আমি তাকে আপা বলে ডাকতাম এবং সময়ে অসময়ে বসে তার সংঙে গল্প করতাম ।
আমার এবং তার মাঝে বয়সের ব্যাপক ব্যাবধান থাকা সর্ত্তেও সে কেমন করে আমার সৌহার্দে আকৃষ্ট হল তা আমার বোধগম্য নয়।
তার নামটি আমার মনের সিমান্তেই সন্নিবদ্ধ থাক ,তার নামটি প্রকাশ করে তাকে আর ছোট করতে চাই না।
লজিং বাড়ির পাশের এক গেরস্হের বউ আমিনের মা । তাকে আমরা সবাই ভাবী বলে ডাকতাম । হিষ্ঠ পুষ্ঠ মোটা সোটা গোল গাল গড়ন। চওড়া মোটা ভুরুর তলায় শান্তিতে শয়ান আয়ত দুটি চোখ । পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ থাকে যারা অন্য মানুষের সুখে দুঃখে , আপদে বিপদে সবোর্তো ভাবে সাহায্য করে এই আমিনের মা ভাবী তাদেরই একজন ।
দুইদিন আগে পরিক্ষা শেষ হয়েছে । স্কুল বন্ধ তাই দুপুরের ভাত খাওয়ার পর আমার থাকার নির্দিষ্ট স্হানে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। চোখের পাতা ঢুলু ঢুলু নিদ্রাদেবী সবেমাত্র আলিঙন করতে শুরু করেছে । হটাৎ একটু শব্দ হল তাকিয়ে দেখী মিনের মা ভাবী ,আমি বল্লাম এই অসময়ে কি খবর ভাবী, সে স্মিত হেসে দরজার চৌকাঠের উপর বসতে বসতে বল্ল ভালো আছোতো ওস্তাতজী ।
শন্কিত সাবধানী চোখে সে এদিক ওদিক তাকিয়ে নিয়ে আচল থেকে কি একটা বের করল যেন । আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বল্ল এই নাও ,
আমি বল্লাম কি ভাবী সে খুব আস্তে আস্তে বল্ল
তোমার একটি চিডি ওস্তাদজী। চিঠি কে দিয়েছে, অকৃতিম বিস্ময়ে নিঃস্পলক হই আমি । তুমি পড়েই দেখনা পড়লেই বুঝতে পারবে ।
চিঠিটা নিয়ে ততক্ষনে চোখের সামনে মেলে ধরেছি । বাকা বাকা হরফ কিন্তু পরিচ্ছন্ন লেখা, আরো বিস্ময়ের ব্যাপার মেয়েলি হাতের লেখা । আমার সমস্ত শরীর থর থর করে কাপছে , আমি যেন আমার সমস্ত অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছি । কোথায় লুকিয়ে রাখবো এ চিঠি, কেমনে দাড়াঁবো ঐ সৌম্য শান্ত মুর্তির সামনে , কি কথা বলব আমি তাহার সনে ।
হটাৎ ভাবীর ডাকে চেতনা ফিরে পেলাম । আ্যা কি ভাবছো , তুমি কি ম্যায়া মানুষ না বেটা ছাওয়াল কওতো ওস্তাতজি । সে ম্যায়া হয়ে যদি তোমার কাছে ছিডি দিতি পারে আর তুমি পুরুষ ছাওয়াল হয়ে ভয় পাবা
ক্যাঁ ।
চলবে.....
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


