আমার প্রিয় পোস্ট

C:\Documents and Settings\raad\My Documents\Lighting cig..jpg

নিরপেক্ষ সুচিন্তিত মতামত দিন-ট্রানজিট/করিডোর।

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:৪১

শেয়ারঃ
0 0

ভারত বাংলাদেশকে অনেকদিন থেকে চাপ দিচ্ছে ট্রানজিট সুবিধার জন্য।
এব্যাপারে সত্তর সরকার একটা সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এ সুবিধার ভাল ও মন্দ দিক গুলো কি?

১। প্রায় সমগ্র ইউরোপে এ সুবিধা থাকায় সবার লাভ ছাড়া কোন ক্ষতি হয়নি।

২। এশিয়ান হাইওয়ে যদি চালু হ্য় তাহ'লে এসুবিধার অনেকখানিই ভারত পেয়ে যাবে আপনা আপনিই।

৩। এ সুবিধা দিলে ভারতীয় বিছিন্নতাবাদীরা তাদের যুদ্ধ বাংলাদেশের ভেতর বিস্তৃত করতে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি অপ্রয়োজনীয় ও অনাকাংখিত যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে। মৌলবাদী সামলাতেই যে দেশের নাভীশ্বাস সে দেশ সাত রাজ্যের চৌদ্দ সন্ত্রাসী সংগঠন কিভাবে সামলাবে?

৪। এ সুবিধায় ভারত অর্থনৈতিক, যোগাযোগিয় ও সামরিক দিক থেকে অনেক লাভবান হবে।

৫। বাংলাদেশের লাভ?

ক।যেহেতু ২০০৭/২০০৮সালে ভারত চীনকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশে সবচে' বড় রপ্তানীকারক হয়েছে তাই বাংলাদেশকে এক্ষেত্রে বড় বড় ছাড় দিতে পারে এবং বাংলাদেশের পন্য আমদানীর ক্ষেত্রে অবাধ শু্ল্কমুক্ত নীতি অনুসরন করতে পারে- যার সম্ভাবনা কম।

খ। পানি বন্টনে বাংলাদেশ বেশ কিছু সুবিধা পেতে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের হাতে গ্যারান্টির চাবিকাঠিটি থাকবে।

দেশের স্বার্থ সংরক্ষনে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কেউই যে সৎ নয় তা তাদের শাসনামলে স্বাক্ষরিত বেশ কিছু চুক্তি পর্যবেক্ষন করলেই দেখা যায় (নাইকো চুক্তি যার দায়ভার দুদলের কোনটিই এড়াতে পারবেনা, সে চুক্তিতে দেশের স্বার্থ লংঘিত হয়েছে বারবার)। এব্যাপারে তাই সাধারন মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে যেভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বেলায় এগিয়ে এসেছে এবং জনমত গঠনে সক্রিয় হতে হবে।

সবার নিরপেক্ষ ও সুচিন্তিত মতামত আহবান করছি।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ট্রনজিট।করিডোর সুবিধা। ;
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:৫৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:৫৪
হমপগ্র বলেছেন: ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের ভেতরে ফাইবার ক্যাবল করতে চেয়েছিল। তখন বিনামূল্যে করা যেত। অথচ আমাদের বোদ্ধা সরকার বলল দেশের তথ্য পাচার হয়ে যাবে। সেই ফাইবার অপটিকস করা হলো ২০০৬ সালে এতগুলো বছর পর।

এশিয়ান হাইওয়ে কতগুলো দেশকে যেন একত্রিত করবে। ইউরোপে যা আছে। ইউরোপে ইংল্যান্ড ফ্রান্সের ভেতর দিয়ে গমন করে। জার্মানিতে যাওয়ার রাস্তা আছে। ইউরোপিয়ান হাইওয়ে। সেখানে কিন্তু ইংল্যান্ডের সন্ত্রাসীরা ফ্রান্সে ঢুকে আকাম করতেছে না। এরকম কোন খবর পাইনাই।

