somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১০ টাকা কেজি চাল চাইনা, আপনি 'কুত্তা' সামলান...

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
চালের দর ১০ টাকা। কেজি অথবা সের যে কোন হিসাবেই হোক না কেন, স্তিমিত হয়ে গেছে এ নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা। প্রথমত, বাংলাদেশের কথা বাদ দিলেও এমন একটা দামে চাল বিক্রির অবস্থায় নেই সমসাময়িক বিশ্ব। তেল, গ্যাস, পানি আর গতর খাটুনি এক পাল্লায় দাঁড় করিয়ে কোন ভাবেই ১০ টাকার বাটখারা দিয়ে সমান করা যাবে না হিসাবের দাঁড়িপাল্লা। এমন একটা সমীকরণ শুধু অসম্ভবই নয়, এ অলিক ও অবাস্তব। দ্বিতীয়ত, ১০ টাকায় এক কেজি চাল না হলেও না খেয়ে মরবে না এ দেশের মানুষ। মানুষ এখনো টোটাল হার মানেনি অসত্যের কাছে। মিথ্যা, ধাপ্পাবাজি আর ছলচাতুরীর ফাঁদে বার বার ধরা খেয়ে কিছুটা হলেও তারা বুঝতে শিখেছে সত্য মিথ্যার পার্থক্য। ২৫০ (?) টাকা গো মাংসের বাজারে ১০ টাকা সের চাল, এ শুধু চাল নিয়ে চালবাজি নয়, বরং চাল উৎপাদনে জড়িত খেটে খাওয়া মানুষের জন্যে মৃত্যু ঘোষনার শামিল। শেখ হাসিনা এমন একটা ঘোষনা দিয়েই ভোট বাণিজ্যে লাভবান হয়েছিলেন। নেত্রীর আগাম ঘোষণায় যারা বিশ্বাস করেছিলেন হয় তারা উনার গৃহপালিত ভৃত্য, নয়তো ভিন গ্রহে হতে উড়ে আসা এলিয়ান। হাজারা চেষ্টা করেও নেত্রী চালের দর ওয়াদাবদ্ধ দরের কাছাকাছি আনতে পারবেন এমনটা মনে করার বিশেষ কোন কারণ নেই। অর্থনীতি চলে তার নিজস্ব নিয়মে। তার সাথে যদি যোগ হয় পলিটিক্যাল ক্রাইম এর নিয়ন্ত্রণ শেখ হাসিনা অথবা খালেদা জিয়ার মত অল্প ও স্বশিক্ষিত গৃহবধূদের পক্ষে সম্ভব হওয়ার কথা নয়। তাই চালের বর্তমান দর ১০ টাকা নেই বলে দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে আদালতে দাঁড় করায়নি, অথবা মিথ্যা বলার অভিযোগে আন্দোলনে নামেনি। রাজনীতিতে মিথ্যাচারিতা সর্বস্বীকৃত অপরাধ, এ হতে কেউ মুক্ত নয়। তবে চালের দর নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব না হলেও শেখ হাসিনার পক্ষে যে জিনিসটা নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব ছিল তা হল, উনার ’কুত্তা’দের উন্মাদনা।

মালিকানা প্রকারভেদে বাংলাদেশে দুই প্রকার কুত্তার দেখা পাওয়া যায়। এক, রাস্তাঘাটের বেওয়ারিশ, দুই, গৃহপালিত। ছাত্রলীগ নামের লীগকে উইকিপিডিয়ার কোন সংজ্ঞাতেও বেওয়ারিশ বলা যাবে না, কারণ এর মালিক জীবিত আছেন এবং তিনি আছেন বেশ বহাল তবিয়তে। কুত্তাদের নির্দিষ্ট একটা মাস থাকে যে সময়টায় তারা উন্মাদ হয়ে যায় পাশবিক ইচ্ছা চরিতার্থের লালসায়। প্রধানমন্ত্রীর কুত্তার কাফেলাও তেমনি একটা সময় পার করছে এ মুহুর্তে। তাদের লালসা ভাদ্র মাসের লালসাকেও হার মানিয়ে এমন একটা উচ্চতায় ঠাঁই নিয়েছে যেখান হতে চাইলেই তারা ৫টনের সমগ্র বাংলাদেশকে যখন খুশি ধর্ষণ করতে পারে, দলিত মথিত করতে পারে, ফুটবল খেলতে পারে। এবং তারা তা করছে অতীতের সব রেকর্ড ভংগ করে। লীগের মালকান যদিও বলছেন এ দল বেওয়ারিশ দল, কিন্তু ভুক্তভোগি মাত্রই জানে গৃহপালিত এসব কুত্তাদের উন্মাদনার শক্তি কোথায়।

তারেক আর খাম্বা মামুনদের কারণে না হয় বিদ্যুৎ খাতে ওলাউঠা বিবির রাজত্ব চলছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজ দলের ’কুত্তা’দের বৈশাখ মাসে ভাদ্র মাসের রাজত্বের জন্যে দায়ি করবেন কাকে, ককো, ফালু, বাবর অথবা হারিছ চৌধুরীদের? বিদ্যুতের অভাবে ধান উৎপাদন ব্যহত হয়, যার প্রভাবে প্রতিশ্রুত ১০ টাকা কেজি চাল সরবারহেও আসে বাধা। এ মুহূর্তে জাতি ১০ টাকা কেজি চাল না পেয়ে যতটা না কষ্টে আছে তার চেয়ে ঢেড় কষ্টে আছে প্রধানমন্ত্রীর ’কুত্তা’দের যন্ত্রণায়। জনাবা প্রধানমন্ত্রী, আমরা ১০ টাকা কেজির চাল চাইনা, আপনি ’কুত্তা’ সামলান।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:৪২
১৬টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×