গতকল্য রাতে আমাদের গেরামে বেশ জার পড়িয়াছিল। সেই জারের তাড়নায় আমরা গ্রামের কয়েকজন বয়স্ক মুরুব্বীগোছের বৃদ্ধ এক উঠানে বসিয়া আগুন পোহাইতেছিলাম আর মৃদু মন্দ আলাপ করিতে ছিলাম। এমন সময় গ্রামের ফাজিল টাইপের পোলা কুদ্দুইচ্চা এক টিকিটে দুই ছবির ম্যাটানী শো মারিয়া বিড়ি টানিতে টানিতে আর আচাইট্টা শীষ দিতে দিতে বাড়ী ফিরিতে ছিল। তখন গেরামের ক্যাডা বুড়া, আমার সুবিশেষ দোস্ত মজিদ মিঞা হাকঁ ছাড়িল,
: কে যায়??
পোলাডা ফিচেল হাসি দিয়া কহিল
: জেডা, আমি মন্তাজের পুত কুদ্দুইচ্চা।
বুড়া মজিদ মিঞা রাগিয়া কহিল,
: হারামজাদা, বাপের নাম কামাইলি, এক টিকিটে দুই ছবি দেখিয়া এখন বাপের নাম নেস, লজ্জা করে না হারামজাদা!
কুদ্দুইচ্চা দাঁতের আগায় জিবলা কাটিয়া কহিল,
: নাউজুবিল্লা জেডা, আমিতো সম্পূর্ণ গ্রামীন পরিবেশে রচিত সামাজিক ছবি রঙিন নাশতিকের মাই নাচ ছবি দেখিয়া ফিরিতেছি।আফনি যাহা ভাবিতেছেন কস্মিনকালেও আমি তাহা দেখি নাই, এই কিরা কাটিয়া কহিতেছি…।
গেরামের অধিবাসীরা কুদ্দুইচ্চার এই এক টিকিটে দুই ছবি দেখার ঝোঁক সম্পর্কে অতিশয় জ্ঞাত আছিল। তাই তাহার এই মিথ্যাচার দেখিয়া শিবলী তাহার পদতল আউগাইয়া দিয়া উষ্ঠা বাগাইয়া কহিল,
: হারামজাদা মিছা কথা কহিয়া আবার কিরা কাটা হইতাছে!
পরিস্থিতি যখন এইরূপ উত্তপ্ত হইয়া উঠিতেছে তখন আমি কহিলাম,
: ইরে কুদ্দুইচ্চা, সত্যই যদি তুই সামাজিক ফিলিম দেখিয়া আসস তাহইলে তাহার হিস্টুরিডা আমাদেক খুলিয়া ক দেহি?
সকলেই আমার পস্তাবে একমত হইয়া কুদ্দুইচ্চারে চাপিয়া ধরিয়া বলিল,
: হ হ, ক দেহি হিস্টুরি…
কুদ্দুইচ্চা হাতের চিপা থেকে বিড়ি ফালাইয়া দিল। চান্দু বুঝিয়াছে আইজ নিস্তার নাই। বুড়াগো হাতে পড়িয়াছে।গুটিশুটি মারিয়া আগুনের কাছ ঘেসিঁয়া বসিয়া শালডা গায়ের লগে উত্তম করিয়া জড়াইয়া লইল। তারপর তাহার আজগুবি ছবির হিস্টুরি বয়ান দিতে শুরু করিল। বুড়ার দলও হুক্কায় কষিয়া কষিয়া গোটাকয়েক রাম টান খিচিঁয়া কল্কি লাল করিয়া কাশিতে কাশিতে আয়েশ করিয়া বসিল।
কুদ্দুইচ্চা শুরু করিল…..
