somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এটা কি কোন সভ্য দেশের নমুনা হতে পারে?

২৪ শে অক্টোবর, ২০১১ সকাল ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মগবাজার থেকে বাংলামটর যাবার রাস্তাটি সরকারি। আমার জানা মতে, রাস্তা দুই ভাগে তৈরি হয়। একটা যানবাহন চলাচলের জন্য। আর অন্য অংশ সাধারণ মানুষের পায়ে হাঁটার জন্য। এটাকে ফুটপাথ বলা হয়।

রাস্তার ফুটপাথ দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট। আর রাস্তাজুড়ে গাড়ি ডিসপ্লে। এমন অদ্ভুত দৃশ্য যদি দেখতে হয়, তবে মগবাজার থেকে বাংলামটরের রাস্তায় একবার আসতে হবে। এ রাস্তায় হাঁটার সময় দু পাশে একটু মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করতে হবে। চোখে পড়বে সারি সারি প্রাইভেট কার, মটর সাইকেল। কোথাও কোথাও মটর সাইকেলের শো-রুম ও রয়েছে। এসব শো-রুমের মটর সাইকেলগুলো রুমের চেয়ে বাইরে ডিসপ্লে করা হয়েছে বেশি। দেখে মনে হতে পারে এটা নিশ্চয়ই মটর সাইকেল পার্কিং স্পেস। সরকারি রাস্তার অধিকাংশ অংশজুড়ে এসব মারটসাইকেল ডিসপ্লে করা আছে। সরকারি রাস্তা বন্ধ করে কে বা কারা এসব ব্যবসা করছে এবং কেন করছে তা প্রশাসন জানেন। অথচ প্রতিদিন দুই থেকে তিন গাড়ি পুলিশ এখানে ডিউটি করে। র‌্যাব আসে, প্রশাসনিক অফিসাররাও আসা-যাওয়া করেন। তবে কি বলবো সরকারি রাস্তা লিজ দেওয়া হয়েছে!
যানজট নিরসনে রিকশা চলচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে বিভিন্ন রাস্তায়। আমরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছি। অসুস্থ রোগীকে ধরে ধরে রাস্তা পার করতে দেখেছি ট্রাফিক পুলিশকে। তখন মনে মনে ভেবেছি, আহা কুসুমকুমারী দাশের সেই ছেলের বুঝি জন্ম হয়েছে। এরা কথায় নয় কাজে বড়ো। আইনের প্রতি কতো শ্রদ্ধাশীল, অসুস্থ রোগী পর্যন্ত রিকশায় করে যেতে দেয় না। তার পরের চেহারা ভিন্ন। হাত পেতে পাঁচ টাকা নিয়ে রিকশা ছেড়ে দিতে দেখেছি সুস্থ মানুষদেরও। এসব দেখে কি মনে হয়, আসলে এরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধশীল? রিকশা বন্ধ করেও কি যানজট কমেছে! বরং রাস্তাটি এখন মটর মেকানিকদের দখলে। সমস্ত রাস্তাজুড়েই নৈরাজ্য চলছে। প্রশাসনের কারো দৃষ্টিতে কি একবারও পড়ে না?

দেশের বাইরের দিকে তাকালে আমরা বুঝতে পারি ঢাকায় কেন যানজন লেগে আছে। সরকার যত কিছুই করুক, দরকার হলে বাস চলাচল বন্ধ করলেও যানজট নিরসন সম্ভব নয়। বর্তমানে ঢাকা একটি বস্তিবহুল শহরে পরিণত হয়েছে। পৃথিবীর আর কোনো দেশের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে বস্তি আছে কি না আমার জানা নাই। অথচ, ঢাকার প্রাণকেন্দ্র বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে বিরাট এক বস্তি রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, দলগতভাবে বস্তি রয়েছে। এ দেশে যতগুলো রাজনৈতিক দল রয়েছে তাদের প্রত্যেকের দখলে রয়েছে একাধিক বস্তি। এটা কি কোন সভ্য দেশের নমুনা হতে পারে? শুধু তাই নয়, ঢাকার গুরুত্বপূর্র্ণ স্থানগুলোতে গড়ে উঠেছে বড় বড় গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি। এই গার্মেন্টসের বহু শ্রমিক বস্তিতে বসবাস করে। সঙ্গত কারণে বস্তি এবং গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। রাজধানী ঢাকার আয়তন খুব বেশি নয়। এর বড় এলাকাজুড়ে রয়েছে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি। এখানকার শ্রমিকদের জন্য নেতাদের তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠেছে বস্তি।

সরকারি অফিস-আদালতের কাছাকাছি সরকারি কর্মচারীদের জন্য কোয়ার্টার বরাদ্দ করা হয়েছে। আর বাকি থাকে সামান্য অংশ। এর অধিকাংশ এখন ডেভেলপারদের দখলে। বাকি অংশ স্থানীয়দের নিজস্ব বাড়ি। যাদের সামর্থ আছে, তারা ফ্ল্যাটের গর্বিত মালিক হয়েছে। বাকি আমাদের মতো মধ্যম শ্রেণীর মানুষেরা তথাকথিত বাড়িওয়ালাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। যারা না পারছে বস্তিতে বাস করতে, না পারছে সরকারি বরাদ্দকৃত প্লট বা কোয়ার্টারে থাকার সুবিধা। না পারছে ফ্ল্যাট কিনতে।

অধিকাংশ সময়েই টক শোগুলোকে শোনা যায় পরিকল্পিত নগরায়ন নিয়ে চায়ের কাপে ঝড়। এদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা এই প্রকল্প নিয়ে রাত দিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন। অথচ ফল বৃথা। এরা কি বিদেশে গিয়ে সেখানকার রাজধানী দেখে নিজের রাজধানীর কথা ভাবেন না! তখন কি মনে হয় না, আহা আমার রাজধানী যদি এমন হতো! যদি তাদের সেসব রাজধানী দেখার সুযোগ না হয়ে থাকে, তবে সরকারি খরচে না হলেও নিজের খরচে একবার বাইরের দেশের রাজধানী দর্শনের জন্য তাদের যাওয়া উচিত। তাদের দেখা উচিত রাজধানীকে কীভাবে যানজটমুক্ত ও দূষণমুক্ত রাখতে হয়। শুধু শুধু গলাবাজি না করে আর কোটি কোটি টাকা অপচয় না করে ঠাণ্ডা মাথায় ভাবতে হবে। না হলে আমাদের সামনে সমূহ বিপদ।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×