somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শহীদ মিনারে মধ্যরাতের নাটক...

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২১শে ফেব্রুয়ারী মধ্যরাতে এ নাটক মঞ্চস্থ হয় প্রতি বছর। ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে হাতী ঘোড়া বাঘ ভাল্লুক সাজিয়ে আলোকিত করতে আসেন শহীদ মিনার। দন্তহীন বাঘ ভল্লুক পরিবেষ্টিত ক্ষমতাহারা দলের নেত্রী আসেন কিছুক্ষন পর । টিভি, রেডিও সহ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার শত শত সাংবাদিক প্রচার মাধ্যমের সর্বশেষ প্রযুক্তি নিয়ে চাতকের মত অপেক্ষায় থাকেন নেত্রীদ্বয়ের আগমনে। সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে উনারা আসনে। ফ্লাশ লাইটের আলোয় ঝলমল করে উঠে শহীদ মিনারের পাদদেশ। পাতি-চামচা, উপ-চামচা আর ছটাক-চামচার দল বাঁদরের মত লাফালাফি শুরু করে দেয় নেত্রীদ্বয়ের কাছাকাছি যাওয়ার। শহীদ মিনারে নেত্রী শ্রদ্বাঞ্জলী দিচ্ছেন, এমন একটা বিরল মুহুর্তে নেত্রীর সাথে ছবি তোলাকে জীবন মরণ চ্যালেঞ্জ হিসাবে নেয় চামচার দল ! এ যেন ক্ষমতার রাজনীতিতে অপরিচ্ছেদ্য অংশ। হয়ত এর উপর নির্বাচনী মনোনয়ন সহ নির্ভর করে অনেক কিছু। অথচ উপলক্ষটা ৫২’র ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্বা নিবেদন। উপরের ছবিটা কি তাই বলে?

২১শে ফেব্রুয়ারীর মধ্যরাতে ঘটা করে শহীদ মিনারে শ্রদ্বাঞ্জলী নিবেদন করলেই ৫২’র শহীদদের প্রতি সন্মান ও শ্রদ্বা নিবেদনের মিশন সম্পূর্ণ হয়ে যায়, এমন একটা বিশ্বাষের সাথে ঘোর বৈরীতা আমার। কিন্তূ হাজার বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে হ্রদয়ের টানে যারা মধ্যরাতে শহীদ মিনারে ছুটে যান তাদের আন্তরিকতাকে সন্মান জানাইনা এমনটা বলা মিথ্যা বলা হবে। খুব ছোট হতেই দেখে আসছি হাতে ফুল, নগ্ন পা আর মুখে ২১শে ফেব্রুয়ারীর অমর সংগীত সহ জনতার ঢল এগিয়ে যাচ্ছে শহীদ মিনারের দিকে। রাজনীতির খয়ের খাঁ আর নেত্রী পূঁজার সেবাদাস আর এ গনির কি জানা ছিলনা ৫৮ বছর ধরে লালিত স্বদেশীদের এ গর্বিত সাংস্কৃতি? জানা ছিল নিশ্চয়, কিন্তূ সমস্যা হল উনি ৫২’র শহীদদের প্রতি শ্রদ্বা জানাতে ওখানে যান্‌নি, গিয়েছিলেন নেত্রীর সাথে ভাল একটা ছবি তুলতে। হয়ত জুতা খোলার পর্বটা মাথায় আসেনি অথবা তাগাদা অনুভব করেন্‌নি।

সমাজে এ ধরনের মাংকিদের অবাধ চলাফেরা নিশ্চিত থাকলে এভাবেই পদদলিত হতে থাকবে আমাদের হাজার বছরের ধ্যান, ধারণা, সভ্যতা আর সাংস্কৃতি। সামনের ২১শে ফেব্রুয়ারী পালনের আগে এ দিকটায় চোখ ফেরানোর জন্যে সবাইকে অনুরোধ করব।
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×