একদা এক রাইজ্যে এক আবাল টাইপের অর্বাচিন বালক বসবাস করিত। তাহার নাম মগা। মগার বুদ্ধি শুদ্দি একটু কম আছিল। রাইজ্যের বদ্যি বলিয়াছিল আয়োডিনের অভাব, তাই একটু হাবাগোবা। তো মগা আস্তা একটা ভোদাই হইলে কি হইবে সে কিন্তুক নিজেরে এক মহাজ্ঞানী মনে করিত। তাহার এই আবলামীর জইন্য সে রাইজ্যের সাধারণ জনগণের মোটা মোটা পায়ের কত যে গদাম খাইতো তার কোন ইয়ত্তা নাই। তো সে একদিকে গদাম খাইতো আর অইন্য দিকে ইহার জইন্য নিজেকে বীরপুরুষ ভাবিয়া যত্রতত্র বীরত্ব দেখাইয়া বেড়াই তো। আশ্চাইয্যের বিষয় হইল ভগবানের বিচিত্র লীলায় তাহার পশ্চাৎ দেশে একটি দীর্ঘ লেঙ্গুর, মানে ল্যাজ ছিল। এই ল্যাজ লইয়া সে খুবই বিব্রত থাকিত। এই ল্যান্জার কারনে ভগবানরে সে তার জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু জ্ঞান করিত। আর সুযোগ পাইলেই ভগবানের সাথে যা নয় তাই বলিয়া খিস্তি-খেউড় সমেত কাজিয়া জুড়াইয়া দিত।
তাহার আরেকটি সবিশেষ বদঅভ্যাস ছিল কি কহিব, শরম লাগে যেখানে সেখানে মলমুত্র ত্যাগ করা। জায়গা নাই, সময় নাই, বেগ আসিয়াছে কি আসে নাই আর তৎক্ষনাত বসিয়া সে বিকট শব্দে বায়ু উদ্গীরণ করিতে করিতে মল ত্যাগ শুরু করিত।
এই যেমন ধরুন প্রেমিক শত স্তবকের পুষ্পমাল্য দিয়া প্রেমিকাকে প্রেম নিবেদন করিতে যাইবে, ঠিক এমনি রোমান্টিক মুহূর্তে মগা ছুটিয়া আসিয়া উহাদের মধ্যে বসিয়া পড়িয়া ল্যাজ মোচরাইতে মোচরাইতে দিল ছাড়িয়া! কিংবা চিত্রকর বসিয়া একমনে ছবি আকিতেছে আর সেই সময়ই মগা আসিয়া তাহার রঙের ডিব্বার উপর দিল কাম সারিয়া। কিংবা ধরুন কোন সাধক গুনী শিল্পী পবিত্র সরোবরের পাড়ে বসিয়া একমনে রাগ সাধন করিতেছে অমনি মগা আসিয়া গাধার মত হেঁড়ে গলায় হাম্বা হাম্বা শুরু করিল।
গল্পডা কুদ্দুচ ভালই জমাইয়া উঠাইয়াছিল। কিন্তু বিধিবাম! গ্রামের বৃদ্ধগণ মগার উপর সুবিশেষ ক্ষেপিয়া উঠিয়া উহাকে না পাইয়া হাতের কাছে যা আছে তাহাই দিয়া কুদ্দুইচ্চারেই মারে আরকি। আমি এই বৃদ্ধ বয়সে তড়িৎ ধরিয়া না ফেলিলে আব্বাস আলির বুড়া হাড়ের লাথি খাইয়া কুদ্দুইচ্চার দফা রফা হইতো আর কি প্রায়ই। তো যাক, সকলকে শান্ত করিয়া বসাইয়া কুদ্দুইচ্চারে কহিলাম পুণরায় তাহার গল্প শুরু করার জইন্য।
কুদ্দুইচ্চা সসংকোচে গলা খাকরাইয়া ভয়ে ভয়ে তাহার গল্প আবার শুরু করিল।
তো যাহা কহিতেছিলাম! মগার এই উৎপাতে রাইজ্যের লোক বেজায় ত্যাক্ত আছিল। সে এমনই চিজ যে স্বয়ং ইবলিস শয়তানরেও সে সাইড দিত না। ইবলিস আসিলে সে দূর দূর করিয়া তাড়াইয়া দিয়া কহিত,
:ইহা আমার এলাকা। পুণরায় যদি তরে এইহানে আবার দেহি তাহইলে ঠ্যাঙের নল্লি ছুডাইয়া কডকডি ওলারে মাগনা বিলাইয়া দেমু।
