আমার প্রিয় পোস্ট

সব বিষয়ে জানতে ও শিখতে আগ্রহী একজন উদার মনের মানুষ।

লক্ষীর লজ্জা (সত্যি ঘটনা)

২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৩

শেয়ারঃ
0 0 0


আমাদের গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমি তখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। আমাদের ক্লাসে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের যে কয়জন ছাত্রছাত্রী তাদের একজন লক্ষী দাশ। সে লেখাপড়ায়ও ভালো ছিল না। তাই প্রতিদিনই তাকে সহ্য করতে হত শিক্ষকদের বকা, গালি এমনকি শারীরিক শাস্তি। সবকিছুর পরও লক্ষী নিয়মিত স্কুলে আসত। হয়তো সংসারের অভাব-অনটনকে ভুলে থাকতে বা ঘরের হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম থেকে নিজেকে বাঁচাতে।

ঈদ উপলক্ষে স্কুল বন্ধ। ঈদের দিন সকালে আমাদের বাড়ির সামনে ভিখারিদের ছোটখাটো জটলা। ঈদের দিন নিয়মিত ভিখারির পাশাপাশি পার্টটাইম ভিখারিরাও সক্রিয় থাকে, সহজে কিছু দান খয়রাত পাওয়ার আশায়। আমার বড় ভাই এদেরকে জাকাত-ফিতরার টাকা দিতেছিল। পাশে দাঁড়িয়ে আমি তাকে সাহায্য করছিলাম। এভাবে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর একটা ভিখারিকে টাকা দিতে গিয়ে তার মুখের দিকে দেখে আমি হতভম্ব হয়ে চেয়ে রইলাম, সেও একিভাবে আমার দিকে চেয়ে রইল। এভাবে কতক্ষণ কাটলো জানি না। হঠাৎ সে পিছন দিকে ফিরে দৌড় দিল। আমরা ওকে টাকা দেওয়ার সুযোগই পেলাম না। আমি কিছুটা এগিয়ে গিয়ে দেখলাম সে আমাদের গ্রাম ছেড়ে অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। সেই ভিখারি মেয়েটি আর কেউ নয় আমারই সহপাঠিনী লক্ষী দাশ! এধরনের অপ্রত্যাশিত মুহুর্তের জন্য সে মোটেই প্রস্তুত ছিল না। আমি কখনো ভাবতেই পারি নি যে লক্ষী ভিক্ষা করে। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। যাই হোক সিদ্ধান্ত নিলাম লক্ষীর ভিক্ষা করার কথা স্কুলে কাউকে বলবো না। সে এমনিতেই বিরাট লজ্জা পেয়েছে।

ঈদের বন্ধের পর স্কুলে গেলাম। লক্ষীকে দেখলাম না কোথাও। সে আজ স্কুলে আসে নি, পরের দিনও আসে নি, তারপরের দিনেও আসে নি। ... ... ... না, সে আর কখনোও স্কুলে আসে নি। সরকারি স্কুলে ছাত্রছাত্রী স্কুলে আসলে শিক্ষকরা যা বেতন পায়, না আসলেও তাই পায়। সে কারণেই হ্য়তো শিক্ষকরা লক্ষীর খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে নি। লক্ষী হ্য়তো ভেবেছিল ক্লাসে সবাই আমার থেকে জানবে সে ভিক্ষা করে। কেউ ওর সাথে মিশবে না, ঠাট্টা-বিদ্রূপ করবে। এ লজ্জায় স্কুলের সবচেয়ে নিয়মিত ছাত্রী লক্ষী আর কোনদিন স্কুলে আসে নি। ঈদের দিন কাকতালীয়ভাবে ওর সাথে আমার দেখা না হলে হ্য়তো সব অভাব-অনটন সহ্য করে সে আরও কয়েকটি ক্লাস এগিয়ে যেত। আমার কারণে তা আর হল না। বঞ্চিত হল একটি মেয়ে শিক্ষার আলো থেকে। এটা মনে হলে আমার এখনও কষ্ট হ্য়, নিজেকে খুবই অপরাধী মনে হয়।

