রাজিব বললো, দোস্ত আজকে আমাদের বাসায় যেতে হবে।
কেন ?
আজকে আমাদের ভাইফোঁটা ।
এইটা আবার কি ?
আজকে সব বোনরা ভাইদের কপালে কাজলের ফোঁটা দিবে আর হাতে রাঁখি বাধবে। ভাইয়েরা যাতে সব অমঙ্গল থেকে রক্ষা পায় সে জন্য আমাদের ধর্মে, বোনরা এই দিবসটি পালন করে। দিদি তোকে নিয়ে যেতে বলেছে।
আমি বললাম, দিদিকে কিছু দিতে হবে নাকি ?
নাহঃ, দিদিইতো আমাদেরকে দিবে। তবে সাথীতো আমাদের ছোট তাই সাথী রাঁখি বাধার পর তাকে কিছু দিতে হবে। চিন্তাকরিসনা, দিদি আমাদের যা দিবে আমরা সাথীকে আবার তাই দিয়ে দিবো
কি আর করা, তর সইতে না পেরে জীবনের প্রথম স্কুল পালালাম।
অমঙ্গল থেকে রক্ষাপেয়েছি কিনা জানিনা কিন্তু, জীবনের প্রথম বোনের মমতা অনুভব করলাম, জীবনে দ্বিতীয়বার মনে হয়নি যে আমার আপন বোন নেই।
২.
দিদিকে বললাম, এই বার দূর্গাপূজায় কি করবে?
আমরা সবাই দেশের বাড়িতে যাবো, এইবার প্রতিমার মঞ্চ আমাদের বাড়ির উঠানে হবে। তুইও চলনা আমাদের সাথে ? কলেজতো বন্ধই থাকবে।
দিদির অনুরোধ ফেলতে পারিনি, চলে গেলাম রাজিবদের দেশের বাড়িতে ৭/৮ দিনের জন্য।
সারাদিন ঢাক ঢোলের বিকট শব্দ, সকাল বেলা সারা গ্রামের প্রত্যেক বাড়ি থেকে মহিলারা খাবারের ডালা সাজিয়ে দেবীর সামনে ভোগ দেওয়া, চেংরা পুলাপানের প্রতীমার সামনে নাচানাচি, রাতের বেলা ভাং এর লাড্ডু খেয়ে হাতে ধুঁপবাটি নিয়ে নবীনদের খেমটা নাচ, পাঁঠাবলি ইত্যাদি নিত্য নতুন ব্যাপার নিয়া ভালই কাটছিলো সময়টা।
গোল বাধলো, যখন শুনলাম টানা ৫ দিন নিরামিষ খেতে হবে, এটাই রীতি এবং এর কোন হেরফের হবে না
২য় দিনেই হাপিয়ে উঠেছি। দিদিকে বললাম একটা আমিষের ব্যবস্হা করতে, দিদি এমন ভাবে আমার দিকে তাকালো যে, পারলে বারি মেরে আমার মাথা দ'টুকরো করে দিবে
কিন্তু ৩য় দিন সবাইকে খাবার দেওয়ার আগেই আমাকে স্টোর রুমের এক কোনায় টেনে নিয়ে দিদি বললো, "এই খানে বসে খা, আর খবরদার এই কথা আর কাউকেও বলবি না" । দেখলাম দিদির হাতে মুরগির রান আর কই মাছের বাটি !! আহঃ ! দিদিরা মনে হয় সবই পারে।
(চলবে... অনেক বড়, তাই দু'ই ভাগ করে দিচ্ছি)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



