আমরা কোথায় যাচ্ছি? কী আমাদের শেষ গন্তব্য? ইদানিং এ প্রশ্নটা সম্ভবত শুধু আমার নয়, জীবন সংগ্রামে নিরন্তর ছুটে চলা প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের মনে নিত্য দোল খায়। উকিঝুকি মারে। তবু উত্তর মেলে না। এ যেন আজব রাজ্যের আজব শৃঙ্খলে বন্দী নাগরিক আমরা। আমাদের কোন জিজ্ঞাসার উত্তর মিলতে নেই। আমাদের কোন স্বপ্ন পূরণ হবার নয়। আমাদের কোন প্রত্যাশার আলোর মুখ দেখতে নেই....অন্ধকারের চাদরে ঢাকা আমাদের সময়গুলো আরও অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে হতে একদিন অদৃশ্য হয়ে যায়! আর স্বপ্ন দেখে না,,,স্বপ্ন দেখতে পারে না.....আমরা হয়ে যাই এক একজন স্বপ্নহীন মানুষ। চলমান যন্ত্রনির্ভর মৃত মানব। মৃত্যুর পরও যন্ত্রনির্ভরতায় ছুটে চলি। খাই-দাই। খাবারের জন্য বিডিআর শপে লাইন ধরি। মৃত শরীরে বেঁচে থাকতে চাই। এ বেঁচে থাকার লড়াইয়ে আজ সারাদেশটা যেন মৃত্যুপূরী।
এ মৃত্যুপূরীতে প্রতিদিন সভা হয়। সেমিনার জমে। আলোচনায়-ভালোচনায় মাতাল হন আমাদের রাজ-রাজড়ারা। বিদ্যাজাগতিক বিশ্লেষণে বয়ান করা হয় ইতোমধ্যে জীবন-মৃত নাগরিকের ছুরতহালের তরিকা। সারিয়ে তোলার মৃতসঞ্জীবনী সূরা। সে সূরার নেশায় বুদ হয়ে আবারও স্বপ্নেরা মেতে উঠে। জেগে উঠে। তারপর....আবার নিমজ্জিত হয় অন্ধকারে। না পাওয়ার বেদনায় কাতরায়!!
..............................
অথচ এমনটি হবার কথা ছিল না। বরং কথা ছিল সমৃদ্ধির। শুধু অর্থের নয়, জীবনেরও। একার নয়, সকলের। সে সকলের সমৃদ্ধির স্বপ্নে সংঘটিত হয়েছিল ৫২, ৬৯, ৭১। হেসে হেসে প্রাণ দিয়েছিল আমাদের পূর্বসূরী। সে সমৃদ্ধির স্বপ্নেই কৃষক এখনও ঘাম জরায় ফসলের মাঠে। ক্ষেতে-খামারে। বন্যা-খরা-সিডর উপেক্ষা করে আবারও সাজায় মাঠ-বন-জল-পুকুর। সমূদ্র সম ঘাম জরিয়েও মেলে না জীবনের খোজ।
................................................................
এত সব না প্রাপ্তির মধ্যেও তবু আজব রাজ্যের জীবন-মৃত মানুষগুলো নব জীবনের স্বপ্নে বিভোর হয়েছিল আরেকবার এ ভেবে যে দেশটা বুঝি এবার সত্যি সত্যি দুর্নীতিমুক্ত হচ্ছে। ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। ফড়িয়া-কালোবাজারী-ঋণ খেলাপীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তারপর? তারপর আবারও দৃশ্যপট বদলাতে থাকে। সব কিছুই চলে যায় সে পূরণো অথবা নতুন, আরও সংঘটিত শোষকের দখলে। আর জীবন-মৃত হয়ে আমরা নিরন্তর ছুটে চলি এক গন্তব্যহীন পথে......এ আজব রাজ্যের নাগরিকদের যেন মুক্তি নেই....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