দেশের ভেতর দিয়ে যদি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়, দুইদিন পরে ভারত মায়ানমার নিজেই বাধ্য হবে ইউরোপের মত ভিসা ছাড়া অবাধে যাতায়াত করার সুযোগ দেবার জন্য। যাই হোক, আমাদের সংকীর্ণ মানসিকতা দিয়ে এগুলো সম্ভব নয় বোঝা! ইউরোপের কোন দেশ কিন্তু তাদের মধ্যে আন্তসংযোগের ফলে হাওয়া হয়ে যায়নি। বরং তাদের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পরেছে। আর আমরা খালি জুজু দেখি!
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪২

লেখক বলেছেন: আপনার মতামত যুক্তিগ্রাহ্য।

২. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:৫৬
সু্মিত বলেছেন: বাংলাদেশ মোটা টাকা পাবে এই সুবিধা দিলে।

টোল ট্যাক্স বসানো যেতে পারে।

প্লাস চট্টগ্রাম পোর্ট এর আয় বাড়বে। খুলনা পোর্ট সচল হবে।

এক্সটেনশন হিসেবে ভবিশ্যতে নেপাল ও ভুটান কেও একি সুবিধা দেয়া যেতে পারে।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৪

লেখক বলেছেন: খুলনা পোর্ট সচল হবে"

-চুক্তির পক্ষে বিরাট +পয়েন্ট। তবে এশিয়ান হাইওয়েতেও একই সুবিধে।

৩. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:৫৯
আতিকুল হক বলেছেন: বাংলাদেশের লাভের অঙ্কে কিছু টোল প্রাপ্তি ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের বর্তমান অবকাঠামো (সেতু এবং সড়ক) ভারতীয় অনেক ভারী ট্রাক বহনে সক্ষম নয় বলেই মনে হয়। আর ভারতের সাথে চুক্তির একটা বড় সমস্যা হল ভারত খুব সহজেই তা ভাঙ্গতে পারে। নেপাল ট্রানজিট, ফারাক্কা বা তিন বিঘা করিডোরের ক্ষেত্রে আমরা তা দেখেছি। সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা দরকার এবং অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া উচিত এ ব্যাপারে।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৬

লেখক বলেছেন: "বাংলাদেশের বর্তমান অবকাঠামো (সেতু এবং সড়ক) ভারতীয় অনেক ভারী ট্রাক বহনে সক্ষম নয় বলেই মনে হয়।"

১০০% একমত। ভারী যানবাহন উপযোগী করতে আমাদের মহাসড়কগুলোতে প্রচুর কড়ি ফেলতে হবে।

৪. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:৫৯
তনুজা বলেছেন: সহমত@হমপগ্র
৫. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:০৯
ফালতু মিয়া বলেছেন: আমাদের বিশেজ্ঞরা তো বেশীর ভাগই দালাল। তাদের দরকার নেই@ আতিকুল হক। আমাদের দরকার সাধারণ মানুষের মতামত। তারাই ভালমন্দ বুঝে সবচেয়ে বেশী।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৮

লেখক বলেছেন: এত কঠিন সত্য কথা এত সহজে কিভাবে বলেন?

৬. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:২০
সুবিদ্ বলেছেন: সোহরাওয়ার্দী বলেছিলেন, "ভারতকে বিশ্বাস করা যায়না"। এটা আজও সত্যি। কিন্তু আঞ্চলিক সহযোগিতার কোন বিকল্প এই যুগে নাই। নিজেদের মাজা নিজেদের দায়িত্বে শক্ত রাখতে হবে। আর ভারত জুজুর দিন শেষ। এইটা বুঝতে হবে যে, তিন দিক ভারতবেষ্টিত থেকে ভারতবিদ্বেষী মনোভাব আমাদের কোন লাভ দিবেনা। অন্যদিকে অস্থিতিশীল বাংলাদেশ-ও অখন্ড ভারতের জন্য যে হুমকি, এটাও তাদের বোঝা লাগবে।

ভারত উজানে, আমরা ভাটি অঞ্চলে। ওদের ১২০কোটি লোক যদি বাংলাদেশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে দেয়, তবে বাংলাদেশের ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

তাই আমাদের সতর্কতার সাথে ভালো নেগোশিয়েট করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর এইটা হতে হবে উইন-উইন ভিত্তিতে। আমরা ১৯৭২-এ তালপট্টি দিলেও ওরা এখনো বেরুবাড়ী দেয়নাই। এইবার নিজেরা আগেই দিয়ে দেয়ার আগে নিজেদের ভাগ বুঝে নিতে হবে।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৫২

লেখক বলেছেন: সোহরাওয়ার্দকে আমার ঠিক পছন্দ হয়না। তার শুধু একটা "Direct Action" এর জন্য কত হাজারো প্রান অকালে ঝরে গেছে............