মগার এহেন হুমকী শুনিয়া ইবলিস শয়তান দূরে দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া মাথা চুলকাইতো আর মগার নিকট হইতে নতুন কিছু আইডিয়া পাওয়ার লোভে ভ্যাবলার হা করিয়া তাকাইয়া থাকিত। ইবলিসের সেই হা করা মুখের ভিতর এলাকার কত মশা-মাছি যে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করিয়া জীবনের আলো নিভিয়া দিয়াছে তার কোন হিসাবও নাই।
তো রাইজ্যের লোকজন মগার এইরূপ আচরণে এতবেশী ক্ষিপ্ত ছিল যে প্রায়ই তাহার নামে রাজ্যের রক্ষীদিগকে নালিশ করিত। এই রক্ষীগণ আবার শারিরীক দিক থেইকে একটু স্বাস্থ্যবান বলিয়া জনতা আড়ালে আবডালে তাহাদিগকে মস্করা করিয়া মডু বলিয়া ডাকিত। তো এই মডুরা ছিল একটু অলস প্রকৃতির। তাহারা মগার বিরুদ্ধে ব্যবস্তা না নিয়া অলস ভাবে দাত খোচাইতে খোচাইতে মগার আবলামি দেখিত আর বিনুদন নিতো।
তো এভাবেই দিন কাটিয়া যাইতেছিল। জনগণ ক্ষিপ্ত হইতেছিল, মডুগণ অলসতা করতেছিল আর মগা সমান তালে অবাধে আবলামী করিয়া যাইতেছিল। কিন্তু সব কিছুরই যেমন শেষ আছে, পোলাও-কোর্মা যত বেশী পরিমানেই থাকুক না কেন সমঝদারের পাতে পড়িলে যেমন তার নাশ আছে তেমনি একদিন মগারও শনির দশা আসিয়া উপস্থিত হইল। এক অনুষ্ঠানের আয়োজনে জনতা একবার মিলিত হইয়া ছিল। যথেষ্ঠ পরিমান লোক সমাগম দেখিয়া মগার পশ্চাৎদেশ গদাম খাইবার জন্য সুরসুরাইয়া উঠিল। কিন্তু দয়ালু জনতা তাহাকে গদাম দিচ্ছিল না দেখে মগার আর সহ্য হইল না। তাড়াহুড়া করিয়া জনসম্মথে একগাদা ত্যাগ দিল সে। আর সে ত্যাগ সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে সমর্পণ করিতে লাগিল।
কিন্তু র্দুভাইগ্য, সেই ত্যাগের ছিটা গিয়া পড়িল রক্ষীদের গায়ে। হায় কপাল, আজ যে রাজা কাল সে খোজা! রক্ষীগণ ক্ষেপিয়া গিয়া বলিল, তবেরে শালার পুত! আইজ তর বিচি খুলিয়া নিয়া খেলিব কুতকুত। তাহারা মগারে চ্যাংদোলায় ঝুলাইয়া লইয়া কয়েদখানায় আটক করিল। জনৈক স্বাস্থ্যবান রক্ষী কহিল উহার পশ্চাতে গরম সিদ্ধ ডিম ঢুকাও যেন আবালডা কে রাম আর কে শাম সেইটে ভাল ভাবে বুঝিতে পারে। তবে শুরু করিও কবুতরের ডিম দিয়া। সহাইয়া সহাইয়া রহিয়া সহিয়া দিও। না হইলে শক ডেথ হইয়া পটল বাবুর সাথে সাক্ষাত হইয়া যাইতে পারে।
এক্ষণে রক্ষীরা কিছুকাল পর ঐ বিশিষ্ট রক্ষীর কাছে ছুটিয়া আসিয়া হত্যা দিয়া পড়িল। তাহারা রিপোর্ট করিল,
: উস্তাদ! এ মগা তো একখান জবর চীজ! তাহার পশ্চাৎ তো যেন সেইটা নয় আমাদের রাজ্যের সদর দরজা! কবুতারের ডিম তো কোন ছার, তাহার পোঁদে মুরগী, পাতিহাস, রাঁজহাসের ডিম, এমন কি আস্ত খাশি-বলদ, রাজ শকট মায় একটা পুরা সার্কাস বাহিনী অবলীলায় ঢুকিয়া যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।
উস্তাদের চোয়াল মারাত্নকভাবে ঝুলিয়া পড়িল। জিজ্ঞাসা করিল,
: এইরূপ হইল কিরূপে!?
