাকে কিন' তাই বলে সেই কথা ধরে নিয়ে আমার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসা ঠিক হয়নি । এখন আমি কি করি ,কোথায় যায় । তবে কি আবার বাড়ি ফিরে যাব। না আর বাড়ি ফেরা ঠিক হবে না। প্রচন্ড ভয় গ্রাস করতে শুরু করল কিন' কিছু করার নেই। ছোট বেলা থেকে আমার আর কিছু না থাক পেস্টিজটা খুব টনটনে । স্বাধীন ভাবে থাকার এই একটা মাত্র সুযোগ হাত ছাড়া করব না ঠিক করলাম। তাছাড়া কিছুটা হিরোইজম ও কাজ করল।
দুই॥
রাত ১২ টা বেজে ৩৫ মিনিট। আমি রাস-ায় রাস-ায় ঘুরছি। জীবনে এত রাত পর্যন- কখনও বাইরে থাকিনি । মনটা ভিষন খারাপ কি করি এখন। মোবাইলে রিং আসলে মনে করলাম হইত বাসা থেকে আব্বু ফোন করছে। কিন' না আব্বু না চাচা ফোন করছে ।ফোনটা কেটে দিলাম । আব্বু ফোন না করা পর্যন- রিসিভ করব না।আমার বন্ধু বান্ধব ও সেরকম নাই যে তাদের বাসাই যাব। বন্ধু বলতে এক তন্ময় কিন' সেও এখন ঢাকায় বেড়াতে গেছে। কিযে করব কিছু বুঝতে পারছি না। এভাবে বেরিয়ে আসাটা ঠিক হয়নি । আব্বু যদি রিং করে তবে এখুনি বাসায় চলে যাব।
তিন॥
রাত ০২ টা বেজে ১৫ মিনিট। আমি একটি চায়ের দোকানে বসে আছি। একের পর এক সিগারেট খাইতে খাইতে আমার অবস'া কাহিল হয়ে পরছে। দোকানদার এর সাথে কথা বলে দেখছি এই দোকানটা সারা রাত খোলা থাকে। মনে মনে একটু নিশ্চিন- হয় যাক রাতটা এখানে কাটিয়ে দেয়া যাবে। কিন' সে গুড়ে বালি কারন আজ নাকি দোকান এখুনি বন্ধ করে দেবে । আজকে নাকি তার বউ একটু তাড়াতাাড়ি যেতে বলেছে। কপাল যখন পোড়ে তখন সব দিক থেকেই পোড়ে। কোন দুঃখে যে পেস্টিজ দেখাতে গিয়েছিলাম তখন।
চার॥
আসসালাতু খইরুম মিনার নাউম......। ভোরের আজান হচ্ছে। মোবইলটা বন্ধ হয়ে গেছে কতক্ষন আগে বলতে পারব না। বাসা থেকে বের হবার সমই চার্জার আনিনি। এখন আমি রেল ষ্টেশনে ঘুরে বেড়াচ্ছি। সারা রাত ঘুমাইনি একের পর এক সিগারেট খেয়েছি শরীর এখন ভিষন ক্লান-। হাটছি আর চিন-া করছি সকালের আলো ফুটলেই বাসায় ফিরে আব্বুর পা জরিয়ে ধরব,ক্ষমা র্প্রাথনা করব । কিন' ইগোতে বাধলো তাই বেশিক্ষন চিন-াটা করলাম না।
পাঁচ॥
সকাল ০৮টা বেজে ০৫মিনিট। নাস-া করব বলে এক হোটেলে ঢুকলাম। নাস-া করছি এমন সময় এক বড় ভায়ের সাথে দেখা হয়ে ঘেল। এই ভাই আর আমি এক সাথে একটি সংগঠনে কিছুদিন কাজ করেছিলাম। বড় ভাই বলল তুই আমার একটা কাজ করে দিবি। বললাম কি কাজ, একটু জেস টাউয়ার(শপিং সেন্টার) এ গিয়ে মৃন্ময়দা এর কাছ থেকে ১০,০০০ টাকা নিয়ে এসে দিবি। আমার বলা আছে তুই শুধু গিয়ে নিয়ে আসবি। দেনা ভাই একটু কষ্ট করে এনে। এর পরে আর কোন কথা বলা চলে না।
ছয়॥
সকাল ১১টা। দাদার দোকানটা জেস টাওয়ার এর পাঁচ তলায়। প্রথমেই দাদা বলল কিরে তোর মুখ এত শুকনো শুকনো লাগছে কেন রাতে ঘুমাসনি। বললাম না দাদা ও কিছু না । তপন ভাই পাঠিয়েছে টাকার জন্য। জানি আমি তপন রিং দিয়েছিল । তুই এক কাজ কর ছাঁদে গিয়ে সিগারেট খেতে থাক আমি টাকা নিয়ে আসছি। টাকা দিতে ছাঁদে যাওয়া লাগবে কেন এখানেই তো দিতে পারে।কেমন সন্দেহ হল। যাই হোক ছাদে গেলাম । পরপর দুইটা সিগারেট শেষ করে ফেললাম কিন' দাদার কোন খবর নেই। তিন নম্বর সিগারেটটা যখন জ্বালাতে যাব এমন সময় সামনে দেখি আমার দুলাভাই যাকে আমি যমের মত ভয় পাই ।
সাত॥
আমার চোখে মুখে ধুলা ঢুকছে । চোখ বন্ধ করছি কিন' কাজ হচ্ছে না ,হাত দিয়ে যে ধুলা ঠেকাবো তার উপাই নেই কারন আমার হাত পিছমোড়া করে বাঁধা। আমি বাসাই যাচ্ছি । দুলাভাই মটরসাইকেল চালাচ্ছে আমি পেছনে বসা ।ভালো লাগার কথা । কিন' এই অবস'ায় যে বাসাই যাব বুঝিনি তাই ভালো লাগছে না। কিছু দুর যাবার পর ভাঙ্গা রাস-ায় ঝাকি লাগাই আমি তাল সামলাতে না পেরে পরে গেলাম। দুলাভাই ভাবল যে আমি লাফ মেরে পালাতে গিয়েছিলাম। আর যাই কোথায়.............
এখন আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি এবং আমার জীবনের মত শিক্ষা হয়েছে।
(জীবনে ছোট একটি ভুল পদক্ষেপ অনেক বড় ক্ষতি করতে পারে)


সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:১৯
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×