৭. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:২৭
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: কয়েকটা প্রশ্ন এখানে ক্লিয়ার করতে হবে:

বর্তমান প্রস্তাবে এশিয়ান হাইওয়ে ব্যবহার করে ভারত যেমন বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে শর্টকাটে সেভেন সিস্টার রাজ্যগুলোতে গিয়ে সেখান থেকে চীন, বার্মা, থাইল্যান্ডে যেতে পারবে, বাংলাদেশকেও কি ভারতের ভেতরের রাস্টা ব্যবহার করে চীন, নেপালে যেতে দেয়া হবে কিনা?

আমি যতটুকু জানি, ভারতের প্রস্তাব ছিলো তারা আমাদের ট্রানজিট নেবে, কিন্তু আমাদেরকে দেবেনা (এখন প্রস্তাবনাগুলো কোন পর্যায়ে আছে জানিনা)। বাংলাদেশের পক্ষে এরকম ক্ষেত্রে কোন সুবিধা পাবার সম্ভাবনা নেই বলেই বাংলাদেশ এতদিন মিয়ানমার হয়ে যে হাইওয়ের প্রস্টাব সেটার পক্ষে লবিং করছিলো, যেখানে মিয়ানমার, চীন, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভারত -- এসব দেশেই বাংলাদেশ থেকে পণ্য স্থলে যেতে পারবে। এতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যে সুবিধাটা হতো তা হলো পশ্চিম থেকে আসা জাহাজগুলো অনেকদূর ঘুরে সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের বন্দরে না গিয়ে চিটাগাং বন্দরে নামার একটা নতুন অপশন তৈরী হয়।

বাংলাদেশ সরকারের এইধরনের রুটের জন্যই লবিং করা উচিত যেখানে আমরাও ভারতকে ট্রানজিট দেবো, ভারতও আমাদেরকে ট্রানজিট দেবে। উইন-উইন সিচুয়েশন। খালি টোলের পয়সায় কিছুই হবেনা।

আর পানির ব্যাপারে যেটা বললেন, বাংলাদেশ সরকারের আসলে রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক কোনদিক দিয়ে ভারতের সাথে ব্ল্যাকমেল গেম খেলার অবস্থা নাই (যেমন, ট্রানজিট চুক্তি সই করার পর বাংলাদেশ হঠাৎ করে বলতে পারবেনা যে পানি না দিলে ট্রানজিট বন্ধ করে দিবো, কারণ ভারতের আন্তর্জাতিক লবী এখন সবচেয়ে শক্তিশালী)। কাজেই ভারতের সাথে শত্রুভাবাপন্ন স্ট্যান্সে না গিয়ে, ঠান্ডা মাথায় এমন স্ট্যান্সে থাকটে হবে যেখানে একটা উইন-উইন সল্যুশন পাওয়া যায়।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪১

লেখক বলেছেন: আপনি ঠিকই বলেছেন। প্রস্তাবিত চুক্তিটি অসম বলেই মনে হয়।

"ট্রানজিট চুক্তি সই করার পর বাংলাদেশ হঠাৎ করে বলতে পারবেনা যে পানি না দিলে ট্রানজিট বন্ধ করে দিবো, কারণ ভারতের আন্তর্জাতিক লবী এখন সবচেয়ে শক্তিশালী।"

-বন্ধ করেই দেখিনা।

৮. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:২৪
সাধীন চেতা বলেছেন: ভারতের বিশাল অন্কের টাকার প্রস্তাব ধোকা ছাড়া কিছুই নয়।ভারত তার স্বার্থেই সব কিছু করছে। যে টাকা ভারত আমাদেরকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে চাচ্ছে , তারও বহুগুন টাকা আমাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে নিয়ে যাবে।
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১২

লেখক বলেছেন: ভারতের দেয়া টাকায় রাস্তা ভারী যান চলাচল উপোযোগী করতেই শেষ হয়ে যাবে।

