somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এস এস এন্টারপ্রাইজ এবং ছহুল-ছয়ফুল মিয়াদের রাজনীতি

০১ লা জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে মধ্যে রাজনীতি পাগল ২/১ জন প্রবাসী বন্ধুকে তাদের রাজনৈতিক পাগলামী নিয়ে খোচাখুচি করতে মন্দ লাগেনা। ছহুল মিয়া আর ছয়ফুল মিয়া তাদেরই দু’জন। দু’জনই সিলেটি, তাদের কাছে সিলেটই আসল দেশ, বাংলাদেশ অনেকটা জেলা শহরের মত। ইংল্যান্ডের দক্ষিন ডেভনশায়ার কাউন্টির টোর্কি শহরে পরিচয়, স্মার্ট এবং চোস্ত ইংরেজী জানা মাছে-ভাতের বাংলাদেশী-কাম-সিলেটি। এস-এস এন্টারপ্রাইজ নামের একটা সাপ্লাই ব্যবসা নিয়ে দুজনেই ঘুরে বেড়ান বৃটিশ দ্বীপ পুঞ্জের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে। দু’জন ঘনিষ্ট বন্ধু এবং ব্যবসায়িক পার্টনার হলেও এক জায়গায় দু’জনের অবস্থান দুই মেরুতে; রাজনীতি! ছহুল মিয়ার কাছে পৃথিবীর আরেক নাম বিএনপি, সাইফুর আর খালেদা জিয়া। এ প্রসংগে উনার সাথে কোন তর্ক চলেনা, এক কথায় সাইফুর আর খালেদা জিয়ার জন্ম না হলে বাংলাদেশেরই জন্ম হতনা। ছয়ফুল মিয়া জাতির পিতা এবং তার বংশধরদের জন্যে শুধূ ব্যবসা কেন নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও সব সময় প্রস্তূত। স্থানীয় আওয়ামী লীগে নিয়মিত চাঁদা দিয়ে নিজের বিশ্বস্ততা প্রমান করে থাকেন। ছহুল মিয়া রাজনীতি নিয়ে বাংলারশেষ নবাব সিরাজউদ্‌দৌলার মত ভাষন দিতে ভালবাসেন; ... জাতীয়তাবাদের মৃত্যু নেই, কাসিম বাজার কুঠির ষড়যন্ত্র ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতিকে স্তব্দ করতে পারবেনা,... টেকনাফ হতে তেতুলিয়া গর্জে উঠবে, ইত্যাদি, ইত্যাদি। এ দিক দিয়ে ছুয়ফুল মিয়া অবশ্য খালেদা জিয়ার মত বোবা।

ইংল্যান্ড ছেড়েছি আজ অনেকদিন, কিন্তূ ছহুল, ছুয়ফুল, মুতু, এবং নিজাম ভাইদের সাথে যোগাযোগটা অনেকটা হাল্কা হয়ে এলেও বজায় রেখেছি। মাঝে মধ্যে ফোনে কথা হয়, ব্যক্তিগত প্রসংগ শেষ হতেই এসে যায় রাজনীতি। ইদানিং রাজনীতির প্রসংগ এলেই ছহুল ভাই গর্জে উঠেন, হায় হায় করে উঠেন ইসলামী মূল্যবোধের দেশীয় জাতিয়তাবাদের বিরুদ্বে ’আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্রে’র কারণে। এ নিয়ে একটু ঠাট্টা-মশকারা করার ইচ্ছে হতেই ছহুল ভাইকে চেপে ধরলাম; ’ভাই, আপনি কি রোজা-নামাজ করেন?, - তা করিনা, কিন্তূ গোলাপগঞ্জের নিজ বাড়িতে বিশাল মসজিদ করে দিয়েছি যেখানে হাজার হাজার মুসুল্লী নামাজ পড়ে আমার জন্য দোয়া করছে’। ’আপনি কি মদ খান? - তা খাই, কিন্তূ তাই বলে নেশা করিনা। ’জুয়া খেলেন?’। ছহুল ভাইয়ের সাথে টোর্কিতে পরিচয় হলেও পরিচয়টা গভীর হয় মিডল্যান্ড কাউন্টির উলভারহ্যাম্পটন শহরের একটা ক্যাসিনোতে। লন্ডন হতে আমরা চার বন্ধু ঐ শহরে গেছি বেড়ানোর উদ্দেশ্যে, সন্ধ্যা হতেই একটা ক্যাসিনোতে ঢুকেছি কিছুটা সময় কাটাবো বলে। কিন্তূ যা হবার তাই হল, চারজনই নেশাগ্রস্থের মত হুমড়ি খেয়ে পরালাম রুলেট বোর্ডের
উপর। রাত পেরিয়ে সকাল হতেই চারজনের পকেট খা খা। লন্ডন ফিরে যাবার বাস ভাড়া নেই কারও কাছে। এমন সময় ক্যাসিনোর অন্য একটা টেবিলে আবিস্কার করলাম ছহুল ভাইকে, বড় দানে জুয়া খেলছেন। পকেটের অবস্থা খুলে বলতেই হা হা করে হেসে উঠলেন। উনিও লন্ডন যাচ্ছেন বামিংহাম হয়ে, সাথে আছে ৭ সীটের ভ্যান।

সূর্য্য ভাল করে উঠার আগেই আমরা রওয়ানা দিলাম। ব্রেকফাষ্ট, লাঞ্চ সবকিছু গেল ছহুল ভাইয়ের উপর দিয়ে, উনি নিজেও খুব আনন্দ পেলেন আমাদের আপ্যায়ন করে। সেই যে আন্তরিকতার শুরু আজও তা অটুট আছে। কিন্তূ এ আন্তরিকতা আমাদের রাজনৈতিক মত-পার্থক্য দূর ত করেনি, বরং তা সময় সময় বিপদজনক বাকে আটকে গিয়ে ব্যাপক বিপত্তি সৃষ্টি করেছে। শেষবার উনার সাথে কথা বলতে গিয়ে ইসলামী মূল্যবোধে জাতিয়তাবাদের ভূমিকার উপর লম্বা একটা লেকচার হজম করতে হয়। অনেকটা উষ্মার সাথেই উনাকে বেশ কিছু উপদেশ দিতে বাধ্য হই; ইসলামী মূল্যবোধ ব্যক্তিগত জীবন হতে শুরু করুন; মদ, জুয়া আর মেয়ে মানুষ নিয়ে খেলবেন আবার পাশাপাশি ইসলাম এবং জাতিয়তাবাদ নিয়ে লেকচার ঝাড়বেন তা হতে পারেনা।

রাজনীতির এই জটিল এবং অমিমাংসিত বৈপরীত্যের মাঝেও আমাদের বন্ধুত্ব সমান্তরালে চলতে কোন হোচট খায়না, এটাই বোধহয় আসল পাওয়া।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×