somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট্ট শিশুটি গড়গড় করে বলছে তার 'পূর্বজন্মের' কথা (সত্য না গাঁজাখুরী গল্প!)

০৩ রা এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাইনাস দেয়ার আগে একবার ভাইবেন, এটা আমার বানানো কোন কাহিনী নয়, আজকের দৈনিক কালের কন্ঠ এই সচ্রিত প্রিতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। মাইনাস, প্লাস যা কিছু, ওদেরই প্রাপ্য। আমি শুধু আপনাদের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করলাম। ডিজিটাল যুগে এমন ঘটনাও কি সম্ভব?


>>>>> খুলনার শিশু অর্পণ এখন পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত নাম সুব্রত আচার্য, কলকাতাভারতের পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমে গত কয়েক দিনের একটি আলোচিত নাম অর্পণ মণ্ডল। বয়স সাড়ে পাঁচ বছরের মতো। ছোট্ট শিশুটি গড়গড় করে বলছে তার 'পূর্বজন্মের' কথা। ছেলেটির বাড়ি বাংলাদেশের খুলনায় হলেও বর্তমানে কলকাতায় তার পিসির বাসায় অবস্থান করছে। কলকাতা থেকে ৪০ কিলোমিটার পূর্বের উপশহর বারাসাতের দত্তপুকুর শ্রীকৃষ্ণনগর গ্রামে পিসে ভবতোষ রায়ের বাড়ি এখন যেন পর্যটন কেন্দ্র। শুধু সংবাদমাধ্যম নয়, বহু স্থান থেকে ছোট্ট ছেলেটিকে দেখতে ভিড় করছেন অনেকে।
খুলনার দাকোপের বাজুয়া গ্রামে ২০০৪ সালে ২৭ জুলাই অর্পণ মণ্ডলের জন্ম। তার বাবা সুশান্ত মণ্ডল কুমখালী আদর্শ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সুশান্ত মণ্ডল কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ও যখন মুখ দিয়ে পুরোপুরি কথা বলতে শুরু করে, তখনই চন্দনা বলে মাঝে মাঝে চেঁচিয়ে উঠত। কিন্তু চন্দনা নামে আমাদের কেউ নেই। ওর মায়ের নাম রহিনী। এটা নিয়ে অর্পণকে অনেকবারই প্রশ্ন করা হয়, কে এই চন্দনা। কেন এ নাম ধরে মাঝেমধ্যেই সে চেঁচিয়ে ওঠে। একদিন হঠাৎ করে অর্পণ বলতে শুরু করে, চন্দনা মণ্ডল তার পূর্বজন্মের স্ত্রী।'
সুশান্ত বলেন, 'অর্পণ আমাদের জানায়, আগের জন্মে তার নাম ছিল রঞ্জিত মণ্ডল। বাবা নগেন মণ্ডল ও মা কদমবালা দেবী। সাতক্ষীরা আশাশুনির বরদাল গ্রামে ছিল তাদের বাড়ি। আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় পড়াশোনা করতে পারেনি। ছোট্ট থেকে মাছের ব্যবসা করত। সাতক্ষীরা বামনডাঙা, নরেনাবাদ থেকে মাছ কিনে চাপড়া বাজারে মাছ বিক্রি করত। তাঁর ছেলে সন্তানও হয়। ২০০৪ সালে শিবরাত্রীর দিন রাজেন, বিঞ্চু ও পরেশ নামে তিন ব্যক্তি তাকে গলা কেটে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়।'
সুশান্ত মণ্ডল আরো জানান, অর্পণের মুখে এসব কথা শোনার পর তিনি নিজে এবং তার বাবা বঙ্কিম মণ্ডল আশাশুনি থানায় যোগাযোগ করেন। থানায় রঞ্জিত মণ্ডল নিরুদ্দেশ বলে একটি ডায়েরি দেখা যায়। এরপর খুঁজে পাওয়া যায় চন্দনা মণ্ডল ও তাঁর ছেলেকে।
চন্দনা মণ্ডল কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি রঞ্জিত মণ্ডলের আচার-আচরণ সবই ওই ছোট্ট শিশুটির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। আমাদের জীবনের বহু ব্যক্তিগত ঘটনা সে বলে দিচ্ছে। তাই ওকে স্বামী না ভেবে পারা যায়নি।'
অর্পণ মণ্ডল, তার বাবা সুশান্ত মণ্ডল ও মা রহিনী মণ্ডল গত ১৪ মার্চ এক মাসের ভিসা নিয়ে কলকাতায় যান। তাঁদের সঙ্গে কথিত আগের জীবনের স্ত্রী চন্দনা মণ্ডলও যান। আগামী সপ্তাহেই তাঁরা খুলনায় ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।
আমাদের খুলনা অফিস জানায়, খুলনার দাকোপের বাজুয়া গ্রামে সুশান্ত মণ্ডলের শ্বশুরবাড়ি। তার নিজের বাড়ি পাইকগাছার কুমখালী গ্রামে। বছর দেড়েক আগে কথিত পূর্বজন্মের বিষয়টি ধরা পড়ে।
বাজুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ গাইন নিজেকে সম্পর্কে অর্পণের দাদু বলে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, 'অর্পণকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।'
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হাই সরকারের বরাতে সাতক্ষীরা থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ২০০৪ সালে রঞ্জিত মণ্ডল নামে একজন নিখোঁজের ঘটনায় থানায় একটি ডায়েরি নথিভুক্ত আছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের অন্যতম বিশেষজ্ঞ প্রবীর ঘোষ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'দেখুন দুই দুই মিলে চার হয়। এটা অর্পণ বলতে পারছে না। তাহলে কিভাবে ওই বাচ্চা ছেলেটা তার পূর্বের জন্মের কথা বলছে? একটা এক ধরনের মানসিক রোগ।'
কলকাতার মনোরোগ চিকিৎসক প্রণব দাশ জানান, "অনেক মানুষের ক্ষেত্রে অবচেতন মন থেকে কিছু 'ম্যাসেজ' আসে। সেগুলোর সঙ্গে ঘটনার অকস্মাৎ কিছু মিল হয়ে যায়। আর পারিপাশ্বর্িক কারণ থেকেও এ রকম হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট করে অর্পণের ক্ষেত্রে এ ধরনের কিছু হয়েছে কি না সেটা ওকে না দেখলে বলা যাচ্ছে না।"
সূত্র: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৫৯
১১টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×