খেলনা বাড়ি- ০১
বড় ভাইয়া এমন ভঙ্গিতে বলেন, ঠেলাগাড়ি এসে গেছে। যেনো এই ঠেলাগাড়ি আসার জন্য একা কেবল আমি দায়ী, যেনো তাঁর কোনো দোষ নেই। তাঁকে জানানো উচিত এখনো আমার ঠেলাগাড়ি এসে পৌঁছেনি। এটা সম্ভবত তাঁর জন্যেই এসেছে। এমন সময় রাজু এসে বলে যায়, এটা আমার ঠেলাগাড়ি। মালামালগুলো কি এখনই তুলে নেব? আমি দীর্ঘশ্বাস চেপে রেখে বলি, হ্যাঁ, তুলে নে। তোর থেকেই শুরু হোক। আমার কথায় রাজু খেপে ওঠে। আমার থেকেই শুরু হবে মানে? এরকম কথা বলছ কেনো, আলাদা হবার দিনটাতেও কি ঝগড়া বাঁধাবে? রাজুর কথার উত্তরে আমাকে আর কিছুই বলতে হয় না। বড় ভাইয়া বলেন, ঝগড়া আর কোনদিন হয়নি শুনি? সারা এলাকার মানুষইতো প্রতিদিনের ঝগড়ার কথা জানে। তোদের বিয়ের পর থেকেই তো এ বাড়িতে আইন আদালত উঠে এসেছে। এবার তো আলাদা হয়ে যাচ্ছি সেই আনন্দেই শেষ ঝগড়াটা হয়ে যাক।
বড় ভাইয়ার কথার উত্তরে আমি কিছু বলতাম হয়তো; কিন্তু এমন সময় সুরমা এসে জানিয়ে যায় আমাদের ঠেলাগাড়িটাও এসে গেছে। এই মুহূর্তে ঝগড়া বাঁধিয়ে লাভ নেই। এমনিতেই এতদিন ধরে আমরা প্রচুর ঝগড়া করেছি, রীতিমতো যুদ্ধে মেতেছি। একজন অন্যজনের ভাই থেকে শত্র“ হয়ে উঠেছি। আজ শেষদিনে না হয় বড় ভাইয়ার কথাই মেনে নিলাম। বড়ভাই হিসেবে অন্তত এতটুকু সম্মান তাঁকে দেখানো যেতে পারে। তাছাড়া হাতেও তেমন সময় নেই। এখনই বেলা এগারোটা বাজে। দিনে দিনে বাসা বদলের ঝক্কিটা চুকে গেলেই বাঁচি।
এখানে এই বাড়িটাতে আমরা এসেছিলাম আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগে। তখন বুঝতে পারিনি বাড়ি ছাড়তে গিয়ে আমরা তিন ভাই আলাদা তিনটে পথ বেছে নেব। এতদিনে বাড়িটার প্রতি একটা মায়া পড়ে গেছে। মায়া পড়ে গেছে ওপরতলার বাড়িওয়ালা চাচার প্রতি, তার স্ত্রীর প্রতি, ছেলের প্রতি। শুধু মায়া কেটে গেছে ভাইয়ে আর ভাইয়ে। এখানে যখন এসেছিলাম তখন বাবা-মা বেঁচে ছিলেন। মা বাড়িটা দেখে কী যে খুশী হয়েছিলেন। এত বড় বাড়ি, কী বিশাল চমৎকার উঠান! সারাটা উঠান জুড়ে গাছগাছালির রাজত্ব। তখন আমাদের কারোই দোলনা চড়ার মতো বয়স অবশিষ্ট ছিল না; তবুও মা উঠানের এক কোণে দড়ি বেঁধে দোলনা ঝুলিয়েছিলেন। প্রতি বিকেলে তিনি বাড়িওয়ালার ছোট ছেলেকে সাথে নিয়ে দোলনায় চেপে বসতেন। এ নিয়ে বাবার কত হাসি। বড় ভাইয়া তখন সবেমাত্র বিয়ে করেছেন। ভাবীর সাথে আমাদের কী মধুর সম্পর্ক! ভাবী বলতেন এমন দু’জন দেবর যার আছে তার আর নিজের ভাইয়ের কোনো প্রয়োজন নেই। সেই ভাবীর সাথে গত এক বছর ধরে কথা বলাটাই বন্ধ। ভাবী আমাদের দেখলে চোখ ফিরিয়ে নেন। ভাগ্যিস এই পর্যায়টাতে এসে বাবা-মা দু’জনের কেউ বেঁচে নেই। তাঁদের ছিল পরম সুখের দাম্পত্য জীবন। একজনের প্রতি অন্যজনের গভীর ভালোবাসা। বাবার মৃত্যুর একবছর না যেতেই সেই ভালোবাসার প্রবল টানে মাও চলে গেছেন। তখন রাজু মাত্র বিয়ে করেছে। এই বাড়িতে আসার পর দু’টো বিয়ে, দু’টো মৃত্যু, তিনটে জন্ম এইসব হিসেব নিলে দশ বছর মাসে দীর্ঘ একটা সময়।
আজকাল

আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প
আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন
একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।