somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'৭১ এর দেনা, মূল্য ২০০ ভরি মাত্র!

০৫ ই আগস্ট, ২০১১ দুপুর ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেওয়ার ভেতর নাকি এক ধরণের আনন্দ আছে। গুরুজনদের মুখে বহুবার শুনেছি কথাটা, বিশেষকরে ছোটবেলায়। সময় ও বাস্তবতা হয়ত অনেককিছুই বদলে দিয়েছে। দেওয়া নয়, আজকাল নেওয়াটাই শক্ত আসন করে নিয়েছে আমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতিতে। জাতি হিসাবে আমাদের আজকের যে অবস্থান তার সবটাই আবর্তিত হচ্ছে নেওয়ার ভেতর। ব্যবসায়ী নিচ্ছে জনগণের পকেট হতে, রাজনীতিবিদ আর আমলারা নিচ্ছে সরকারের পকেট হতে, বিচারক কাটছেন আসামীর পকেট, আসামী কাটছে জনগণের পকেট। একই চক্রে জড়িয়ে যাচ্ছে প্রায় গোটা জনগণ। আজকাল প্রেম ভালবাসায়ও রাজত্ব করছে কেবল নেওয়া। কোচিংয়ের নামে শুধু অর্থ হাতড়িয়ে সন্তুষ্ট থাকছে না পরিমল ধরের দল, এর বাইরেও হাত বাড়াচ্ছে নিষিদ্ধ সীমানায়। গোটা জাতি যখন এই নেওয়ার মহামারিতে আক্রান্ত তখন ১৭ কোটি মানুষের সামনে উদাহরণ স্থাপন করলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। নেওয়ার পৃথিবীতে বাস করেও কি করে দেওয়া যায় এক অর্থে বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করতে যাচ্ছেন তিনি।

দেয়ার শুরুটা সোনিয়া গান্ধিকে দিয়ে। ২০০ ভরি সোনা দিয়ে পরিশোধ করলেন ৭১’এর ঋণ। বর্তমান বাজার দরে এর মূল্য হবে প্রায় ১ কোটি টাকা। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার যে নতুন পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে তার দাড়িপাল্লায় দাঁড় করালে এর মূল্য কি হবে তা নির্ণয় করতে আমাদের হয়ত কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। ডাইনাসোর অর্থনীতির দেশ ভারতের অলিখিত প্রধান ইতালিয়ান নাগরিক সোনিয়া গান্ধি ২০০ ভরি সোনা অথবা ১ কোটি টাকা নিয়ে খুব একটা উচ্ছসিত অথবা বিচলিত হবেন ভাবার কোন কারণ নেই। এই দেওয়ার ভেতর উচ্ছাস বলতে যা ছিল তার সবটাই ছিল আমাদের। সোনিয়া গান্ধি হাসলেন, ধন্যবাদ জানালেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন মৃতা শাশুড়িকে সন্মান জানানোর জন্যে। একজন প্রফেশনাল রাজনীতিবিদের যতটা করা যৌক্তিক তার সবটাই করলেন ভারত নেত্রী। এ বিবেচনায় আমাদের নেত্রী ও তার মন্ত্রিপরিষদের মহিলা মন্ত্রীদের ভুবনজোড়া হাসি আর বিশ্ব কাঁপানো উচ্ছাস নতুন করে প্রমান করেছে কেবল নেওয়া নয়, দেওয়ার ভেতরও সুখ লুকিয়ে থাকে। আর এ সুখ প্রকাশের জন্যে চাই একটা উপলক্ষ। ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল তেমনি একটা উপলক্ষ। অবশ্য মন্দ লোকের ধারণা শাশুড়িকে নয় বরং গেল নির্বাচনে ক্ষমতায় বসানোর মূল্য পরিশোধ করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।

বোধহয় দেওয়ার কোন মন্ত্র দিয়ে গেছেন সোনিয়া গান্ধি। তা না হলে এই নেত্রীর বিদায়ের পর আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার কেন দেওয়ার প্রতিযোগীতায় নামবেন। প্রতিযোগিতাটা অবশ্য নিজের সাথে নিজের মধ্যেই সীমিত রেখেছেন তিনি। প্রথম ঘোষনা এলো অনুপ চাটিয়াকে দেয়ার। আসামের উলফা নেতা অনুপ চাটিয়া অনেকদিন ধরেই আমাদের হাতে বন্দী। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে নয়,ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে উপহার দেয়া হচ্ছে অনুপ চাটিয়াকে। এ যেন রাজার পদতলে প্রজা বলি দেয়ার সামন্তযুগীয় আচার! সাথে আরও দেয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর, দেশের নড়বড়ে রাস্তাঘাট, জরাজীর্ণ রেললাইন সহ ক্ষয়িষ্ণু অবকাঠামোর অনেককিছু। বিনিমিয়ে কোন কিছু দাবি করা হবে বেহায়াপনা, এমনটাই ঘোষনা দিয়েছেন সরকারের জনৈক মন্ত্রী।

এখানেই থেমে থাকেননি চ্যাম্পিয়ন দেশপ্রেমিক নেত্রী। এতদসংক্রান্ত আরও একটা খবর এসেছে আজকের পত্রিকায়।

ভারতকে বাংলাদেশের ২৬১ একর জমি দিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকা আসার আগেই বাংলাদেশের তামাবিল, নলজুড়ি ও লিঙ্কহাট সীমান্তের ২৬১ একর জমি ভারতের হাতে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া সমাপ্ত করবে হাসিনা সরকার। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকাও জানিয়েছে এ খবর।

ফেলানী রক্তের সবটাই কি শুকিয়ে গেছে? নাকি কাঁটাতারে সীমান্তে এখনো ঝুলে আছে তার পরিধেয় বস্ত্র আর শুকিয়ে যাওয়া দুএক ফোটা রক্ত? বাংলাদেশিদের জীবন নিয়ে হোলিখেলায় অভ্যস্ত বেনিয়া ভারতীয়দের খাতিরযত্ন আর সেবাদাসত্ব করার যে উলঙ্গ সাংস্কৃতি চালু করছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তার আসল উদ্দেশ্য কি কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যাবে নীচের খবরটায়ঃ

ভারতীয় অর্থ এবং পরামর্শে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ফুটতে শুরু করে। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট সম্প্রতি প্রকাশ করেছে এ ধরণের একটি প্রতিবেদন।

দুটি প্রতিবেশি দেশের সম্পর্ক কতটা অসম ও অনৈতিকতার উপর দাড়াতে পারে তার লজ্জাজনক উদাহরণ স্থাপন করতে যাচ্ছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। এবং তার সবটাই করছেন মুক্তিযুদ্ধের নামে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে কজন ভারতীয় মনেপ্রাণে স্বীকার করে জানা আছে কি ভারতপ্রেমী নেত্রীর? ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দেনা শোধ করার থাকলে প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ হবে নিজের পকেট হতে দাসত্বের মূল্য শোধ করা। বিলিয়ন ডলার বানিজ্য ঘাটতি, ফারাক্কা অভিশাপ আর সীমান্তে ফেলানিদের লাশ রেখে প্রতিবেশীর দেনা শোধ করার মত তেমন কিছু নেই আমাদের। ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার দেনা শোধ যদি বাকি থাকে তাহলে বলব, কাড়ি কাড়ি অর্থ দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ই তা শোধ করে দিয়েছে সেই ৭১ সালে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১১ দুপুর ১২:১৪
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×