৯. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৪
সু্মিত বলেছেন: সাধীন চেতা বলেছেন: ভারতের বিশাল অন্কের টাকার প্রস্তাব ধোকা ছাড়া কিছুই নয়।ভারত তার স্বার্থেই সব কিছু করছে। যে টাকা ভারত আমাদেরকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে চাচ্ছে , তারও বহুগুন টাকা আমাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে নিয়ে যাবে।

-----------------------------------

কেমনে????!!!!!!
১০. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪৭
দিগন্ত বলেছেন: আমার মনে হয় না একতরফা ট্রানজ়িট আদৌ আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত। হলে উভয়পক্ষ একে অপরকে ট্রানজ়িট দেবে নাহলে নয়। এশিয়ান হাইওয়ে চুক্তি এরকমই, যাতে সবাই একে অপরের পণ্য নিজের রাস্তার ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে দেবে। সুতরাং ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি তে না গিয়ে এশিয়ান হাইওয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেই বালাদেশের লাভ।

Click This Link

এশিয়ান হাইওয়ে ম্যাপ অনুসারে ভারত যেমন বাংলাদেশ মারফত (২ নং হাইওয়ে)ট্রানজ়িট পাবে তেমন বাংলাদেশও ভারতের মধ্যে দিয়ে (২ নং ও ৪৮ নং হাইওয়ে) দিয়ে নেপাল ও ভুটানের সাথে সরাসরি ট্রানজ়িট পাবে। আর ৪১ নং হাইওয়ে দিয়ে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে যোগাযোগ পাবে। আন্তর্জাতিক হাইওয়ের অংশ হিসাবে আমার মনে হয় না কেউ একে অপরের ট্রানজিটে সমস্যা তৈরী করতে পারে - সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনে সে মামলার বিচার হওয়া সম্ভব।

ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে গেলে সমস্যা হলে আবার ভারতের সাথে আলোচনায় বসা ছাড়া আর কোনো গতি থাকে না, যেমন ফারাক্কায় জল কম এলে অভিযোগ জানানো ছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই। কোনো বড় প্রতিদ্বন্দীর সাথে ঝামেলায় যাবার সম্ভাবনা থাকলে আন্তর্জাতিক মহল্লাই সহজতম পথ।

এখন প্রশ্ন আসে যে তাতেও সব সমস্যার সমাধান হয় না। ঘটনা হল সমস্যা থাকবেই। ইউরোপেও আছে, এখানেও থাকবে। ট্রানজিট হলে তার পরবর্তী আরো অনেক ইস্যুতে সমস্যা তৈরী হবে - অনেক সমাধানও হবে। কিন্তু এটাই স্বাভাবিক।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৭

লেখক বলেছেন: ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি তে না গিয়ে এশিয়ান হাইওয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেই বালাদেশের লাভ।"

-সুন্দর যুক্তি।

১১. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৫৩
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: আমার কিছু জানা শেয়ার করি,

১,এশিয়ান হাইওয়ের জন্য ভারত কতৃক প্রস্তাবিত যে রুটদুটি তার একটি হলো তামাবিল-ঢাকা-বেনাপোল আরেকটি বাংলাবান্ধা -ঢাকা-তামাবিল।

অর্থাৎ কায়দামতো দুটো পথেরই প্রবেশ-বাহির ভারত হয়ে সেক্ষেত্রে এশিয়ান হাইওয়েতে সই করা আর ভারতকে ট্রানজিট দেয়া একই কথা।বরং এশিয়ান হাইওয়েতে সই করার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ আরো আন্তর্জাতিক চাপের সম্মুখীন হতে পারে।

২, ভুমি-অবরুদ্ধ উত্তর-পুর্ব ভারত বাংলাদেশের জন্য এক সম্ভবনাময় বাণিজ্যিক ক্ষেত্র।ভারতের উৎপাদন কেন্দ্র গুলো থেকে উত্তর-পুর্ব ভারতে পণ্য পরিবহনে যে খরচ হয়, তার চেয়ে বাংলাদেশ থেকে পন্য আমদানি ব্যবসায়িদের জন্য অনেক লাভজনক।ভারত যত নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার দিয়ে রাখুক এক সময় তাকে এ পন্যবাজার বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত করতেই হবে ঐ অন্চলের চাহিদাকে মাথায় রেখে।ট্রানজিট দিলে টোলের ফিতে কিছু টাকা আসবে হয়তোবা কিন্তু বাংলাদেশ জন্য একটা সম্ভবনাময় মার্কেট হারাবে।