অভাবের তাড়নায়, বাঁচার তাগিদে একজন ভিখারি হয়েও লক্ষী দাশের যতটুকু লজ্জাবোধ ছিল, আমাদের দেশের দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ-আমলাদের তার বিন্দুমাত্র নেই। এইসব নির্লজ্জ-বেহায়ারা কোটি টাকার মালিক হয়েও দুর্নীতি করে, দুর্নীতির দায়ে শাস্তি পায়, আবার জনতার সামনে আসে, ভোট চাই এবং দেশপ্রেমের কথা বলে।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): লক্ষী ;
প্রকাশ করা হয়েছে: সত্যি ঘটনা  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৭
গেদুচাচার খোলা চিঠি বলেছেন: খাঁটি কথা। আমার মনে হয় রাঝণৈথিক ব্যাক্তিদের লজ্বা-শরম অনেক আগে থাকতেই ভো দৌড়।
২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৫৮

লেখক বলেছেন: আমারও তাই মনে হয়। ধন্যবাদ।

৩. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪৮
অ্যামাটার বলেছেন: নির্মম বাস্তবতা...অজান্তেই ভেতরটা হু হু করে উঠল...
৪. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০১
অগ্নিকন্যা বলেছেন: একজন লক্ষী দাশের কথা বললেন এরকম আর কত লক্ষী দাশের কথা আমরা শুনব? আমাদের কিছুইকি করার নাই? আসেননা সবাই কিছু করার চেস্টা করি!!!!!!!!!!!!!!
৫. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০৮
হাই ৫ হাসান বলেছেন: লক্ষী সত্যিই লক্ষ্মী
৬. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৪
বিপ্লব কান্তি বলেছেন: হৃদয়টা বড় কঠিন হয়ে গেছে, ইট পাথরের শহরের ঘষা লেগে লেগে।

তবে এবার একটু দু:খ লাগল লক্ষী দাশের লজ্জা পাওয়া নিয়ে।
অনেকদিন কাহিনীটি মনে থাকবে।

পেট যে লজ্জা-শরম বুঝে না।

৯. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৫৭
রেজওয়ান শুভ বলেছেন: অ্যামাটার বলেছেন: নির্মম বাস্তবতা...অজান্তেই ভেতরটা হু হু করে উঠল...
১০. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:২৩
দুঃখবিলাস বলেছেন: নামটা এনোনিমাস রাখা উচিত ছিল। বলা যায় না, মেয়েটির পরিচিত এখন কেউ এই লেখা পড়লে হয়ত মেয়েটির সমস্যা হতে পারে। যে কারণে আপনি নিজেকে অপরাধী ভাবছেন, সেই একই দোষে আবারও দুষ্ট হতে পারেন।

যাই হোক, লেখা ভালো ছিল।
১২. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৫২
মনজুরুল হক বলেছেন:

ভাল লিখেছেন। এধরণের লেখা বেশী বেশী করে আসা দরকার। আমরা যে কি জঘণ্য হৃদয়হীন এক সমাজে বাস করে আবার সেই সমাজকে ভালবাসি তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো দরকার।

শুভেচ্ছা নিন।
১৩. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:৪১
জোবাইর বলেছেন: পোস্টটি পড়ে মন্তব্যের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের অনেকের সাথে আমিও মনে করি অন্যান্য লেখার পাশাপাশি এধরনের নির্মম বাস্তবতার কিছু লেখাও ব্লগে আসা দরকার। যা আমাদের ভাবতে শেখাবে, আশেপাশের লক্ষীদের সাহাযার্তে এগিয়ে আসতে প্রেরণা দেবে। আগামীতে আমার চোখের দেখা নির্মম বাস্তবতা থেকে আরও কিছু লেখা পাঠাবার আশা রেখে সবাইকে শুভেচ্ছা দিয়ে আজকের মত বিদায়।
১৪. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৭:২৭
ত্রেয়া বলেছেন: পড়ে আসলেই ভেতরটা একদম হু হু করে উঠল।
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৭:৩১

লেখক বলেছেন: ভালো লাগল আপনার অনুভূতি, ধন্যবাদ।

১৫. ১২ ই আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৩:৫৬
নাসের০১৯ বলেছেন: রাজনীতিবিদ-আমলারা কবে মানুষ হবে?

 

মোট সময় লেগেছে ১.৬০৬৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
বিনয়ী মূর্খ অহংকারী বিদ্বান অপেক্ষা মহত্তর।
Copyright © Zobair
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