থ্রী মাস্কেটিয়ারস
আমরা তিনটি নৌকায় প্রায় ত্রিশ পয়ত্রিশ জন একসাথে যাত্রা শুরু করি। প্রতি নৌকায় একজনের কাছে একটা কম্পাস দিয়ে কিভাবে এটা ব্যবহার করতে হয় তা শিখিয়ে দেওয়া হয়, সেই আমাদের লিডার। দালালদের খপ্পরে পরে সর্বস্ব হারিয়ে শুধু আল্লাহর আল্লাহর করতে করতে জানটা হাতে নিয়ে পাঁচবছর আগে ইতালীর উদ্দ্যেশে যাত্রা শুরু করি।
আমাদের নৌকায় আমরা এই তিনজনই ছিলাম বাংলাদেশি, অন্য দু’নৌকায় আরো দশ জনের মত ছিলো, সাথে দুইদিন চলার মত খাবার আর পানি ছিলো। টানা বিশ বাইশ ঘন্টা চলার পর কোন রকমে আমাদের নৌকাটা তীরে পৌঁছুতে পারে, বাকীদু’টা কিছুক্ষণ যাওয়ার পরই ডুবে যায়। চোখের সামনে দেখলাম আমার ভাইয়েরা পানিতে ডুবে যাচ্ছে, কিছুই করার নেই, তখন শুধু নিজেকে বাঁচানোর তাগিদ। জানি সুযোগ পেলেই ডুবন্ত যে কেউ আমাদের নৌকায় উঠতে আপ্রাণ চেষ্টা করবে, সেই সাথে আমাদেরটাও যাবে, তাই একটু ঘুরিয়ে পাশ কেটে চলে যাই। মৃত্যুকে এত কাছ থেকে আর দেখা হয়নি, কিছুই করার ছিলো চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া।
তীরে পৌঁছে বুঝলাম আমরা ইতালী না, এসে পড়েছি দ্বীপদেশ মাল্টায়। এখানে এসেই পুলিশের হাতে ধরা পড়লাম। তবে, তা নিয়ে ভাববার মত অবস্থা তখন ছিলো না, শুধু বেঁচে আছি এটাই জীবনের চরম পাওয়া। বিচারে দুই বছরের জেল হয়ে গেলো আমাদের।
-মাল্টায় ভিজিটে যাওয়া লিবিয়া দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছে এভাবে তুলে ধরেন এই তিন হতভাগা। “তারপর? এখন কেমন আছেন আপনারা?”-জিজ্ঞেস করলেন উনি।
দুই বছর জেল খেটে একসাথে ছাড়া পাই তিনজন। প্রথম দুইদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি, কোন কাজ পাইনি, শুধু পানি খেয়ে ছিলাম। তৃতীয় দিন একটা কন্সট্রাকশন কম্পানিতে কাজ চাইলে আমাদের একজনকে কাজ দিয়ে বলা হয় যদি এই এক জনের কাজ পছন্দ হয় তাহলে কাল থেকে তিন জনকে কাজ দেওয়া হবে। ঐথেকে শুরু। এখন মাসে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় পঞ্চাশ ষাট হাজারের মত রোজগার হয়, দেশে ত্রিশ পয়ত্রিশ হাজার টাকার মত পাঠাতে পারি।
-আপনাদের সব কথাই শুনলাম, আমি নিশ্চিত আপনারা বাংলাদেশি, আমি সাথে সবকিছু নিয়ে এসেছি, আপনারা চাইলে এক্ষণি পাসপোর্ট বানিয়ে দিতে পারি, বললেন দূতাবাসের ঐ কর্মকর্তা।
স্যার, আমরা একটু চিন্তা করে আগামীকাল জানাই?
পরের দিন ফোন করে তাদের একজন ঐ কর্মকর্তাকে বললেন, “স্যার, দেশে গিয়ে এখন কি করবো? এখানে তো ভালোই আছি, দেশে গিয়ে মাসে পাঁচ হাজার টাকা আয় করবো সেই নিশ্চয়তা নেই, থাক; পরিবারের জন্য না হয় এই জীবণটা বিলিয়ে দিলাম”
ওয়ান থাওজেন্ড ফাইভ হানড্রেড মাস্কেটিয়ারস
গতপরশুর খবর। দেড় হাজার বাংলাদেশি পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কাজ নেই, থাকায় জায়গা নেই, অনেকে ভিক্ষা করছে, দিনের পর দিন না খেয়ে আছে। যে প্রজেক্টের এদেরকে আনা হয়েছে বেশিভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় প্রজেক্ট তিন মাসেই শেষ অথবা লোক দরকার একশ, দালারা পাঠিয়ে দিয়েছে এক হাজার। স্বভাবতই একশ জনের চাকরী হয় বাকী হতভাগাদের পথে পথে ঘুরতে হয়।
বাঙ্গালি বীরের জাতি, শত প্রতিকূলতার মাঝেও এরা হাসতে পারে, হাসাতে পারে, এরা হারতে জানে না, আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি ফিনিক্স পাখির সেই মিথের জ্বলন্ত উদাহরন আমার দেশি ভাইয়েরা। যতবার গুড়িয়ে দিবে ততবার ঘুরে দাঁড়াবে এরা! বড় আজব এক জাতি, এমন জাতিকে দাবিয়ে রাখ যায় না, কেউ পারেনি, কেউ পারবেও না, এই দেড় হাজার মাস্কেটিয়ারস আবার ঘুরে দাঁড়াবে, নিজের আত্মসম্মান নিয়ে, নিজের পায়ে, সেই বিশ্বাস আমার আছে।
আমার শুধু একটাই ক্ষোভ মাথা চাড়া দিয়ে উঠে, যে প্রবাসীরা সর্বস্ব বিলিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে, এদেরই কোন আর্থিক নিরাপত্তা নেই! এরাই বারবার প্রতারিত হচ্ছে! শালার কপাল! আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত সব শালা চোর, ভাগের টাকা চলে যায় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ইচ্ছা করে সবগুলারে সমূলে শেষ করে দেই। যাহ! এবার শুন্য থেকে শুরু হোক পথ চলা।
আলোচিত ব্লগ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।