৩,বাংলাদেশের রাস্তার সক্ষমতা সম্পর্কে অনেকে আগেই বলেছে।

৪,ভারতের মধ্যদিয়ে নেপাল-বাংলাদেশ করিডর কিছুদিন চালু হয়েছিলো।কিন্তু ভারত নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে তা বন্ধ করে দেয়।আসল কারন ছিলো নেপালের
আমদান--রপ্তানীর উপর ভারতের যে পুর্ণ নিয়ন্ত্রন সেটাতে অন্য কাউকে অংশীদার করতে সে রাজি না।

ভারত যদি ১৫-২০ কিমি করিডোর দিতে রাজি না থেকে, তাহলে কিভাবে সে আশা করে অন্য একটা দেশের মধ্য দিয়ে সে ৬০০-৭০০ কিমি ট্রানজিট পাবে?

৫,উপরের একজন ব্লগার বলেছেন, উনি এই অন্চলে ইউরোপের মতো ভিসা ছাড়া
যাতায়াতের স্বপ্ন দেখছেন।স্বপ্ন দেখা ভালো কিন্তু দিবাস্বপ্ন ভালো না।বৈধ কাগজপত্র এমনি ভারতে একাধিবার যাতায়াতকারি বাংলাদেশি লোকদের ভারতীয় ভিসা মেলেনা, সেখান ভিসা ছাড়া যাতায়াত! স্বপ্নই বটে।

৬,ইউরোপ কিংবা আশিয়ানের সাথে কোনভাবেই সার্কের তুলনা চলেনা।ইউরোপ কিংবা আশিয়ানের প্রধান দেশগুলো সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক শক্তি অনুসারে একই কাতারের দক্ষিন এশিয়ায় এক ভারত সম্মিলিত ভাবে বাকিসব দেশের দ্বিগুনের চেয়েও বেশি শক্তিশালি।

৭,তবে শর্তসাপেক্ষে সেভেন সিস্টারের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর খুলে দেওয়া যেতে পারে বিনিময়ে আমরা চাইবো নেপাল-ভুটানের সাথে ট্রানজিট।কিন্তু বাংলাদেশের বুকচিরে ট্রানজিট দান আত্মঘাতি এবং অসম্ভব এক পরিকল্পনা।
১২. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৯
ত্রিশোনকু বলেছেন: বিষয়টা নিয়ে আপনার দামী অভিমত ব্যক্ত করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।


"অর্থাৎ কায়দামতো দুটো পথেরই প্রবেশ-বাহির ভারত হয়ে সেক্ষেত্রে এশিয়ান হাইওয়েতে সই করা আর ভারতকে ট্রানজিট দেয়া একই কথা।"

ভারতের সাথে আমাদের অন্যকোন চুক্তি যদি ভারত ভংগ করে এবং তার প্রেক্ষিতে যদি আমরা এশিয়ান হাইওয়ে বন্ধ করে দেই সেক্ষেত্রে আমাদের ওপরও য়েমন আন্তর্জাতিক চাপ আসবে হাইওয়ে খুলে দেবার জন্য তেমনি চাপ আসবে ভারতের ওপর আমাদের সাথে চুক্তি ভংগ না করার জন্য-তারমানে ---আন্তর্জাতিক চাপ দুদেশকে আলোচনার টেবিলে বসতে সাহায্য করবে।

ভারতের উৎপাদন কেন্দ্র গুলো থেকে উত্তর-পুর্ব ভারতে পণ্য পরিবহনে যে খরচ হয়, তার চেয়ে বাংলাদেশ থেকে পন্য আমদানি ব্যবসায়িদের জন্য অনেক লাভজনক।ভারত যত নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার দিয়ে রাখুক এক সময় তাকে এ পন্যবাজার বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত করতেই হবে ঐ অন্চলের চাহিদাকে মাথায় রেখে।ট্রানজিট দিলে টোলের ফিতে কিছু টাকা আসবে হয়তোবা কিন্তু বাংলাদেশ জন্য একটা সম্ভবনাময় মার্কেট হারাবে।