রক্ষীগণ মুখ ব্যাদান করিয়া কহিল,
:অনুসন্ধান করিয়া দেখা গিয়াছে মগা যখন অবসর থাকে বা কাহারও বাড়া ভাতের নাগাল পায় না তখন নিজের পশ্চাৎদেশে নিজের লেঙ্গুর পুরাটা ঢুকাইয়া বসিয়া থাকে। তাহা ছাড়া সে রাত্রে ঘুমায়ও একই কায়দায়। তাই তাহার ঐ জায়গাডার এই হাল।
রিপোর্ট শুনিয়া স্বাস্থ্যবান রক্ষীর চক্ষু চড়কগাছ হইয়া যায়, ভীমরি খায় আর কি একটু হলে। সে বলিলো,
:তাড়াতাড়ি যেখানকার বলা সেখানে ফেলাইয়া আইস। দেরী হইলে বিপদ ঘটিয়া যাইতে পারে। তার যখন তখন নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কামকাজে পুরা কয়েদখানার পরিবেশ ভারী করিয়া ফেলিবে! কয়েদিদের মধ্যে ওলাউঠা, কলেরা জাতীয় রোগ ভাঙ্গিয়া পড়িবে!! বিদায় কর, বিদায় কর – মু হা হা হা হা……
অতি দুঃখে অট্ট হাসি হাসিয়া ফেলিল স্বাস্থ্যবান রক্ষি।
পিঠে দুই ঘা বসাইয়া, ঘেডি চাপিয়া ধইরা অর্ধচন্দ্র দিয়া, পশ্চাৎদেশে গদাম খিঁচাইয়া এক রক্ষী কহিল,
:যা ভাগ! ফের যদি আর কখনো দেখি….
মনে মনে ভাবিল দূগ্গা! দূগ্গা!! বালাই দূর হউক।
পিঠে বহিয়া, অর্ধচন্দ্র খাইয়া, গদামের আরাম লইয়া মগা বায়ু ছাড়িতে ছাড়িতে আর কুত্তার মত কেঁউ কেঁউ করিতে করিতে ভাগিয়া গেল। কয়েদখানা ভারমুক্ত হইল, কিন্তু, সামাজিক বাতাস মগার পূণঃ পূণঃ নির্গত বায়ূর প্রভাবে পুতিঁগন্ধময় হইয়া উঠিতে লাগিল।
এমনি সময় পর্দায় করুণ বাদ্যের সাথে ধীরে ধীরে সমাপ্ত লেখা ভাসিয়া উঠিল।
আহা আহা.. কাহিনীর আবেশে আমরা কত সময় ভ্যাবলা হইয়া বসিয়া থাকিলাম। দুই একজন রুদ্ধশ্বাস ছাড়িয়া ভীমবেগে কাশিয়া উঠিল, হাকিম আলী আফসুসের সুরে কহিল,
:এতো সৌন্দইর্য ছবিডার শেষে মিল দেখাইলো নাহ্!
যদু শেখ কহিল,
: যা রে কুদ্দুইচ্চা বাড়িত যা, তর বউ বইয়া রইছে…
আমাদের বসাইয়া বিহ্বল বসাইয়া রাখিয়া কুদ্দুইচ্চা হালকা পায়ে বাড়ির দিকে রওনা হইল। বেশ কিছু দূর আউগাইয়া গিয়া হঠাৎ হারামজাদা কুদ্দুইচ্চা এমুন এক আচানক কাম কইরা বসিল যে কইতে লইজ্জায় চক্ষু মুদিয়া যায়। খানিক দূরে গিয়া চাইর হাত পা ছুড়িয়া, উলম্ফ নৃত্য করিয়া চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া কহিল,
: জ্যাডা, এতোক্ষণ যা হা কহিলাম তার সবই মিছা কতা, করপনা, বানাইয়া বানাইয়া কইছি! আমি আসলে এক টিকিটে দুইডা ছবিই মাইরা আইছি গঞ্জ থাইক্কা…
পুরা আসর টাব্বুশ খাইয়া স্তম্ভিত হইয়া গ্যাল। শুধু ক্যাডা মজিদ মিঞার হূঙ্কার বাতাসে ভাসিতে থাকিল,
: তৈ রে হারামজাদা…..
কিন্তু উহা পলায়মান কুদ্দুইচ্চার মোডা কানের চামড়া পইযন্ত পৌছাইল কিনা তা একটুও বুঝা গেল না।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১১:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




