somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আইনের আইনস্টাইন সুরঞ্জিত বাবুর কেচ্ছা...

৩১ শে মার্চ, ২০১১ সকাল ৭:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাষ্ট্রের আইন কানুন আর শাসনতন্ত্রের জ্বালাময়ী ব্যাখ্যা নিয়ে জাতির সামনে ঘন ঘন হাজির হচ্ছেন আমাদের সুরঞ্জিত বাবু। নামে সুরঞ্জিত হলেও কাজে উনি ’মহামান্য’ সাংসদ এবং সংসদের আইন সংক্রান্ত কি জানি এক কমিটির মহাশক্তিধর কে যেন একজন। শুধু রাষ্ট্রের পরিচয় নয় একজন সাধারণ বাংলাদেশির পরিচয় কি হবে এ নিয়ে প্রায়শই ওয়াজ নসিহত করছেন। দুদিন আগে মহাসমরোহে সার্টিফিকেট দিলেন উনি এবং উনার নেত্রীর কোন আপত্তি নাই যদি ’গরু খোর’, ’ ম্লেচ্ছ’ আর ’যবন’ মুচুলমানরা বিসমিল্লাহ বলে শুরু করে তাদের দৈনন্দিন জীবন। পিতা-কন্যার ’সুশাসন’ বাদে দেশের বাকি শাসনকে জারজ ঘোষনা আর বিগত শাসকদের কবর হতে উঠিয়ে উনার কমিটির সামনে হাজির করার খোদাই দায়িত্ব পালন করছেন আইনের এই মহাপণ্ডিত। গ্রাম বাংলায় একটা কথা চালু আছে, চক চক করলেই সোনা হয়না। কোট টাই পরিহিত সুরঞ্জিত বাবুর বাইরেরটা চাঁদের মত মনে হলেও ভেতরে কিছুটা আসুবিধা আছে। চলুন সময় হাতে নিয়ে বাবুর এই অসুবিধার দুনিয়ায় ঘুরে আসি। কথা দিচ্ছি ভাল লাগবে আপনাদের।

সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার সাথে আশাকরি সবাই পরিচিত। সুরঞ্জিত বাবুর আদিবাস এই জেলাতেই। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চাঁদপুর, মজলিশপুর ও করিমপুর মৌজায় নিজের দুই বৈমাত্রেয় ভাই সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ৭৫ বিঘা অর্পিত সম্পত্তি গ্রাস করার অভিযোগে অভিযুক্ত আছেন আইনের আইনস্টাইন শ্রীযুক্ত সুরঞ্জিত বাবু। কথিত আছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের এসব অর্পিত সম্পত্তি দখল প্রক্রিয়ায় সুরঞ্জিত বাবু ওরফে অদুরশত কুমার সেনগুপ্ত প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব খাটিয়ে কাজ আদায় করে নিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সৎ মা (পিতার প্রথম স্ত্রী) বৈমাত্রেয় তিন ভাই রবীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, সুবোধ ওরফে সুরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, সুজিত ওরফে অজিত সেনগুপ্ত স্বাধীনতার অনেক আগেই দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এ কারণে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পিতা দেবন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের মোট সম্পত্তির তিন-চতুর্থাংশ (ভারতে চলে যাওয়া ৩ ভাইয়ের অংশ) শত্রু সম্পত্তি হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়ে যায়। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে এসব সম্পত্তি প্রথমে শত্রু ও পরে অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে বিবেচিত হয়।

কিন্তু ১৯৭৮ সালে সুরঞ্জিত বাবু ভূমি মন্ত্রনালয়ে জমা দেয়া এক আবেদন পত্রে দাবি করেন যে, তার বৈমাত্রেয় ৩ ভাইয়ের মধ্যে ২ জন বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করেছে। অপর বৈমাত্রেয় ভাই ভারতের বাসিন্দা। সুরঞ্জিত আরও দাবি করেন যে, তার পিতার মালিকানায় ভারতে বেশকিছু ভূ-সম্পত্তি আছে। এ কারণে অতীতে পিতা দেবেন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের নামে বাংলাদেশে যেসব সম্পত্তি ছিল সুরঞ্জিত একাই তার উত্তরাধিকার। এমন দাবি তুলে তিনি অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় থাকা ৭৫ বিঘা জমি নিজের নামে অবমুক্ত করার জন্যে আবেদন করেন। ভুমি মন্ত্রনালয় সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারী দফতর সেই আবেদন আমলে নিয়ে একপর্যায়ে এসব সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা হতে অবমুক্ত করে দেয়।

দিরাই উপজেলার প্রবীন ব্যক্তিদের মতে, প্রকৃতপক্ষে সুরঞ্জিতের বৈমাত্রেয় ভাইদের কেউই বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করেনি। তাদের তিন ভাই ও মা একসঙ্গে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যায়। তাছাড়া সুরঞ্জিতের পিতা দেবেন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ভারতে কোন ভূ-সম্পত্তি ছিলনা। তার পূর্বপুরুষদের বসবাস ছিল ঢাকার অদূরে বিক্রমপুরে। বহুকাল আগে তিনি সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত জনপদ দিরাই বাজারে গিয়ে পল্লী চিকিৎসক হিসাবে প্রাকটিস শুরু করেন।

প্রাসঙ্গিকভাবে দাদাবাড়ির একজন মুরুব্বির কথা মনে পড়ে গেল। গ্রামের তাবৎ বিচার আচারের মালিক ছিলেন তিনি। উনার নিজের কিছু দোষ ছিল, যার মধ্যে অন্যতম নাবালক ধর্ষন। শাসনতন্ত্র সমুন্নত রাখার সোল এজেন্ট সুরঞ্জিত বাবু কি সেই ব্যক্তি নন যিনি নিজের মা-বাবা, ভাইদের সম্পর্কে ভূয়া তথ্য দিয়ে কোটি কোটি টাকার অর্পিত সম্পত্তি দখল নিয়েছেন ক্ষমতার জোরে? ক্ষমতা নামক আওয়ামী যাত্রামঞ্চের এই নায়ক একজন ভূমি ধর্ষক, প্রতারক। আর যাই হোক একজন মিথ্যুকের মুখে আইনের নসিহত শোভা পায়না। সুরঞ্জিত বাবুর স্থান হওয়ার কথা ছিল নাজিম উদ্দিন রোডের অন্ধ প্রকোষ্ঠে, অথচ ক্ষমতার ভেল্কিবাজিতে আজ তিনি বিসমিল্লাহ উচ্চারণে এনওসি দেওয়ার মালিক!!!!
৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×