-আপনার ঐক্যমত পোষন করেও বলছি, রহিম আফরোজ তাদের গাড়ীর ব্যাটারী ভারতে রপ্তানী করার প্রায় সাথে সাথে বাজার নিয়ন্ত্রনএ নিয়ে এসেছিল। তখন ভারত ঐ পন্যের ওপর এন্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে এবং ভারত থেকে তাদের বিতারিত করে। এমন শত শত উদাহরন আছে। আমার মনে হয় ভারত ভাবে যে বাংলাদেশ থেকে তাদের কিছুই আমদানী করার নেই। যা করছে নিতান্তই দয়া পরবশ হয়ে করছে।

"ভারতের মধ্যদিয়ে নেপাল-বাংলাদেশ করিডর কিছুদিন চালু হয়েছিলো।কিন্তু ভারত নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে তা বন্ধ করে দেয়।আসল কারন ছিলো নেপালের
আমদান--রপ্তানীর উপর ভারতের যে পুর্ণ নিয়ন্ত্রন সেটাতে অন্য কাউকে অংশীদার করতে সে রাজি না।"

-সহমত। তবে আপনাকে আরেকটা তথ্য দেই যাতে করে বুঝবেন ভারত চীনা জুজুর ভয়ে কেমন কাতর থাকে:

নেপাল চীন থেকে কিছু অত্যন্ত পুরোনো ধরনের হালকা বিমান বিধংসী কামান আমদানি করে (যে কামান গুলো বাং লাদেশ ২ দশক আগে আমদানী করেছিল)। কামানের ওপর প্রশিক্ষন দিতে নেপাল কিছু অফিসারকে চীনে পাঠায়। তারা ফিরে আসার আগেই নেপালে পট পরিবর্তন হয়। তারপর ভারতের চাপে ঐ চারজন অফিসারের কোর্ট মার্শাল হয়, তারা চাকুরী হারায় এবং তাদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ড হয়। আমরা এশি্যান হাইওয়ের একটা এক্সিট মিয়ানমার (মিয়ানমার হয়ে চীন) দিয়ে নিতে পারি। চীনএ হাইওয়ের সাথে যুক্ত হবে এবং ভারতের বিপক্ষে একটা ভাল লেভারেজ হিসেবে কাজ করবে।

ভারত যদি ১৫-২০ কিমি করিডোর দিতে রাজি না থেকে, তাহলে কিভাবে সে আশা করে অন্য একটা দেশের মধ্য দিয়ে সে ৬০০-৭০০ কিমি ট্রানজিট পাবে?

১০০% একমত।

উপরের একজন ব্লগার বলেছেন, উনি এই অন্চলে ইউরোপের মতো ভিসা ছাড়া যাতায়াতের স্বপ্ন দেখছেন।স্বপ্ন দেখা ভালো কিন্তু দিবাস্বপ্ন ভালো না।বৈধ কাগজপত্র এমনি ভারতে একাধিবার যাতায়াতকারি বাংলাদেশি লোকদের ভারতীয় ভিসা মেলেনা, সেখান ভিসা ছাড়া যাতায়াত! স্বপ্নই বটে।

- এটা নিয়ে নতুন একটা আলোচনা শুরু করা যেতে পারে।

ইউরোপ কিংবা আশিয়ানের সাথে কোনভাবেই সার্কের তুলনা চলেনা।ইউরোপ কিংবা আশিয়ানের প্রধান দেশগুলো সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক শক্তি অনুসারে একই কাতারের দক্ষিন এশিয়ায় এক ভারত সম্মিলিত ভাবে বাকিসব দেশের দ্বিগুনের চেয়েও বেশি শক্তিশালি।

-১০০% একমত।


তবে শর্তসাপেক্ষে সেভেন সিস্টারের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর খুলে দেওয়া যেতে পারে বিনিময়ে আমরা চাইবো নেপাল-ভুটানের সাথে ট্রানজিট।
-সহমত

কিন্তু বাংলাদেশের বুকচিরে ট্রানজিট দান আত্মঘাতি এবং অসম্ভব এক পরিকল্পনা।

_ আলোচনা সাপেক্ষ।

আলোচনা প্রানবন্ত করার জন্য আবারো ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ২.৯৪৫৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
না প্রেমিক না বিপ্লবী
trishonku@hotmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই