somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতায় অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আজ

১৫ ই মে, ২০১৩ রাত ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ ১৫ মে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবর-দখল করে ইহুদিবাদী ইসরাইল প্রতিষ্ঠার ৬৫তম বার্ষিকী। কয়েক দশক ধরে ব্যাপক পরিকল্পনার পর ৬৫ বছর আগের এই দিনে ব্রিটিশদের সহযোগিতায় ইহুদিবাদীরা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে নেয়।

ইহুদিবাদী ইসরাইল ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ফিলিস্তিন ভূখণ্ড দখল করার পর থেকে প্রতি বছর এ দিনটি ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী বা নাকাবা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আরবি নাকাবা শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘বিপর্যয়’। ইহুদিবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিন দখল করার পর পর্যায়ক্রমে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে নিজ মাতৃভূমি থেকে উচ্ছেদ করে। বর্তমানে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি ঘর-বাড়ি হারিয়ে বিভিন্ন দেশে শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবন যাপন করছে। নাকাবা অর্থাত বিপর্যয় দিবস শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয় বরং তা সমগ্র আরব জাতির জন্য প্রযোজ্য। কারণ অবৈধ ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর সমগ্র অঞ্চলে বিপর্যয় নেমে এসেছে।

এটি এমন এক বিপর্যয় ৬৫ বছর পরও যার রেশ এখনো কাটেনি। কারণ শরণার্থীদের সংখ্যা বেড়ে এখন ৫০ লাখে দাঁড়িয়েছে এবং এই বিশাল জনগোষ্ঠী এখনো নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছে। জাতিসংঘে গৃহীত ১৯৪ নম্বর প্রস্তাবে ফিলিস্তিন শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে আসার ওপর জোর দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করাটা আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শরণার্থী সমস্যার সমাধান না হলে ফিলিস্তিন সংকটেরও সুরাহা হবে না। কারণ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব শরণার্থীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে।

১৯১৭ সালে বৃটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস অর্থার বেলফোর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য তথাকথিত আবাসভূমি বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বৃটেনের সম্মতির কথা ঘোষণা করে। এই ঘোষণা বেলফোর ঘোষণা নামে খ্যাত । এ ঘোষণা অনুযায়ী ব্রিটেন ফিলিস্তিনে কথিত ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টার অঙ্গীকার করে । ফিলিস্তিন সে সময় বৃটেনের কর্তৃত্বাধীনে ছিল। অবশেষে বেলফোর ঘোষণার ৩১ বছর পর ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের সমস্ত অধিকার পদদলিত করে ব্রিটেন ও আমেরিকার সহযোগিতায় অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে, এ ঘটনার এক বছর আগে ১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর জাতিসংঘ ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে ১৮১ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণ করে। ওই প্রস্তাবে ফিলিস্তিনকে আরব ও ইহুদি এ দু’ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল। এ থেকে বোঝা যায়, ফিলিস্তিনকে আরব বিশ্ব থেকে আলাদা করে সেখানে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনে বিপর্যয় সৃষ্টির এক বছর আগে জাতিসংঘে ওই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ১৯৪৮ সালের ১৫মে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিলিস্তিনিরা এ দিনটিকে নাকাবা বা বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের জন্য নেমে এসেছে সীমাহীন দুর্ভোগ। ফিলিস্তিনিদের এ দুর্দিনে মুসলিম বিশ্বের নীরবতা কোনোভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিলিস্তিন বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের জন্য পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে। কারণ মুসলিম দেশগুলো যদি তাদের শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তাহলে পাশ্চাত্যের বলদর্পী শক্তিগুলো নিজেদেরকে সংযত করে চলবে। আর যদি মুসলিম দেশগুলো সচেতন না হয় তাহলে সব দিক থেকেই পাশ্চাত্যের আগ্রাসনের শিকার হবে। এ প্রসঙ্গে ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে চলমান নিরাপত্তাহীনতা ও সংকটের কথা উল্লেখ করা যায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০১৩ রাত ১০:৫৫
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×