আমার ছিনাইল্লা দেশ প্রেম নেই ।আমাকে আপনি কি বলবেন ??
শুরুতে প্রশ্ন করে ফেলেছি বলে ক্ষমা চাইছি ।
এবার আসল কথায় আসি ।আমাদের এলাকায় নিঃস্বার্থ ভালবাসাকে ছিনাইল্লা ভালবাসা বলে ।{উল্লেখ্য এই ব্লগে একজন সহ-ব্লগার(শিপু ভাই) এই শব্দটি একবার ব্যবহার করেছেন ।} ধান বানতে শিবের গীত ছেড়ে আসল কথায় আসি ।আজ প্রায় উনিশ বছর যাবৎ দেশের বাইরে ।প্রতি বছরেই দেশে যাই ।প্রথম ছুটিতে দেশে যাবার সময় ছিনাইল্লা দেশ-প্রেমে উদ্ভূদ্ধ হয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সে গিয়েছিলাম ।এক মাসের ছুটি। ৩৫ দিনের এক্সিট-রি এন্ট্রি ভিসা ।আসার সময়ে শিডিউল বিপর্যয়ে ভিসা শেষ হবার তিন ঘন্টা আগে কর্ম স্থলে ফিরার সৌভাগ্য হয় ।এর পর থেকে বিমানে ট্রাভেল বন্ধ ।গত মাসে মা-বাবাকে উমরা হজ্ব করার জন্য সৌদি আরব আনার জন্য প্রসেস করি ।ট্রাভেল এজেন্সিকে বলেছিলাম সৌদি এয়ার লাইন্সে বুকিং করার জন্য । নানা ছুতায় টাল-বাহানা করে বিমানের টিকেট দেয় ।আমিও মেনে নিয়েছি, এই ভেবে যে, মা-বাবা বয়স্ক মানুষ । বাংলাদেশ বিমানে এলে সুবিধা হবে ।সাধারনতঃ বাংলাদেশ বিমানে ৫০ কেজি ব্যাগেজ ফ্রি নিতে দেয় ।মা-বাবা যাবার সময় উপহার দেবার জন্য (নামাজের বিছানা,তসবিহ্ , টুপি,স্কার্ফ , খেলনা ইত্যাদি )কিনে নিয়ে যান ।যার সর্বমোট ওজন ৭৮ কেজি । দুই টিকেটে ১০০ কেজি মালামাল ফ্রি পাবার কথা ।কিন্তু তারা বলল বাংলাদেশ থেকে টিকেট কিনলে প্রতি টিকেট মাত্র ৩০ কেজি ফ্রি । ব্যপারটা আমার বোধগম্য হয়নি । বিমানের খাম-খেয়ালীর জন্য আমাকে গচ্ছা দিতে হল ।তারা আমাকে ৮৫৫ রিয়াল অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকায় ১৬/১৭ হাজার টাকা চার্জ করল ।আমি বার্গেনিং করছিলাম ।মা-বাবা বলল,অতিরিক্ত যেই মালামাল আছে তা ফেলে যাবেন ।আমি জানি,মুখে বলছেন কিন্তু শখ করে উপহার সামগ্রী কিনেছেন । নিয়ে যেতে না পারলে মনে কস্ট পাবেন ।এমন সময় ত্রাতার ভুমিকা নিয়ে জেদ্দা এয়ার পোর্টের একজন ক্লিনার (বাংলাদেশী) আমাকে বলল চারশ টাকা দেন সব ঠিক করে দেব । আমার বিবেক সায় দিচ্ছিলনা ।আমার কর্মস্থল রিয়াদে আর মা-বাবা যাচ্ছেন জেদ্দা এয়ারপোর্ট ( জেদ্দা থেকে রিয়াদ প্রায় ১২০০ কিঃমিঃ দুরে )আমি যদি ৮৫৫ রিয়াল দিই তবে ফিরে আসার ভাড়া থাকবেনা ।বাধ্য হয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ৩০০ রিয়ালে কন্ট্রাক্ট করি ।টাকা দিতেই সব ঠিকঠাক । যাক সেকথা, এর পর যা দেখলাম তা কেউ বিশ্বাস করবেন না ।প্রতিটা যাত্রীকে বলছে আপনার ২কেজি বেশী,৫কেজি বেশী ।প্রতি কেজি ৪৫ রিয়াল ।সাধারনতঃ অন্যান্য এয়ার লাইন্স ৫কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যগেজ চার্জ করেনা । অতিরিক্ত ব্যগেজ হলে কাউন্টারে পেমেন্ট করার নিয়ম । কিন্তু বাংলাদেশ বিমানের স্টাফরা যেই ভাবে বিনা রসিদে টাকা নিচ্ছেন তা রীতিমত হরি-লুট ।প্রতিটি যাত্রী বলছেন,কানে ধরলাম , দেশের ক্ষ্যতা পুড়ি , জীবনে আর বাংলাদেশ বিমানে যাব না ।কিন্তু আমরাতো এমনটি চাইনি । অন্য দেশের মত না হোক, কাছাকাছি মানেতো হতে হবে ।বাংলাদেশ বিমানও মোটামুটি এভাবেই চলতো । যদিও এসি থেকে মাথায় পানি পড়ে,টিস্যু পেপার দিয়ে মুছতে মুছতে আসতে হয়।জি এম জি চালু হবার পর সব চিত্র পাল্টে যায় ।যেখানে সৌদি এয়ার লাইন্সের সীট পাওয়া যায়না সেখানে বাংলাদেশ বিমানের অর্ধেক সীট খালি।বর্তমানে জি এম জি এয়ার লাইন্সেরও সীট ফুল থাকে ।যারা দেশের কর্নধার তারাতো দেশ সেবার মহান ব্রত নিয়েছেন ।তারা সবাই যদি চোখ বন্দ্ধ করে থাকতে পারেন তাহলে আমি এগুলি দেখার কে ?
এখন আমি বলি, আমার যেহেতু , প্রতিরোধ করার ক্ষমতা নেই কিংবা আমার ক্ষুদ্র ত্যাগে (যদিও এটা আমার জন্য পাহাড় সম) দেশের কোন উন্নতি হবে না । সুতরাং এই ছিনাইল্লা দেশ-প্রেম আমার নেই

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


